কাপাসিয়া, গাজীপুর — ১৮ জুন ২০২৬ — ধর্মবিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ-ভাবনার এক অনুপ্রেরণামূলক সম্মিলন ঘটিয়ে শিক্ষাবিদ ও লেখক তৌফিক সুলতান তাঁর প্রথম পুত্রসন্তানের আকিকা উপলক্ষে ৭৭ দিনব্যাপী এক গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু করেছেন। ‘একটি শিশু—একটি গাছ’ প্রতিপাদ্যে আবর্তিত এই উদ্যোগে নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে যেকোনো ব্যক্তি বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। বাড়িতে রোপণকারীদের জন্য কেবল একটি সদকামূলক শর্ত প্রযোজ্য: ভবিষ্যতে প্রাপ্ত ফসলের অর্ধেক মাদ্রাসায় দান করতে হবে।
শিশুটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক। তিনি ২০২৬ সালের ৯ জুন, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে (হিজরি ২২ জিলহজ ১৪৪৭) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থানের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ২৪°০৭'১৭.৫" উত্তর, ৯০°৩৪'০৫.৬" পূর্ব এবং ভূমিষ্ঠকালীন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি মো. তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান) ও তৌফিকা সুলতানা ঋতু দম্পতির প্রথম সন্তান। এক আবেগঘন ঘোষণাপত্রে পিতা বলেন, “আমি এ শিশুকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছি, দীন ও মিল্লাতের খেদমতে উৎসর্গ করেছি।” তিনি ‘রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন’—হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এক সৎপুত্র দান করো—এই দোয়ার পুনরাবৃত্তি করে সন্তানকে ধর্মের একনিষ্ঠ সেবকে পরিণত হওয়ার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
🌱 আনুষ্ঠানিক আকিকা ও দোয়া মাহফিল: ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার দুপুরে নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীতে পারিবারিক বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বর্জ্জাপুর ঈদগাহ মাঠের ইমাম সাইফুল্লাহ তারেকী দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং নবজাতকের দীর্ঘ নেক হায়াত, সুস্বাস্থ্য ও নেককার জীবন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল, নরোত্তমপুর মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা (চুরার টেক মাদ্রাসা), ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমি এবং ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়স্বজন ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
উদযাপনের সূচনা হয়েছিল আরও তিন দিন আগে, ১২ জুন। ওই দিন কাপাসিয়ার নয়টিরও বেশি মসজিদ এবং নরোত্তমপুর, বারিষাব ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। প্রতিটি মসজিদের খতিবের কাছে আকিকা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিবরণসংবলিত আনুষ্ঠানিক পত্র পৌঁছে দেওয়া হয় এবং দোয়ার আবেদন জানানো হয়—পুরো সমাজের আধ্যাত্মিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এটি ছিল এক সুচিন্তিত প্রয়াস।
“যদি কিয়ামত সংঘটিত হয় আর তোমাদের কারও হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।”
— প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ
তবে আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল এর পরিবেশগত ও সদকামুখী মাত্রা। এক শতাধিক বৃক্ষচারা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি চারার গায়ে সংযুক্ত ছিল কুরআনের আয়াত ও হাদিসে খোদিত ছোট্ট নামফলক। একটি ফলকে উজ্জ্বল হয়ে ছিল উপরের হাদিসটি, আরও সাতটি নকশার নামকার্ডে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত স্থান পায়। খাবার শেষে অতিথিরা মসজিদ, মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণের জন্য আগ্রহভরে চারা নিয়ে যান। স্মৃতি ধরে রাখতে ছিল বিশেষ ফটো জোনের ব্যবস্থাও।
এখন এ উদ্যোগ এক দিনের গণ্ডি পেরিয়ে বিস্তৃত পরিসরে রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে ৭৭ দিনব্যাপী গণচারা বিতরণ কর্মসূচি। আগ্রহী যে কেউ হাউস অব আল তৌফিকী থেকে বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন:
📍 চারা সংগ্রহস্থল
বাড়ি নং ৪০৫, তৌফিক সুলতানের বাসভবন
১০৩/৭৭ আল তৌফিকী পরিবার রোড, নরোত্তমপুর
বারিষাব-১৭৪৩, কাপাসিয়া, গাজীপুর
(নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীত পাশে)
🗺️ গুগল ম্যাপ স্থানাঙ্ক:
২৪.১৭৪৪৫১৩° উত্তর, ৯০.৬৫৬৮৪২৮° পূর্ব
(ডিএমএস: ২৪°১০'২৮.০" উত্তর, ৯০°৩৯'২৪.৬" পূর্ব)
বিকল্প: ২৪.১৭৪৪৬০২, ৯০.৬৫৬৮৪৬২
📍 গুগল ম্যাপে দেখুন
রাস্তার পাশে, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও অন্যান্য গণপ্রতিষ্ঠানে চারা কোনো শর্ত ছাড়াই রোপণ করা যাবে। যাঁরা নিজ বাড়িতে চারা লাগাতে চান, তাঁদের কেবল একটি সদকার শর্ত মানতে হবে: গাছ থেকে প্রাপ্ত সকল ফল, কাঠ বা অন্য কোনো উপকারিতার অর্ধেক নিয়মিতভাবে একটি মাদ্রাসায় দান করতে হবে; বাকি অর্ধেক পরিবার ভোগ করতে পারবেন। আয়োজক পরিবার এ উদ্যোগের প্রাণস্পন্দনকে ব্যক্ত করেছে এভাবে: “একটি গাছ শুধু প্রকৃতির লালন করে না—একটি শিশুর আমলনামায় সদকায়ে জারিয়া হয়ে কল্যাণের নিরবচ্ছিন্ন ধারা বয়ে নিয়ে যায়।”
🌿 “যে ব্যক্তি একটি গাছ রোপণ করে, তার প্রতিটি ফল সাদাকা হিসেবে গণ্য হয়।”
📖 “যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উদাহরণ একটি দানার মতো…” (সূরা বাকারা ২৬১)
🤲 “রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন”
হে আমার প্রতিপালক, আমাকে সৎ সন্তান দান করো
এ কর্মসূচি ইতোমধ্যে কাপাসিয়ার বাইরেও সাড়া জাগিয়েছে। কবি সালমান হাবীব, মুরসালিন, মুসাদ আকন্দ, লতিফুর রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আয়ূবী আকিকা অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ই-মেইল ও ফোনে আন্তরিক দোয়া ও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন। মাননীয় সংসদ সদস্য পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিকের জন্মকে সম্মান জানাতে ‘হাউস অব আল তৌফিকী’ একান্ত পারিবারিক এক মাইলফলককে রূপ দিয়েছে টেকসই পরিবেশ ও সমাজকল্যাণের ধারাবাহিক আয়োজনে। আগামী ৭৭ দিন এই জীবন্ত সদকার কর্মসূচি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকল।