📸 স্মৃতির পাতা 📸
⬅️ পাতা উল্টে যাচ্ছে — ঠিক তোমাদের স্যারের ক্লাসের স্মৃতির মতো ➡️
ঘাগটিয়া চালা জুনিয়র মডেল স্কুল
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
📜 মানপত্র পাঠ 📜
এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬-এর বিদায় উপলক্ষে
প্রিয় স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে; বর্তমানে আমি বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী-তে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। এর পূর্ণরূপ— Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College (ইআইআইএন: ১৪০২৬৩)। কিন্তু যখন তোমাদের দশম শ্রেণিতে জীববিজ্ঞান পড়াতাম—এই টিনের চাল আর আধাপাকা দেয়ালের ক্লাসরুমে—সে এক অন্যরকম অনুভূতি। বিশেষ করে অধ্যায় ১: 'জীবন পাঠ' এবং অধ্যায় ২: 'জীবকোষ ও টিস্যু' পড়ানোর স্মৃতি আমার মনে আজও তরতাজা।
মনে পড়ে, রাত হলেই আমার মোবাইলে তোমাদের প্রশ্ন ভেসে উঠত—"স্যার, মাইটোকন্ড্রিয়া কিভাবে শক্তি তৈরি করে?", "জীবনের বৈজ্ঞানিক নামটা আবার বলবেন?" এই জিজ্ঞাসাগুলোই বলে দিত তোমাদের জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা কত গভীর। স্কুলের নানা সমস্যা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তোমরা কখনো হাল ছাড়োনি। ছেলেগুলো হয়তো একটু কম পড়তে চাইত, কিন্তু কয়েকজনের মেধা ছিল সত্যিই ঈর্ষণীয়। আর মেয়েদের মধ্যে কিছু ছিল একেবারে মুক্তো—তাদের খাতায় আঁকা কোষ ও টিস্যুর চিত্র ছিল নিখুঁত। বাকিরাও কম যাও না; জীববিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয় বুঝে ওঠাটাই বড় অর্জন।
ছেলেদের বলা সেই কথাগুলো এখনো কানে বাজে— "স্যার আরেকদিন আমাদের ক্লাস নিবেন?" বাজে বৈকি! বিশ্বাস করো, তোমাদের সেই আবদার আমি কোনদিন ভুলব না। হয়তো আর ক্লাস নেওয়া হবে না, কিন্তু জীবনের পাঠ তোমরা আমার কাছ থেকে যা পেয়েছ, তা আজীবন কাজে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ প্রদত্ত ইলমই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক পথে জ্ঞান অর্জন করলে তা শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, পুরো জীবনকে আলোকিত করে। আমি কোনো বই লিখিনি, তবে একজন প্রভাষক হিসেবে প্রতিদিন চেষ্টা করি জ্ঞানের আলো ছড়াতে। আর তোমাদের মতো শিক্ষার্থীরাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তোমরাই সেই গর্বিত প্রথম ব্যাচ, যারা ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের নিজস্ব নাম ও ইআইআইএন কোড নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছ। পূর্বের সব শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু তোমরা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছ।
📚 পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য স্যারের কিছু দরকারি পরামর্শ 📚
✅ এখন থেকে যেভাবে প্রস্তুতি নেবে
- রুটিন করে পড়ো: প্রতিদিন ৩টি বিষয়ের রিভিশন দাও। কঠিন বিষয়গুলো সকালে পড়বে।
- বোর্ড প্রশ্ন বিশ্লেষণ: গত ৫ বছরের বোর্ড প্রশ্ন কমপক্ষে ২ বার সমাধান করো।
- লেখার অভ্যাস: শুধু মুখস্থ না করে খাতায় লিখে অনুশীলন করো।
- ঘুম: রাত জাগা বন্ধ করো। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করো।
🍎 এই অল্প সময়ে যেসব খাবার খাবে
- বাদাম ও খেজুর: প্রতিদিন সকালে ২টি খেজুর ও ৫-৬টি কাজুবাদাম/কাঠবাদাম। মস্তিষ্কের জন্য দারুণ।
- ডিম ও দুধ: প্রতিদিন ১টি ডিম ও ১ গ্লাস দুধ। প্রোটিন মনোযোগ বাড়ায়।
- শাকসবজি ও ফল: কলা, আপেল, শসা। পেট ঠান্ডা রাখবে।
- পর্যাপ্ত পানি: দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করবে।
