লেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
লেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

জাহাজ ভাঙা শিল্প সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই উন্নয়নের পথ

জাহাজ ভাঙা শিল্প সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই উন্নয়নের পথ

🚢 জাহাজ ভাঙা শিল্প

সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই উন্নয়নের পথ

ক্যাডেট মো. শাকিব আহমেদ
ক্যাডেট মো: শাকিব আহমেদ
মেরিন ফিশারিজ একাডেমি, চট্টগ্রাম
জাহাজ ভাঙা ১ পরিসংখ্যান জাহাজ ভাঙা ২

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অথচ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত শিল্প হলো জাহাজ পুনর্ব্যবহার (Ship Recycling) বা জাহাজ ভাঙা শিল্প। এটি শুধু একটি শিল্পই নয়, বরং দেশের ইস্পাত, নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ, যন্ত্রাংশ, পরিবহন এবং পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা থেকে সলিমপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫–২০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে গড়ে উঠেছে এই শিল্পের মূল কেন্দ্র।

📜 ইতিহাস

বাংলাদেশে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৫ সালে, যখন ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি গ্রিক জাহাজ "MD Alpine" চট্টগ্রাম উপকূলে আটকে পড়ে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত প্রায় ১৮৬টি ইয়ার্ড রয়েছে, যার মধ্যে ৩০–৪০টি নিয়মিত চালু।

💰 অর্থনৈতিক গুরুত্ব

দেশের রি-রোলিং মিল ও ইস্পাত শিল্পের ৬০–৭০% কাঁচামাল আসে এই শিল্প থেকে। প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়।
১৮৬ নিবন্ধিত ইয়ার্ড
৬০-৭০% ইস্পাতের কাঁচামাল
২৫-৫০ হাজার সরাসরি শ্রমিক
~১০ লাখ পরোক্ষ জীবিকা

⚠️ পরিবেশগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ

ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান: অ্যাসবেস্টস, সীসা, পারদ, PCB, তেল, ভারী ধাতু, বিষাক্ত রাসায়নিক।

গত এক দশকে ১৩৫+ শ্রমিক নিহত এবং ২০০+ আহত হয়েছেন। বর্তমানে PPE, গ্যাস ডিটেকশন, ফায়ার স্যুট ব্যবহার বেড়েছে।

🌍 আন্তর্জাতিক মান ও গ্রিন ইয়ার্ড

২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৭টি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত (IMO-স্বীকৃত) গ্রিন ইয়ার্ড চালু রয়েছে।

🛠️ টেকসই উন্নয়নের জন্য করণীয়

  • ✅ সীতাকুণ্ডে TSDF দ্রুত চালু করা
  • ✅ সব ইয়ার্ডকে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর
  • ✅ শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন
  • ✅ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ
  • ✅ ডিজিটাল মনিটরিং ও অটোমেশন
  • ✅ বিনিয়োগে স্বল্পসুদে ঋণ ও কর-সুবিধা
  • ✅ গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন

🔮 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী কঠোর পরিবেশ আইনের কারণে নিরাপদ জাহাজ পুনর্ব্যবহারের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ শ্রমশক্তি ও ক্রমবর্ধমান গ্রিন ইয়ার্ড এই শিল্পকে বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

জাহাজ ভাঙা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, কঠোর তদারকি এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।



জাহাজ ভাঙা শিল্প: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই উন্নয়নের পথ



চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের কুমিরা থেকে সলিমপুর পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্রসৈকতে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় ব্যস্ততা। সমুদ্রতীরে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল আকৃতির পুরোনো জাহাজগুলো যেন অপেক্ষা করছে নতুন জীবনের জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্যাস কাটারের নীল শিখা, হাতুড়ির শব্দ আর ভারী ক্রেনের গর্জনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ১৯৬৫ সালে দুর্ঘটনাকবলিত গ্রিক জাহাজ 'এমডি আলপাইন' ভাঙার মাধ্যমে যে খাতের অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। বর্তমানে নিবন্ধিত প্রায় ১৮৬টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০টি ইয়ার্ড সক্রিয়ভাবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রেখেছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে একটি বড় অংশ দখল করে আছে। দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত ও শিল্প উন্নয়নে এই খাতের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের রি-রোলিং মিল ও ইস্পাত শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আসে এই জাহাজ ভাঙা খাত থেকে। দেশীয় উৎস থেকে এই বিপুল পরিমাণ লোহা ও ইস্পাত সরবরাহ পাওয়ার ফলে প্রতি বছর দেশের শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, যা নির্মাণ খাত ও আবাসন শিল্পের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এই শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই খাতে সরাসরি প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। 

