উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

নির্ঘুম কালরাত্রির অংশবিশেষ অপ্রকাশিত উপন্যাস — তৌফিক সুলতান

নির্ঘুম কালরাত্রির অংশবিশেষ অপ্রকাশিত উপন্যাস — তৌফিক সুলতান

কালরাত্রি - তৌফিক সুলতান
কালরাত্রি - প্রচ্ছদ প্রতীক
নির্ঘুম কালরাত্রি
অপ্রকাশিত উপন্যাসের অংশবিশেষ — তৌফিক সুলতান
নির্জন অন্তরের গহ্বরে অবিরাম রক্তস্রাব ঘটিতেছে। সেই ক্ষতস্থান রুদ্ধ করিতে উদ্যোগী হইলে ব্যথার তীব্রতা সহস্রগুণ বর্ধিত হয়, সঙ্গে রক্তপ্রবাহের বেগও ত্বরান্বিত হয়। যাহার অন্তঃস্থলে এই বিষাদের অনুভূতি ঘটে, কেবল তাহারই অন্তরাত্মা তাহা অনুধাবন করিতে সমর্থ হয়।

এই নিঃশব্দ নির্যাতন মূলত ঘটিয়া থাকে যখন পিতৃদেব দ্বিতীয়বার দাম্পত্যসূত্রে আবদ্ধ হইয়া তৃতীয় সংসারের স্থাপত্য রচনা করেন, মাতৃদেবীও অন্যত্র কোনো নব্য সংসারে প্রতিষ্ঠিত হন। ফলে সন্তান অকস্মাৎ নিঃস্ব, নিরাশ্রয় ও অনাথতুল্য হইয়া পড়ে—যাহা সাধারণ জনের দৃষ্টিতে অদৃশ্য থাকে।

রাত দেড়টা বাজিয়া গিয়াছে। জানালার গ্রিল বেয়ে চাঁদের আলো ঘরে ঢুকিয়া সুচিত্রের বুকে জমা হইতেছে। ঘুম আসে না। ঘুম কখনোই আসে না। হৃৎপিণ্ডের অভ্যন্তরে যেন কোনো জীর্ণ পায়সা অবিরাম ছুরিকাঘাত করিতেছে। সেই ক্ষতের নাম কষ্ট—অথচ এই ক্ষতের গভীরতা মাপিবার মতো কোনো যন্ত্র মানবসভ্যতা এখনো আবিষ্কার করিতে পারে নাই।

সুচিত্র বিছানায় পাশ ফিরিয়া নিকিতার দিকে তাকায়। নিকিতা নিদ্রামগ্ন। তাহার শ্বাসপ্রশ্বাসের নিয়মিত লয় দেখিয়া সুচিত্রের ভিতর একটা অমানুষিক ঈর্ষা জাগে—যে মানুষটি নিশ্চিন্তে ঘুমাইতে পারে, সে কি সত্যিই বাঁচে? না বাঁচার নামান্তর মাত্র?

“শোনো, নিকিতা,” সুচিত্র ফিসফিস করিয়া উঠে। কণ্ঠস্বর কর্কশ, যেন কাঁচের ওপর ইট ঘর্ষণ করিতেছে। “তোমাকে কিছু বলিবার আছে। নইলে আমার বুকের ভিতর এই আগুন আমাকে ভস্মীভূত করিয়া ফেলিবে।”

নিকিতার চোখ খুলে যায়। সে ক্লান্ত দৃষ্টিতে সুচিত্রের দিকে তাকায়। “আবার রাত জাগিয়া বিষণ্ণতার গান গাহিবে?”

“বিষণ্ণতা নয়,” সুচিত্র কঠিন কণ্ঠে বলে, “অস্তিত্বের এক অদ্ভুত চিৎকার। যখন পিতৃদেব দ্বিতীয়বার দাম্পত্যসূত্রে আবদ্ধ হইয়া তৃতীয় সংসারের স্থাপত্য রচনা করিলেন, আর মাতৃদেবীও অন্যত্র নব্য সংসারে প্রতিষ্ঠিতা হইলেন—তখন সন্তান কী হয় জানো? অকস্মাৎ নিঃস্ব, নিরাশ্রয়, অনাথতুল্য। কিন্তু সেই অনাথত্ব কেহ দেখে না। কারণ সমাজের চোখে তুমি বাবা-মা-সম্পন্নই। অথচ অন্তরাত্মা জানে—তুমি এক শ্মশানে দাঁড়াইয়া আছ, যেখানে কেহ মরেও নাই, কেহ বাঁচেও নাই।”