- বর্জনীয়: তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চা/কফি এখন এড়িয়ে চলো।
🏫 পরীক্ষার হলে গিয়ে যা করবে
- প্রথম ৫ মিনিট: গভীর শ্বাস নাও। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পুরোটা ভালো করে ২ বার পড়ো। যে প্রশ্নগুলো সহজ মনে হবে সেগুলো দাগিয়ে রাখো।
- সময় ভাগ: কোন প্রশ্নের জন্য কত সময় রাখবে তা শুরুতে একটি কাঁচা কাগজে লিখে ফেলো।
- উত্তর লেখার কৌশল: হাতের লেখা পরিষ্কার রাখো। প্রয়োজনীয় চিত্র আঁকতে ভুলো না। মার্জিন টেনে লিখবে।
- প্যানিক নয়: কোনো প্রশ্ন কঠিন মনে হলে ঘাবড়াবে না। সেটি পরে আসবে, আগে সহজ প্রশ্নগুলো শেষ করো।
- রিভিশন: উত্তর শেষ করে ১০-১৫ মিনিট আগে পুরো খাতা একবার চোখ বুলিয়ে নেবে।
“সুস্থ দেহ, স্থির মন আর পরিকল্পিত প্রস্তুতি— এই তিন মিলেমিশে তৈরি করে একটি উজ্জ্বল রেজাল্ট।”
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষায় তোমাদের কলম যেন হয় আলোকবর্তিকা। মনে রেখো, এই টিনশেডের ক্লাসরুম, বৃষ্টির দিনে টিনের চালে ফোঁটা পড়ার শব্দ, আর আমাদের সেই মোবাইলে করা প্রশ্নোত্তর—সবই যেন তোমাদের পেছনে অদৃশ্য শক্তি হিসেবে থাকে।
একটি শেষ অনুরোধ— বই পড়ার অভ্যাস কখনো ছেড়ো না। "একটি ভালো বই হয়তো পুরো জীবনটাই বদলে দিতে পারে।" জ্ঞান বিতরণ করলে তা কখনো কমে না, বরং বাড়ে। আল্লাহ তোমাদের সবাইকে সুস্বাস্থ্য, স্থিরতা ও সফলতা দান করুন।
তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক
(জীববিজ্ঞান, দশম শ্রেণি — অধ্যায় ১ ও ২)
প্রভাষক, বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী
(Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College)
ইআইআইএন: ১৪০২৬৩
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
📸 স্মৃতির পাতা 📸
⬅️ পাতা উল্টে যাচ্ছে — ঠিক তোমাদের স্যারের ক্লাসের স্মৃতির মতো ➡️
ঘাগটিয়া চালা জুনিয়র মডেল স্কুল
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
📜 মানপত্র পাঠ 📜
এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬-এর বিদায় উপলক্ষে
প্রিয় স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে; বর্তমানে আমি বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী-তে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। এর পূর্ণরূপ— Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College (ইআইআইএন: ১৪০২৬৩)। কিন্তু যখন তোমাদের নবম শ্রেণিতে জীববিজ্ঞান পড়াতাম—এই টিনের চাল আর আধাপাকা দেয়ালের ক্লাসরুমে—সে এক অন্যরকম অনুভূতি। বিশেষ করে অধ্যায় ১: 'জীবন পাঠ' এবং অধ্যায় ২: 'জীবকোষ ও টিস্যু' পড়ানোর স্মৃতি আমার মনে আজও তরতাজা।
মনে পড়ে, রাত হলেই আমার মোবাইলে তোমাদের প্রশ্ন ভেসে উঠত—"স্যার, মাইটোকন্ড্রিয়া কিভাবে শক্তি তৈরি করে?", "কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নামটা আবার বলবেন?" এই জিজ্ঞাসাগুলোই বলে দিত তোমাদের জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা কত গভীর। স্কুলের নানা সমস্যা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তোমরা কখনো হাল ছাড়োনি। ছেলেগুলো হয়তো একটু কম পড়তে চাইত, কিন্তু কয়েকজনের মেধা ছিল সত্যিই ঈর্ষণীয়। আর মেয়েদের মধ্যে কিছু ছিল একেবারে মুক্তো—তাদের খাতায় আঁকা কোষ ও টিস্যুর চিত্র ছিল নিখুঁত। বাকিরাও কম যাও না; জীববিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয় বুঝে ওঠাটাই বড় অর্জন।