এছাড়া পরিবহন, যন্ত্রাংশ ব্যবসা, অক্সিজেন প্ল্যান্ট, রি-রোলিং মিল এবং অন্যান্য সহযোগী ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ খাতে আরও ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের জীবিকা এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শ্রমিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়। পর্যাপ্ত সেফটি গিয়ারের অভাব এবং বিষাক্ত গ্যাসের কারণে সনাতন ইয়ার্ডগুলোতে গত এক দশকে ১৩৫ জনের বেশি শ্রমিক নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, পুরোনো জাহাজে থাকা অ্যাসবেস্টস, লেড এবং ভারী মেটালের মতো বিপজ্জনক বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় তা উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) 'হংকং কনভেনশন (HKC)' বাস্তবায়নের তাগিদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কমেছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বৈপ্লবিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৭টি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত বা আইএমও-স্বীকৃত 'গ্রিন ইয়ার্ড' (Green Yard) সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশকে এই খাতে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে স্থান দিয়েছে। আরও ডজনখানেক ইয়ার্ড গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্পকে পুরোপুরি টেকসই করতে হলে সীতাকুণ্ডে নির্মাণাধীন সেন্ট্রাল ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (TSDF) দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এবং সনাতন ইয়ার্ডগুলোকে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর করতে ব্যাংক ঋণের সুদ কমিয়ে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক সেফটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা গেলে এই খাত আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

সমুদ্রের বুকে একসময় হাজার হাজার টন পণ্য বহন করা জাহাজগুলোর শেষ ঠিকানা হয় বাংলাদেশের উপকূল। কিন্তু এখানেই তাদের যাত্রার সমাপ্তি নয়; বরং নতুন রূপে দেশের শিল্প, অবকাঠামো ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় তারা আবারও অংশ হয়ে ওঠে। সংখ্যার হিসাব যেমন এই শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে, তেমনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

ক্যাডেট মো: শাকিব আহমেদ
মেরিন ফিশারিজ একাডেমি, চট্টগ্রাম




Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ মানপত্র  ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ মানপত্র ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল

📸 স্মৃতির পাতা 📸

স্মৃতি ১ স্মৃতি ২ স্মৃতি ৩ স্মৃতি ৪ স্মৃতি ৫ স্মৃতি ৬

⬅️ পাতা উল্টে যাচ্ছে — ঠিক তোমাদের স্যারের ক্লাসের স্মৃতির মতো ➡️

ঘাগটিয়া চালা জুনিয়র মডেল স্কুল

ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল

📜 মানপত্র পাঠ 📜

এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬-এর বিদায় উপলক্ষে

📅 ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | পরীক্ষা: ২১ এপ্রিল — ২০ মে
🏆 ঐতিহাসিক ক্ষণ: প্রথম ব্যাচ যারা নিজস্ব ইআইআইএন ও স্কুলের নামে পরীক্ষায় বসছে 🏆

প্রিয় স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে; বর্তমানে আমি বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী-তে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। এর পূর্ণরূপ— Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College (ইআইআইএন: ১৪০২৬৩)। কিন্তু যখন তোমাদের দশম শ্রেণিতে জীববিজ্ঞান পড়াতাম—এই টিনের চাল আর আধাপাকা দেয়ালের ক্লাসরুমে—সে এক অন্যরকম অনুভূতি। বিশেষ করে অধ্যায় ১: 'জীবন পাঠ' এবং অধ্যায় ২: 'জীবকোষ ও টিস্যু' পড়ানোর স্মৃতি আমার মনে আজও তরতাজা।

মনে পড়ে, রাত হলেই আমার মোবাইলে তোমাদের প্রশ্ন ভেসে উঠত—"স্যার, মাইটোকন্ড্রিয়া কিভাবে শক্তি তৈরি করে?", "মানুষের বৈজ্ঞানিক নামটা আবার বলবেন?" এই জিজ্ঞাসাগুলোই বলে দিত তোমাদের জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা কত গভীর। স্কুলের নানা সমস্যা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তোমরা কখনো হাল ছাড়োনি। ছেলেগুলো হয়তো একটু কম পড়তে চাইত, কিন্তু কয়েকজনের মেধা ছিল সত্যিই ঈর্ষণীয়। আর মেয়েদের মধ্যে কিছু ছিল একেবারে মুক্তো—তাদের খাতায় আঁকা কোষ ও টিস্যুর চিত্র ছিল নিখুঁত। বাকিরাও কম যাও না; জীববিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয় বুঝে ওঠাটাই বড় অর্জন।

ছেলেদের বলা সেই কথাগুলো এখনো কানে বাজে— "স্যার আরেকদিন আমাদের ক্লাস নিবেন?" বাজে বৈকি! বিশ্বাস করো, তোমাদের সেই আবদার আমি কোনদিন ভুলব না। হয়তো আর ক্লাস নেওয়া হবে না, কিন্তু জীবনের পাঠ তোমরা আমার কাছ থেকে যা পেয়েছ, তা আজীবন কাজে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ প্রদত্ত ইলমই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক পথে জ্ঞান অর্জন করলে তা শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, পুরো জীবনকে আলোকিত করে। আমি কোনো বই লিখিনি, তবে একজন প্রভাষক হিসেবে প্রতিদিন চেষ্টা করি জ্ঞানের আলো ছড়াতে। আর তোমাদের মতো শিক্ষার্থীরাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তোমরাই সেই গর্বিত প্রথম ব্যাচ, যারা ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের নিজস্ব নাম ও ইআইআইএন কোড নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছ। পূর্বের সব শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু তোমরা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছ।