নিকিতা চুপ করিয়া শোনে। সুচিত্রের চোখে জল নাই। কান্না বহুকাল আগে শুকাইয়া গিয়াছে। এখন কেবল জ্বালা।

“আমার বয়স যখন সাত,” সুচিত্র বলে, “সুচিত্রার বয়স চার। আমাদের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। তারপর বাবা জোয়ারি লম্পট, মা মহৎ কিন্তু সন্তানের বিষয়ে উদাসীন। আমাদের আগলে রেখেছিল মাই—সেই একা। কিন্তু মাইয়ের বুকের দুধে কি বাবার বিশ্বাসঘাতকতা ধোয়া যায়? চাচা, দাদা, সবাই ঠকাইয়াছে। ঠকাইবার জন্য আলাদা আলাদা কৌশল। কাহারও ছল, কাহারও প্রেম, কাহারও অর্থের লোভ।”

সে থামে। নিশ্বাস ভারী হয়।

“এই যে আমি আজ এই বিছানায় শুইয়া আছি—আমার ভিতরে একটা বালক চিৎকার করে। সাত বছরের সেই বালক, যে দেখিয়াছে তাহার পৃথিবী টুকরো টুকরো হইয়া যাইতেছে। আর সেই টুকরোগুলো কেহ জোড়া দেয় নাই। দিবেও না।”

নিকিতা ধীরে হাত বাড়াইয়া সুচিত্রের হাত চাপা ধরে। কিন্তু সুচিত্র টান দিয়া হাত সরায়।

“স্পর্শের প্রতিকার নাই,” সে কঠোর কণ্ঠে বলে, “আমার বুকের ভিতর যে ক্ষত, তাহা রক্তস্রাব করিতেছে। সেই রক্তের বেগ ত্বরান্বিত, আর তাহা রুদ্ধ করিতে উদ্যোগী হইলে ব্যথার তীব্রতা সহস্রগুণ বর্ধিত হয়। এই নিঃশব্দ নির্যাতনের নাম কালরাত্রি। আর এই কালরাত্রির শেষ হয় না। কারণ যে মানুষ তোমার হওয়ার কথা ছিল, তারা যখন তোমাকে ‘তোমার’ বলে দাবি না করে—তখন তুমি চিরকালের জন্য এক ভূতুড়ে শহরের পথিক হইয়া যাও।”

সুচিত্র আবার চাঁদের দিকে তাকায়। রাত এখনও ঘন, অন্ধকার আরও গভীর। এবং ‘কালরাত্রি’র এই অধ্যায় এখানেই থামে না—থামে সেই ভয়ে, যেখানে গল্প এখনো অপ্রকাশিত, ক্ষত এখনো সবুজ, আর কষ্ট এখনো কথার বাইরে।

⚫ ক্রমশ... ⚫
নির্ঘুম কালরাত্রির অংশবিশেষ অপ্রকাশিত উপন্যাস
— তৌফিক সুলতান




Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

বৃষ্টি হয়ে দিও ছুঁয়ে

বৃষ্টি হয়ে দিও ছুঁয়ে

 

প্রথম অধ্যায়: হারিয়ে যাওয়া স্পর্শ

এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায়, নীহারিকা জানালার পাশে বসে, অতীতের স্মৃতিতে ডুবে আছে। পাশে পড়ে থাকা চিঠিটি তার হারিয়ে যাওয়া স্পর্শের স্মারক।


নীহারিকার চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসা শহরের আলো, একপাশে নরম কুয়াশা মাখা সন্ধ্যা। জানালার পাশে বসে সে একমনে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা যেন তার ভেতরের অতীতের স্মৃতিকে ধুয়ে আনছে।

আরাফ একসময় বলেছিল, "তুমি যদি কখনো হারিয়ে যাও, আমি বৃষ্টি হয়ে তোমাকে ছুঁয়ে যাব।" কথাটা তখন হাসির খোরাক ছিল, কিন্তু আজ বৃষ্টির প্রতিটি স্পর্শে যেন সেই কথা মিথ্যে প্রমাণিত হচ্ছে না।