ছেলেদের বলা সেই কথাগুলো এখনো কানে বাজে— "স্যার আরেকদিন আমাদের ক্লাস নিবেন?" বাজে বৈকি! বিশ্বাস করো, তোমাদের সেই আবদার আমি কোনদিন ভুলব না। হয়তো আর ক্লাস নেওয়া হবে না, কিন্তু জীবনের পাঠ তোমরা আমার কাছ থেকে যা পেয়েছ, তা আজীবন কাজে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ প্রদত্ত ইলমই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক পথে জ্ঞান অর্জন করলে তা শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, পুরো জীবনকে আলোকিত করে। আমি কোনো বই লিখিনি, তবে একজন প্রভাষক হিসেবে প্রতিদিন চেষ্টা করি জ্ঞানের আলো ছড়াতে। আর তোমাদের মতো শিক্ষার্থীরাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তোমরাই সেই গর্বিত প্রথম ব্যাচ, যারা ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের নিজস্ব নাম ও ইআইআইএন কোড নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছ। পূর্বের সব শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু তোমরা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছ। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষায় তোমাদের কলম যেন হয় আলোকবর্তিকা। মনে রেখো, এই টিনশেডের ক্লাসরুম, বৃষ্টির দিনে টিনের চালে ফোঁটা পড়ার শব্দ, আর আমাদের সেই মোবাইলে করা প্রশ্নোত্তর—সবই যেন তোমাদের পেছনে অদৃশ্য শক্তি হিসেবে থাকে।
একটি শেষ অনুরোধ— বই পড়ার অভ্যাস কখনো ছেড়ো না। "একটি ভালো বই হয়তো পুরো জীবনটাই বদলে দিতে পারে।" জ্ঞান বিতরণ করলে তা কখনো কমে না, বরং বাড়ে। আল্লাহ তোমাদের সবাইকে সফলতা ও উত্তম জ্ঞান দান করুন।
তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক
(জীববিজ্ঞান, নবম শ্রেণি — অধ্যায় ১ ও ২)
প্রভাষক, বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী
(Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College)
ইআইআইএন: ১৪০২৬৩
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
১। বিদ্যালয়কে বিদায়ী মানপত্র
২ মানপত্র
একটি টিনশেডের নিচেই ছিল আমাদের রাজপ্রাসাদ
৩ বিদ্যালয়কে বিদায়ী মানপত্র
পাঠক: দশম শ্রেণির বিদায়ী শিক্ষার্থী (এসএসসি ব্যাচ–২০২৬)
স্থান: ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
তারিখ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬
আমার প্রিয় ঘাগটিয়া চালা স্কুল, প্রিয় স্যার-আপারা এবং আমার ছোট ভাই-বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।
আজ মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে বুকটা ভারী হয়ে আসছে। কারণ আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের হলেও, বিদায়ের কষ্টে ভরা। আর কয়েকদিন পর, ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত আমরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে চলে যাব। তাই হয়তো আজই শেষবারের মতো তোমাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি।
প্রিয় স্যার, এই স্কুলের কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমাদের সেই লাল টিনের চালা আর আধাপাকা ভবনটা। বাইরে থেকে কেউ দেখলে হয়তো ভাববে—এটা খুব সাধারণ একটা স্কুল। কিন্তু আমরা জানি, এই টিনের চালার নিচেই আমাদের স্বপ্ন, আমাদের শৈশব, আমাদের ভালোবাসা গড়ে উঠেছে।
আমাদের মনে আছে, ছোট্টবেলায় যখন প্রথম স্কুলে এসেছিলাম, মায়ের হাত ছেড়ে এই সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলাম। তখন আপনারাই আমাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন—“এটাই তোমাদের নতুন ঘর।” সত্যিই, এই দশ বছরে এই স্কুলটাই আমাদের দ্বিতীয় ঘর হয়ে গেছে।
গরমের দিনে টিনের নিচে বসে ঘেমে পড়েছি, বর্ষায় খাতায় পানির ফোঁটা পড়েছে—তবুও আমরা হাসিমুখে ক্লাস করেছি। কারণ আমরা জানতাম, আমাদের পাশে আছেন আমাদের স্নেহের স্যার-আপারা।