📚 পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য স্যারের কিছু দরকারি পরামর্শ 📚

✅ এখন থেকে যেভাবে প্রস্তুতি নেবে

  • রুটিন করে পড়ো: প্রতিদিন ৩টি বিষয়ের রিভিশন দাও। কঠিন বিষয়গুলো সকালে পড়বে।
  • বোর্ড প্রশ্ন বিশ্লেষণ: গত ৫ বছরের বোর্ড প্রশ্ন কমপক্ষে ২ বার সমাধান করো।
  • লেখার অভ্যাস: শুধু মুখস্থ না করে খাতায় লিখে অনুশীলন করো।
  • ঘুম: রাত জাগা বন্ধ করো। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করো।

🍎 এই অল্প সময়ে যেসব খাবার খাবে

  • বাদাম ও খেজুর: প্রতিদিন সকালে ২টি খেজুর ও ৫-৬টি কাজুবাদাম/কাঠবাদাম। মস্তিষ্কের জন্য দারুণ।
  • ডিম ও দুধ: প্রতিদিন ১টি ডিম ও ১ গ্লাস দুধ। প্রোটিন মনোযোগ বাড়ায়।
  • শাকসবজি ও ফল: কলা, আপেল, শসা। পেট ঠান্ডা রাখবে।
  • পর্যাপ্ত পানি: দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করবে।
  • বর্জনীয়: তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চা/কফি এখন এড়িয়ে চলো।

🏫 পরীক্ষার হলে গিয়ে যা করবে

  • প্রথম ৫ মিনিট: গভীর শ্বাস নাও। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পুরোটা ভালো করে ২ বার পড়ো। যে প্রশ্নগুলো সহজ মনে হবে সেগুলো দাগিয়ে রাখো।
  • সময় ভাগ: কোন প্রশ্নের জন্য কত সময় রাখবে তা শুরুতে একটি কাঁচা কাগজে লিখে ফেলো।
  • উত্তর লেখার কৌশল: হাতের লেখা পরিষ্কার রাখো। প্রয়োজনীয় চিত্র আঁকতে ভুলো না। মার্জিন টেনে লিখবে।
  • প্যানিক নয়: কোনো প্রশ্ন কঠিন মনে হলে ঘাবড়াবে না। সেটি পরে আসবে, আগে সহজ প্রশ্নগুলো শেষ করো।
  • রিভিশন: উত্তর শেষ করে ১০-১৫ মিনিট আগে পুরো খাতা একবার চোখ বুলিয়ে নেবে।

“সুস্থ দেহ, স্থির মন আর পরিকল্পিত প্রস্তুতি— এই তিন মিলেমিশে তৈরি করে একটি উজ্জ্বল রেজাল্ট।”

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষায় তোমাদের কলম যেন হয় আলোকবর্তিকা। মনে রেখো, এই টিনশেডের ক্লাসরুম, বৃষ্টির দিনে টিনের চালে ফোঁটা পড়ার শব্দ, আর আমাদের সেই মোবাইলে করা প্রশ্নোত্তর—সবই যেন তোমাদের পেছনে অদৃশ্য শক্তি হিসেবে থাকে।

একটি শেষ অনুরোধ— বই পড়ার অভ্যাস কখনো ছেড়ো না। "একটি ভালো বই হয়তো পুরো জীবনটাই বদলে দিতে পারে।" জ্ঞান বিতরণ করলে তা কখনো কমে না, বরং বাড়ে। আল্লাহ তোমাদের সবাইকে সুস্বাস্থ্য, স্থিরতা ও সফলতা দান করুন।

তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক
(জীববিজ্ঞান, দশম শ্রেণি — অধ্যায় ১ ও ২)
প্রভাষক, বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী
(Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College)
ইআইআইএন: ১৪০২৬৩
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল

“টিনের চাল, আধাপাকা দেয়াল আর তোমাদের স্মৃতিমাখা ক্লাসরুম — এখান থেকেই ইতিহাসের প্রথম ব্যাচের যাত্রা শুরু।”

📸 স্মৃতির পাতা 📸

স্মৃতি ১ স্মৃতি ২ স্মৃতি ৩ স্মৃতি ৪ স্মৃতি ৫ স্মৃতি ৬

⬅️ পাতা উল্টে যাচ্ছে — ঠিক তোমাদের স্যারের ক্লাসের স্মৃতির মতো ➡️

ঘাগটিয়া চালা জুনিয়র মডেল স্কুল

ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল

📜 মানপত্র পাঠ 📜

এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬-এর বিদায় উপলক্ষে

📅 ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | পরীক্ষা: ২১ এপ্রিল — ২০ মে
🏆 ঐতিহাসিক ক্ষণ: প্রথম ব্যাচ যারা নিজস্ব ইআইআইএন ও স্কুলের নামে পরীক্ষায় বসছে 🏆

প্রিয় স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে; বর্তমানে আমি বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী-তে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। এর পূর্ণরূপ— Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College (ইআইআইএন: ১৪০২৬৩)। কিন্তু যখন তোমাদের নবম শ্রেণিতে জীববিজ্ঞান পড়াতাম—এই টিনের চাল আর আধাপাকা দেয়ালের ক্লাসরুমে—সে এক অন্যরকম অনুভূতি। বিশেষ করে অধ্যায় ১: 'জীবন পাঠ' এবং অধ্যায় ২: 'জীবকোষ ও টিস্যু' পড়ানোর স্মৃতি আমার মনে আজও তরতাজা।

মনে পড়ে, রাত হলেই আমার মোবাইলে তোমাদের প্রশ্ন ভেসে উঠত—"স্যার, মাইটোকন্ড্রিয়া কিভাবে শক্তি তৈরি করে?", "কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নামটা আবার বলবেন?" এই জিজ্ঞাসাগুলোই বলে দিত তোমাদের জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা কত গভীর। স্কুলের নানা সমস্যা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তোমরা কখনো হাল ছাড়োনি। ছেলেগুলো হয়তো একটু কম পড়তে চাইত, কিন্তু কয়েকজনের মেধা ছিল সত্যিই ঈর্ষণীয়। আর মেয়েদের মধ্যে কিছু ছিল একেবারে মুক্তো—তাদের খাতায় আঁকা কোষ ও টিস্যুর চিত্র ছিল নিখুঁত। বাকিরাও কম যাও না; জীববিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয় বুঝে ওঠাটাই বড় অর্জন।

ছেলেদের বলা সেই কথাগুলো এখনো কানে বাজে— "স্যার আরেকদিন আমাদের ক্লাস নিবেন?" বাজে বৈকি! বিশ্বাস করো, তোমাদের সেই আবদার আমি কোনদিন ভুলব না। হয়তো আর ক্লাস নেওয়া হবে না, কিন্তু জীবনের পাঠ তোমরা আমার কাছ থেকে যা পেয়েছ, তা আজীবন কাজে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ প্রদত্ত ইলমই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক পথে জ্ঞান অর্জন করলে তা শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, পুরো জীবনকে আলোকিত করে। আমি কোনো বই লিখিনি, তবে একজন প্রভাষক হিসেবে প্রতিদিন চেষ্টা করি জ্ঞানের আলো ছড়াতে। আর তোমাদের মতো শিক্ষার্থীরাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তোমরাই সেই গর্বিত প্রথম ব্যাচ, যারা ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের নিজস্ব নাম ও ইআইআইএন কোড নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছ। পূর্বের সব শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু তোমরা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছ। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষায় তোমাদের কলম যেন হয় আলোকবর্তিকা। মনে রেখো, এই টিনশেডের ক্লাসরুম, বৃষ্টির দিনে টিনের চালে ফোঁটা পড়ার শব্দ, আর আমাদের সেই মোবাইলে করা প্রশ্নোত্তর—সবই যেন তোমাদের পেছনে অদৃশ্য শক্তি হিসেবে থাকে।

একটি শেষ অনুরোধ— বই পড়ার অভ্যাস কখনো ছেড়ো না। "একটি ভালো বই হয়তো পুরো জীবনটাই বদলে দিতে পারে।" জ্ঞান বিতরণ করলে তা কখনো কমে না, বরং বাড়ে। আল্লাহ তোমাদের সবাইকে সফলতা ও উত্তম জ্ঞান দান করুন।

তোমাদের প্রাক্তন শিক্ষক
(জীববিজ্ঞান, নবম শ্রেণি — অধ্যায় ১ ও ২)
প্রভাষক, বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী
(Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College)
ইআইআইএন: ১৪০২৬৩
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল

“টিনের চাল, আধাপাকা দেয়াল আর তোমাদের স্মৃতিমাখা ক্লাসরুম — এখান থেকেই ইতিহাসের প্রথম ব্যাচের যাত্রা শুরু।”


GCMH





১। বিদ্যালয়কে বিদায়ী মানপত্র
পাঠক: দশম শ্রেণির বিদায়ী শিক্ষার্থী (২০২৬ ব্যাচ)
স্থান: ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
তারিখ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আমার প্রিয় ঘাগটিয়া চালা স্কুল, প্রিয় স্যার-আপারা, এবং আমার ছোট ভাই-বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।

আজ আমি খুব কাঁদো-কাঁদো হয়ে বসে আছি। কারণ আজকের এই ১৪ এপ্রিল আমাদের জন্য এক বিষাদ দিন। মাত্র কয়েকদিন পর, ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত আমরা এসএসসি পরীক্ষা দিতে চলে যাব। তাই আজই হয়তো শেষবারের মতো তোমাদের সবার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলার সুযোগ পেলাম।

স্যার, যখন এই স্কুলের কথা ভাবি, চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই আমাদের এই লাল টিনের চালাটা আর ওপরের আধাপাকা ভবনটা। বাইরের মানুষ হয়তো ভাবে, "ও মামা, এই স্কুলটা তো একেবারে সাদাসিধে, এখানে কি আর পড়াশোনা হয়?"
কিন্তু তারা জানে না, এই টিনের চালার নিচেই আমাদের রাজ্য ছিল।