দ্বিতীয় অধ্যায়: স্মৃতির পথ ধরে

নীহারিকা আর আরাফের পরিচয়টা হয়েছিল হুট করে, এক সন্ধ্যায়। কলেজের লাইব্রেরির করিডোরে আরাফ হঠাৎ করেই বলেছিল, "বৃষ্টি পছন্দ করো?" নীহারিকা অবাক হয়েছিল, কারণ তার হাতে তখনো ভিজে থাকা একটা বই ছিল, নাম—"বৃষ্টি বিলাস"।

এই ছোট্ট প্রশ্নের মাধ্যমেই দু'জনের জীবনে শুরু হয়েছিল নতুন এক অধ্যায়। আরাফ ছিল একজন মুক্তচিন্তার মানুষ, যে বিশ্বাস করতো ভালোবাসা মানে মুক্তি, বন্ধন নয়। আর নীহারিকা? সে ছিল ভালোবাসার একান্ত খোঁজে থাকা এক পথিক।

তৃতীয় অধ্যায়: হারানোর গল্প

সময়ের পরিক্রমায়, জীবন তাদের একসাথে থাকতে দেয়নি। কঠোর বাস্তবতা, পরিবার, সমাজের চাপ—সব মিলিয়ে তারা আলাদা হয়ে যায়। নীহারিকা ভেবেছিল, সময় সবকিছু ভুলিয়ে দেবে। কিন্তু আজ এত বছর পর, বৃষ্টি নামলে এখনো তার মনে হয়, যেন কেউ তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

চতুর্থ অধ্যায়: ফিরে আসার সম্ভাবনা

এক সন্ধ্যায় হুট করেই একটা চিঠি আসে নীহারিকার ঠিকানায়। সেখানে লেখা, "আমি প্রতিটি বৃষ্টির মাঝে ছিলাম, আছি। তুমি কি একবার ফিরে তাকাবে?—আরাফ।"

নীহারিকার বুক ধক করে ওঠে। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখে, বৃষ্টি নামছে। এবার কি সে সত্যিই তাকে ছুঁয়ে যাবে?

পঞ্চম অধ্যায়: পুনর্মিলন

বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় নীহারিকা কাঁপতে থাকা হাতে চিঠিটা ধরে রাখে। এত বছর পরও এই কালি আর কাগজ যেন তার হৃদয়ের গভীরে না বলা কোনো অনুভূতি উসকে দেয়।

সন্ধ্যার ম্লান আলোয় সে পুরনো দিনের কথা ভাবতে থাকে। তাদের হাসি, ভালোবাসা, ঝগড়া—সবই কি এতটা বছর পরও টিকে আছে? না কি এ শুধু এক মায়ার প্রতিচ্ছবি?

পরদিন সকালে নীহারিকা সিদ্ধান্ত নেয়, সে আরাফের সঙ্গে দেখা করবে। হয়তো এই বৃষ্টি এবার সত্যিই তাকে ছুঁয়ে যাবে, হয়তো সময়ের ব্যবধান মুছে যাবে এক বিন্দু বৃষ্টির ছোঁয়ায়।

ষষ্ঠ অধ্যায়: পুনরায় দেখা

নীহারিকা নির্ধারিত জায়গায় এসে দাঁড়ায়। চারপাশে ছাতা হাতে ব্যস্ত মানুষগুলো ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু তার চোখ খুঁজছে শুধু এক মুখ—আরাফ।

হঠাৎ করে এক পরিচিত কণ্ঠস্বর, "তুমি আসবে জানতাম।" নীহারিকা ফিরে তাকায়, আরাফ দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই হাসিটা মুখে, যেটা একসময় তার পৃথিবী ছিল।

সপ্তম অধ্যায়: অতীতের ছোঁয়া

দুইজন মুখোমুখি বসে, দীর্ঘশ্বাসের ফাঁকে ফাঁকে হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরে আসে। আরাফ বলে, "এই শহর, এই বৃষ্টি—সব কেমন যেন আমাদের অপেক্ষায় ছিল।"

নীহারিকা হেসে বলে, "বৃষ্টি তো কখনো প্রতারণা করে না, তাই না?"

আরাফের চোখে ভাসে পুরনো স্মৃতি। সে হাত বাড়িয়ে দেয়, নীহারিকা তার হাতে হাত রাখে। মনে হয়, হারানো সময় যেন আবার ফিরে আসছে।

অষ্টম অধ্যায়: নতুন শুরু

বৃষ্টি তখনো পড়ছে। কিন্তু আজ তার মাঝে কষ্ট নেই, আছে এক নতুন স্বপ্নের শুরু।

(সমাপ্ত)