ছোটবেলায় ভাবতাম, বড় স্কুল মানেই বড় দালান। কিন্তু আজ বুঝেছি—স্কুল বড় হয় ভালোবাসায়, আদর্শে আর শিক্ষায়। আর সেই ভালোবাসার কোনো অভাব আমাদের এই স্কুলে কখনো ছিল না।
স্যার-আপারা, আমরা আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা শুধু বইয়ের পড়া শেখাননি, শিখিয়েছেন জীবনকে কিভাবে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হয়। কষ্টের মধ্যেও কিভাবে এগিয়ে যেতে হয়, সেটাও আপনারাই শিখিয়েছেন।
আজ আমরা বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু মন পড়ে থাকবে এই স্কুলের প্রতিটি কোণে—এই বারান্দা, এই উঠান, এই টিনের চালা—সবকিছুতেই জড়িয়ে আছে আমাদের স্মৃতি।
আমার ছোট ভাই-বোনেরা, তোমাদের কাছে একটি কথা বলি—এই স্কুলকে ভালোবাসো, এর যত্ন নিও। মনে রেখো, স্বপ্ন বড় জায়গায় বসে দেখলেই বড় হয় না—স্বপ্ন বড় হয় পরিশ্রম আর বিশ্বাসে।
স্যার, আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারি এবং এই স্কুলের নাম উজ্জ্বল করতে পারি। আমরা যেখানেই থাকি, গর্ব করে বলব—
“আমি ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের একজন শিক্ষার্থী।”
সবশেষে বলি—
ভালো থাকুক আমার প্রিয় স্কুল,
ভালো থাকুক আমার প্রিয় স্যার-আপারা,
ভালো থাকুক আমার এই স্মৃতিমাখা টিনের চালা।
আসসালামু আলাইকুম।
—তোমাদেরই একজন বিদায়ী শিক্ষার্থী
এসএসসি ব্যাচ–২০২৬
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
🌸 বিদায় সম্ভাষণ 🌸
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ : ২১ এপ্রিল — ২০ মে
প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬,
যে টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সুর, যে আধাপাকা ভবনের দেয়ালে তোমাদের হাতের ছাপ আজও জেগে আছে—সেই ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল আজ তোমাদের বিদায় জানাতে পেরে গর্বিত। ছোট্ট থলি কাঁধে প্রথম যেদিন এখানে এসেছিলে, তখন থেকেই এই মাটির উঠোন তোমাদের আগলে রেখেছে। নিচের দিকে টিনশেড, উপরে কিছু পাকা ছোঁয়া—এই সরল পরিবেশেই তোমরা শিখেছ জীবনের প্রথম পাঠ।
আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে তোমাদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এই পরীক্ষা শুধু খাতায় লেখা উত্তরের সমষ্টি নয়; এটা তোমাদের অদম্য মনোবলের প্রমাণপত্র। এই আধাপাকা বিদ্যালয়ের টিনের চাল ফুঁড়ে যে রোদ এসে পড়ত তোমাদের খাতায়, সেই আলোই তোমাদের ভবিষ্যৎকে আলোকিত করবে।
যেখানে কাদামাখা পায়ে প্রথম ‘অ’ আঁকা—
সেই আঙিনা আজ বিদায়ের সুরে ভারী,
তবু তোমাদের উড়ানের জন্য দোয়া করে বারবার।”
১৪ এপ্রিল—এই দিনটি আমাদের কাছে বিদায়ের নয়, বরং নতুন সূর্যোদয়ের ক্ষণ। আমরা দেখেছি কীভাবে ভাঙা বেঞ্চে বসে গণিতের জটিল অঙ্ক করেছ, বারান্দায় দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করেছ ইংরেজি কবিতা। এই টিনশেডের ফাঁক গলে আসা বাতাসে মিশে আছে তোমাদের কলকাকলি। যদিও আমাদের ভবন পুরোপুরি পাকা নয়; কিন্তু তোমাদের ভিত আমরা পাকা করেছি—মানবিকতা, সততা আর অদম্য চেষ্টার ভিত।
সামনের পরীক্ষায় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর হবে তোমাদের জীবনের স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়। যেখানেই যাও, মনে রেখো—ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের টিনের চালার সেই মিষ্টি সুর যেন তোমাদের পথ চেনায়। আমরা অপেক্ষায় থাকব তোমাদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য।
তোমাদের জন্য রইল অশেষ শুভেচ্ছা ও আর্শীবাদ। জয় হোক মানবতার, জয় হোক শিক্ষার।
স্থান : ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল প্রাঙ্গণ।
— ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল পরিবার —