আমাদের মনে আছে, ক্লাস ওয়ানে যখন প্রথম এসেছিলাম, মায়ের আঁচল ছেড়ে এই সিঁড়ির পাশে কেঁদেছিলাম। তখন স্যার আমাদের কোলে তুলে বলেছিলেন, "কাঁদিস না বাবা, এটা তোর নতুন ঘর।"
সেই থেকে আজ পর্যন্ত দশটা বছর, এই টিনের চালাটাই সত্যি সত্যি আমাদের ঘর হয়ে গেল।
প্রচণ্ড গরমে যখন টিনের নিচে ঘেমে একাকার হয়েছি, বর্ষায় যখন পানির ফোঁটা পড়ে খাতা ভিজে যেত, তখনো আমাদের হাসি থেমে থাকেনি। কারণ আমরা জানতাম, স্যার-আপারা আছেন আমাদের সাথে। এই যে আধাপাকা দেয়ালে হেলান দিয়ে আমরা বড়ো হয়েছি, এই দেয়ালগুলোই আমাদের সবচেয়ে বড়ো আশ্রয়।

ছোটবেলায় ভাবতাম, বড়ো স্কুল মানে বুঝি অনেক উঁচু দালান। কিন্তু আজ বুঝতে পারি, স্কুল বড়ো হয় ভালোবাসায়। আর ভালোবাসার কোনো অভাব কোনোদিন এই ঘাগটিয়া চালায় ছিল না।

স্যার-আপারা, তোমাদের কাছে আমরা চিরঋণী।
তোমরা কখনো আমাদের শুধু বইয়ের পাতা পড়াওনি; তোমরা শিখিয়েছ কীভাবে টিনের ফাঁক গলে আসা রোদ্দুরেও আলো খুঁজে নিতে হয়।
আমরা চলে যাচ্ছি স্যার, কিন্তু মন পড়ে থাকবে এই আধাপাকা বারান্দায়।
যখন দূরে কোথাও বড়ো হবো, খুব মিস করব এই লাল মাটির উঠোনটাকে।

ছোট ভাই-বোনেরা, এই স্কুলের যত্ন নিও। টিনের চালার নিচে বসে স্বপ্ন দেখাটা কিন্তু রাজপ্রাসাদে বসে স্বপ্ন দেখার চেয়েও শক্তিশালী। এটা যেন কোনোদিন ভুলো না।

আমাদের জন্য দোয়া করবেন স্যার, যেন ২১ তারিখ থেকে পরীক্ষার খাতায় যা লিখি, তাতে এই ঘাগটিয়া চালার নাম উজ্জ্বল হয়।
আমরা বাইরে থেকে যাই আর যেখানেই থাকি, পরিচয় দেবার সময় বুকে ফুলিয়ে বলব, "আমি ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের ছাত্র/ছাত্রী।"

ভালো থেকো আমার প্রিয় স্কুল।
ভালো থেকো স্যার-আপারা।
ভালো থেকো আমার টিনের চালা।

আসসালামু আলাইকুম।

তোমাদেরই একজন বিদায়ী শিক্ষার্থী
এসএসসি ব্যাচ-২০২৬
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল




২ মানপত্র

তারিখ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
স্থান: ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল প্রাঙ্গণ

পরম শ্রদ্ধাভাজন ও স্নেহের পাত্র-পাত্রীবৃন্দ,
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী- ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আজ পয়লা বৈশাখের আবহ কাটিয়ে চৈত্রের শেষ প্রহর। প্রকৃতিতে বইছে বিদায়ের হিমেল হাওয়া, আর আমাদের ঘাগটিয়া চালার পরিচিত এই টিনশেডের উঠোন আজ এক অদ্ভুত বিষাদে ছেয়ে আছে। আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মাত্র সাত দিন বাকি। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে, তোমাদের হাতে আজকের এই ১৪ এপ্রিল তারিখে বিদায়ের মানপত্র তুলে দিতে পেরে আমাদের বুক ভরে উঠছে গর্বে আর চোখ ভরে উঠছে জলে।

ফিরে তাকালে মনে পড়ে সেই দশ-বারো বছর আগের কোনো ভোরের কথা। মায়ের আঁচল ধরে, চোখে-মুখে একরাশ ভয় আর অপার বিস্ময় নিয়ে তোমরা প্রথম এসেছিলে এই ঘাগটিয়া চালায়। তখন তোমরা এতোটাই ছোট ছিলে যে এই আধাপাকা ভবনের সিঁড়ির ধাপগুলোও ছিল তোমাদের কাছে দুর্লঙ্ঘ্য পর্বত। কিন্তু যে ভালোবাসার ভিতের ওপর এই বিদ্যালয় দাঁড়িয়ে আছে, তা কোনো দিন ইট-সুরকির জৌলুশে গড়া ছিল না; তা ছিল শিক্ষকদের নিবেদিত প্রাণ আর তোমাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফসল।

একটি টিনশেডের নিচেই ছিল আমাদের রাজপ্রাসাদ
আমরা সবাই জানি, ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল মানে জমকালো ক্যাম্পাস নয়। এখানে নিচের দিকে হয়তো টিনের চালা, ওপরে কিছু আধাপাকা দেয়াল। প্রচণ্ড রোদে টিন পুড়ে যায়, বর্ষায় ছাদের তালে তালে পড়া বৃষ্টির শব্দে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু হে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা, এই সহজ-সরল পরিবেশই তোমাদের শিখিয়েছে কীভাবে প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে সামনে এগোতে হয়। এই যে টিনের চাল—এটা তোমাদের শিখিয়েছে সবকিছু চাকচিক্যময় না হলেও ভেতরটা আলোকিত রাখতে হয়। এই যে আধাপাকা ভবন—এটা শিখিয়েছে, সম্পূর্ণতা না থাকলেও স্বপ্নকে পাকাপোক্ত করতে হয়।

ছোট্ট থেকে বড়ো হওয়ার গল্প
তোমরা সেই শিশু, যাদের বর্ণমালার প্রথম অক্ষরগুলো শেখা হয়েছিল এই মেঠো পথের ধুলো মাখা বারান্দায়। কখনো টিনের চাল ফুঁড়ে আসা রোদের আলোয়, কখনো বা গ্রীষ্মের দমবন্ধ করা গরমে পাখার বাতাস ভাগাভাগি করে। আমরা দেখেছি, কীভাবে তোমাদের হাতের লেখা ধীরে ধীরে মুক্তোর মতো সুন্দর হয়েছে, কীভাবে অঙ্কের জটিল অঙ্কগুলো তোমাদের কাছে পানির মতো সহজ হয়ে গেছে। তোমাদের এই যাত্রা কেবল বই-খাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এ যাত্রা ঘাগটিয়া চালার সরু গলি থেকে শুরু হয়ে জ্ঞানের বিশাল সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার এক দৃঢ় প্রত্যয়।

পরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে (আজ ১৪ এপ্রিল) কয়েকটি প্রার্থনা ও উপদেশ
প্রিয় সন্তানেরা, আজ থেকে ঠিক এক সপ্তাহ পর, ২১ এপ্রিল তোমাদের জীবনের প্রথম বড়ো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হচ্ছে, যা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। আমরা চাই না তোমরা ভয়ে কুঁকড়ে যাও। বরং মনে রেখো, এই টিনশেডের স্কুলের ছেলে-মেয়েরা ইস্পাতের মতো কঠিন হয়।



১. আত্মবিশ্বাসী হও: প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে যদি দেখো কঠিন, মনে রেখো— যে গরমে এই ঘাগটিয়া চালার নিচে বসে তুমি পড়েছো, তার কাছে কোনো প্রশ্নই কঠিন নয়।
২. সুস্থ থাকো: এই তীব্র গরমে নিজেদের যত্ন নিও। সময়মতো খাবার খেয়ে পরীক্ষার হলে যেও।
৩. সততা বজায় রাখো: জীবনে যত বড়োই হও না কেন, এই আধাপাকা স্কুলের যে ভিত তোমাকে সৎ রেখেছে, সেই ভিত কখনো নড়বড়ে কোরো না।

চিরন্তন ঋণ
বিদায়ের এই মুহূর্তে আমরা তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তোমরা এই বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করেছ। আর আমাদের একটিই অনুরোধ— যখন কলেজে যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, বড়ো কোনো অফিসে যাবে কিংবা পৃথিবীর কোনো সমৃদ্ধ শহরে গিয়ে চাকরি করবে, তখন একবারের জন্য হলেও পেছন ফিরে তাকিয়ো। হয়তো দেখবে, অনেক দূরে কোথাও টিনের চালার নিচে আজও প্রদীপের মতো একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে আছেন, তোমাদের সাফল্যের গল্প শুনে চোখের জল মুছছেন। এ বিদ্যালয়কে ভুলো না, এই ঘাগটিয়া চালার মাটির সোঁদা গন্ধ ভুলো না।

শেষ কথা
হে কোমলমতি শিক্ষার্থীবৃন্দ, এই ১৪ এপ্রিল আমরা বিদায় দিচ্ছি না— আমরা শুধু ছুটি দিচ্ছি জীবনের আরেকটি বড়ো পরীক্ষার জন্য। এই ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল চিরকাল তোমাদের পথ চেয়ে থাকবে। যখনই ক্লান্ত হবে, জেনো এই আধাপাকা ভবনের ছায়া ও টিনের চালার নিচের ঠাণ্ডা বাতাস তোমার জন্য অপেক্ষমাণ।

আল্লাহ তোমাদের সহায় হোন। পরীক্ষার হলে যেন মাথা ঠান্ডা থাকে, কলম যেন সাবলীল হয়।

তোমাদের উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে,
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল পরিবার
(প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী ও সকল শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে)

বিদায় সম্ভাষণ ও শুভকামনা - ১৪ এপ্রিল ২০২৬




৩ বিদ্যালয়কে বিদায়ী মানপত্র

পাঠক: দশম শ্রেণির বিদায়ী শিক্ষার্থী (এসএসসি ব্যাচ–২০২৬)
স্থান: ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
তারিখ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আমার প্রিয় ঘাগটিয়া চালা স্কুল, প্রিয় স্যার-আপারা এবং আমার ছোট ভাই-বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।

আজ মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে বুকটা ভারী হয়ে আসছে। কারণ আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের হলেও, বিদায়ের কষ্টে ভরা। আর কয়েকদিন পর, ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত আমরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে চলে যাব। তাই হয়তো আজই শেষবারের মতো তোমাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি।



প্রিয় স্যার, এই স্কুলের কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমাদের সেই লাল টিনের চালা আর আধাপাকা ভবনটা। বাইরে থেকে কেউ দেখলে হয়তো ভাববে—এটা খুব সাধারণ একটা স্কুল। কিন্তু আমরা জানি, এই টিনের চালার নিচেই আমাদের স্বপ্ন, আমাদের শৈশব, আমাদের ভালোবাসা গড়ে উঠেছে।

আমাদের মনে আছে, ছোট্টবেলায় যখন প্রথম স্কুলে এসেছিলাম, মায়ের হাত ছেড়ে এই সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলাম। তখন আপনারাই আমাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন—“এটাই তোমাদের নতুন ঘর।” সত্যিই, এই দশ বছরে এই স্কুলটাই আমাদের দ্বিতীয় ঘর হয়ে গেছে।

গরমের দিনে টিনের নিচে বসে ঘেমে পড়েছি, বর্ষায় খাতায় পানির ফোঁটা পড়েছে—তবুও আমরা হাসিমুখে ক্লাস করেছি। কারণ আমরা জানতাম, আমাদের পাশে আছেন আমাদের স্নেহের স্যার-আপারা।

ছোটবেলায় ভাবতাম, বড় স্কুল মানেই বড় দালান। কিন্তু আজ বুঝেছি—স্কুল বড় হয় ভালোবাসায়, আদর্শে আর শিক্ষায়। আর সেই ভালোবাসার কোনো অভাব আমাদের এই স্কুলে কখনো ছিল না।

স্যার-আপারা, আমরা আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা শুধু বইয়ের পড়া শেখাননি, শিখিয়েছেন জীবনকে কিভাবে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হয়। কষ্টের মধ্যেও কিভাবে এগিয়ে যেতে হয়, সেটাও আপনারাই শিখিয়েছেন।

আজ আমরা বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু মন পড়ে থাকবে এই স্কুলের প্রতিটি কোণে—এই বারান্দা, এই উঠান, এই টিনের চালা—সবকিছুতেই জড়িয়ে আছে আমাদের স্মৃতি।

আমার ছোট ভাই-বোনেরা, তোমাদের কাছে একটি কথা বলি—এই স্কুলকে ভালোবাসো, এর যত্ন নিও। মনে রেখো, স্বপ্ন বড় জায়গায় বসে দেখলেই বড় হয় না—স্বপ্ন বড় হয় পরিশ্রম আর বিশ্বাসে।



স্যার, আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারি এবং এই স্কুলের নাম উজ্জ্বল করতে পারি। আমরা যেখানেই থাকি, গর্ব করে বলব—
“আমি ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের একজন শিক্ষার্থী।”

সবশেষে বলি—
ভালো থাকুক আমার প্রিয় স্কুল,
ভালো থাকুক আমার প্রিয় স্যার-আপারা,
ভালো থাকুক আমার এই স্মৃতিমাখা টিনের চালা।

আসসালামু আলাইকুম।

—তোমাদেরই একজন বিদায়ী শিক্ষার্থী
এসএসসি ব্যাচ–২০২৬
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল


〓〓〓〓〓

ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল

🏚️ টিনের চাল ও আধাপাকা ভবনের বিদ্যানিকেতন

🌸 বিদায় সম্ভাষণ 🌸

📅 ১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার 📅
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ : ২১ এপ্রিল — ২০ মে

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬,

যে টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সুর, যে আধাপাকা ভবনের দেয়ালে তোমাদের হাতের ছাপ আজও জেগে আছে—সেই ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল আজ তোমাদের বিদায় জানাতে পেরে গর্বিত। ছোট্ট থলি কাঁধে প্রথম যেদিন এখানে এসেছিলে, তখন থেকেই এই মাটির উঠোন তোমাদের আগলে রেখেছে। নিচের দিকে টিনশেড, উপরে কিছু পাকা ছোঁয়া—এই সরল পরিবেশেই তোমরা শিখেছ জীবনের প্রথম পাঠ।

আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে তোমাদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এই পরীক্ষা শুধু খাতায় লেখা উত্তরের সমষ্টি নয়; এটা তোমাদের অদম্য মনোবলের প্রমাণপত্র। এই আধাপাকা বিদ্যালয়ের টিনের চাল ফুঁড়ে যে রোদ এসে পড়ত তোমাদের খাতায়, সেই আলোই তোমাদের ভবিষ্যৎকে আলোকিত করবে।

“যেখানে টিনের চালে বৃষ্টি পড়ে ঝুমুর ঝুমুর,
যেখানে কাদামাখা পায়ে প্রথম ‘অ’ আঁকা—
সেই আঙিনা আজ বিদায়ের সুরে ভারী,
তবু তোমাদের উড়ানের জন্য দোয়া করে বারবার।”

১৪ এপ্রিল—এই দিনটি আমাদের কাছে বিদায়ের নয়, বরং নতুন সূর্যোদয়ের ক্ষণ। আমরা দেখেছি কীভাবে ভাঙা বেঞ্চে বসে গণিতের জটিল অঙ্ক করেছ, বারান্দায় দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করেছ ইংরেজি কবিতা। এই টিনশেডের ফাঁক গলে আসা বাতাসে মিশে আছে তোমাদের কলকাকলি। যদিও আমাদের ভবন পুরোপুরি পাকা নয়; কিন্তু তোমাদের ভিত আমরা পাকা করেছি—মানবিকতা, সততা আর অদম্য চেষ্টার ভিত।

সামনের পরীক্ষায় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর হবে তোমাদের জীবনের স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়। যেখানেই যাও, মনে রেখো—ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলের টিনের চালার সেই মিষ্টি সুর যেন তোমাদের পথ চেনায়। আমরা অপেক্ষায় থাকব তোমাদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য।

তোমাদের জন্য রইল অশেষ শুভেচ্ছা ও আর্শীবাদ। জয় হোক মানবতার, জয় হোক শিক্ষার।

🏫
যেখানে ছোট থেকে পড়া : টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, আধাপাকা বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়ানো, আর হলুদ বিকেলের মাঠে ছোটাছুটি—সবই এই বিদ্যালয়ের চিরন্তন গল্প।
তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
স্থান : ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল প্রাঙ্গণ।
প্রধান শিক্ষক
ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
(সভাপতি, বিদায় সংবর্ধনা পরিষদ ২০২৬)
〓 বিদায়ী শিক্ষার্থীবৃন্দ 〓
“টিনের চালার নিচে আধাপাকা বিল্ডিং—যেখানে জীবনের প্রথম অক্ষর লেখা হলো।”
— ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল পরিবার —




Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

ভালো বাসা, ভালো ভাষা, ভালোবাসা

ভালো বাসা, ভালো ভাষা, ভালোবাসা

ভালো বাসা, ভালো ভাষা, ভালোবাসা — মানবিক সমাজ গঠনের তিন স্তম্ভ

লেখক: তৌফিক সুলতান
প্রভাষক, ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজ, নরসিংদী
প্রধান নির্বাহী, ওয়েল্ফশন মানবকল্যাণ সংঘ, গাজীপুর

“ভালো বাসা, ভালো ভাষা, ভালোবাসা” — এই তিনটি শব্দ যেন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনের দর্শন। আধুনিক সমাজে অর্থ আর প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের চর্চা খুবই জরুরি। আর এই তিনটি ধারণাই সেই মানবিক সমাজ গড়ার মূল স্তম্ভ।

১. ভালো বাসা — হৃদয়ের শান্তির আশ্রয়

ভালো বাসা মানে শুধু ইট-পাথরের ঘর নয়। এটি নিরাপত্তা, উষ্ণতা ও মানসিক প্রশান্তির জায়গা। যেখানে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি যত্নশীল থাকে, সেখানে শিশুরা মানসিকভাবে দৃঢ় হয়। ঈদের আনন্দও যখন বাসায় অশান্তি থাকে, তখন ম্লান হয়ে যায়।

ইন-আর্টিকেল অ্যাড | ডায়নামিক বাটন এনিমেশন | টগল ভিউ
📢 প্রিমিয়াম ইন-আর্টিকেল
7s
⚡ জ্ঞানের জগৎ – এক্সক্লুসিভ অফার ⚡
🎬 ট্রেন্ডিং ভিডিও সিরিজ • এন্ডলেস স্ক্রল

২. ভালো ভাষা — সম্পর্কের সেতু

ভাষা হলো মানুষের চরিত্রের আয়না। শালীন, মার্জিত ও সম্মানজনক ভাষা সম্পর্ককে মজবুত করে। অথচ আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীনতা ও ঘৃণামূলক কথা সমাজে বিভেদ তৈরি করছে। ভালো ভাষা ব্যবহার করলে হৃদয় জয় করা যায়, ঝগড়া কমে।

৩. ভালোবাসা — মানবিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি

ভালোবাসা ছাড়া কোনো সম্পর্ক টিকে না। এটি সহমর্মিতা, ক্ষমা ও ঐক্যের অনুভূতি। ঈদের সময়েও যখন কিছু পরিবারে ঝগড়া বা অশান্তি হয়, তখন বোঝা যায় ভালোবাসার অভাব কতটা ক্ষতি করে। সত্যিকারের ভালোবাসা হৃদয়কে কোমল করে, সমাজকে সুন্দর করে।

“এই তিনটি একসাথে থাকলে জীবন হয় পরিপূর্ণ —
ঘর হয় স্বর্গ, কথা হয় মধুর, আর সম্পর্ক হয় অটুট।”

আসুন, আজ থেকেই চর্চা শুরু করি

শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানবিক গুণাবলির বিকাশ। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভালো বাসা গড়ি, ভালো ভাষা চর্চা করি এবং ভালোবাসা ছড়াই। তাহলেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারবো।

তৌফিক সুলতান
প্রভাষক — ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজ, নরসিংদী
প্রধান নির্বাহী — ওয়েল্ফশন মানবকল্যাণ সংঘ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
📧 towfiqsultan2026@gmail.com | 📞 +8801518383566





Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...