দৈনিক অনুসন্ধান: অন্যান্য খবর

সংবাদ শিরোনাম
লোডিং...
Menu
অন্যান্য খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্যান্য খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

কাপাসিয়ার মাটি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের জন্য এক অফুরন্ত ক্ষেত্র

কাপাসিয়ার মাটি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের জন্য এক অফুরন্ত ক্ষেত্র

কাপাসিয়ার মাটি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের জন্য এক অফুরন্ত ক্ষেত্র

কাপাসিয়া বাংলাদেশের সভ্যতার আদি উৎস ও ভূতাত্ত্বিক মহাকাব্যের এক জীবন্ত পাঠশালা

পর্ব-১: প্রাগৈতিহাসিক ভিত্তি সাগরগর্ভ থেকে উদ্ভব
— তৌফিক সুলতান 

বাংলাদেশের মানচিত্রে যে কয়টি অঞ্চল নিজের অস্তিত্বের গভীরতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে কাপাসিয়া এক অনন্য নাম। এই নামটি শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থানকে নির্দেশ করে না, বরং বহন করে চলেছে কোটি বছর ব্যাপী এক বিবর্তনের ইতিহাস, যার শুরু আজ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ (২.৫ মিলিয়ন) বছর পূর্বে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশের যে কয়টি প্রাচীনতম ভূখণ্ড (Terranes) টেকটনিক প্লেটের চলাচলের ফলে সৃষ্টি হয়েছে, কাপাসিয়া তার মধ্যে অন্যতম। বঙ্গ অববাহিকার উত্তরে অবস্থিত মধুপুর গড় অঞ্চলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাপাসিয়ার জন্ম নিহিত আছে নিওজিন যুগের শেষভাগ থেকে প্লাইস্টোসিন যুগের শুরুতে।

দশ লক্ষ বছর আগেকার সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে, যখন হিমালয় পর্বতমালা আরও উঁচু হয়ে উঠছিল এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার পলি সঞ্চয় প্রক্রিয়া তীব্রতর হচ্ছিল, ঠিক তখনই সমুদ্রের গর্ভ থেকে ক্রমশ মাথা তুলতে শুরু করে কাপাসিয়ার ভিত্তিভূমি। তবে এর পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী রূপ লাভের মহাক্ষণটি আসে প্রায় পাঁচ লক্ষ বছর আগে, প্রথম প্রধান বরফ যুগ (First Glacial Period) চলাকালীন। পৃথিবীর জলবায়ু তখন চরম শীতল অবস্থায় পৌঁছেছিল। এর ফলে গ্রহের বিপুল পরিমাণ জলভাণ্ডার (প্রধানত সামুদ্রিক জল) বরফে পরিণত হয়ে মেরু অঞ্চল ও উচ্চ পর্বতশ্রেণিতে আটকা পড়ে। বৈজ্ঞানিক ভাষায় যাকে বলে গ্লাসিয়েশন। এর সরাসরি ফলাফল ছিল বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ব্যাপক হারে নেমে যাওয়া, যার পরিমাণ অনুমান করা হয় প্রায় ১০০-১৫০ মিটার। এই নিম্ন সমুদ্রপৃষ্ঠের যুগে, বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকা শুষ্ক ভূমিতে পরিণত হয় এবং আগে থেকে জমে থাকা সামুদ্রিক পলিস্তর বাতাস ও সূর্যের সংস্পর্শে এসে শক্ত হতে থাকে। কাপাসিয়ার লাল-বেলে মাটির (Reddish Brown Terrace Soil) এই স্তরটির উৎপত্তি এই সময়েই, যা স্থানীয়ভাবে "লাল মাটি" নামে পরিচিত। গবেষকদের ধারণা, এই প্রথম বরফ যুগের স্থায়িত্বকাল ছিল দীর্ঘ ৮০ হাজার বছর, যা কাপাসিয়াকে ভূতাত্ত্বিকভাবে সুসংহত হতে যথেষ্ট সময় দিয়েছিল।

বরফ যুগের সমাপ্তি মানে কিন্তু স্থিতিশীলতার শুরু নয়, বরং আরেকটি বিশাল পরিবর্তনের সূচনা। উত্তাপ ফিরে পাওয়া পৃথিবীতে বরফ গলতে শুরু করে, তৈরি করে বরফগলার যুগ (Interglacial Period)। এই গলিত বরফের পানির সাথে মিশে যায় পার্বত্য অঞ্চল থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত মাটি, পাথর ও খনিজ পদার্থ। সেই পানির রং হয়ে যায় লালচে-বাদামি, কারণ উত্তরের হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা লোহা-অক্সাইডসমৃদ্ধ পলি তাতে মিশে থাকত। এই লাল পানির প্রবাহ (Fluvial Deposit) একের পর এক স্তর সৃষ্টি করে কাপাসিয়ার বুকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, কমপক্ষে তিনটি পৃথক বরফগলা যুগের ধারা এই অঞ্চলের মাটি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। প্রতিটি যুগের পলিস্তর পরবর্তী যুগের স্তরে চাপা পড়েছে, তৈরি করেছে এক জটিল ভূতাত্ত্বিক স্তরবিন্যাস (Stratigraphy)।

এই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফসল হলো কাপাসিয়ার অনন্য "গড়" বা "চড়" ভূমি, যা আশেপাশের সমতল পলিমাটির থেকে উঁচু এবং ভিন্ন গঠনবিশিষ্ট। এই উঁচু ভূমিগুলো স্থানীয় ভাষায় "টেক" বা "টিলা" নামে পরিচিত। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে, এই নবজাত ভূখণ্ডে জন্ম নেয় গাছপালা, বিকশিত হয় গভীর অরণ্য। জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র থাকায় সেখানে সৃষ্টি হয় এক আদিম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি (Tropical Rainforest), যেখানে বাস করত নানা ধরনের প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী।

পর্ব-২: প্রাচীন অরণ্যের কয়লায় রূপান্তর একটি জীবাশ্মের গল্প
— তৌফিক সুলতান

প্রকৃতির নিয়মে সেই ঘন অরণ্যেরও উত্থান-পতন হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক শক্তির ক্রিয়ায়, বিশেষ করে ভূমিকম্প, খাদের সৃষ্টি এবং মাটির ধ্বসের মাধ্যমে, এই বিশাল বনাঞ্চলের বৃহৎ অংশ হঠাৎ করেই ভূগর্ভে চাপা পড়ে যায়। এই চাপা পড়া জৈব পদার্থ (গাছের গুঁড়ি, ডালপালা, পাতা) ভূগর্ভের উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে পড়ে। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলা একটি অত্যন্ত ধীর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জৈব পদার্থ কার্বনিকরণ (Carbonization) এর মধ্য দিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত রূপান্তরিত হয় কয়লায় (Coal)। এই কয়লা আসলে সেই আদিম অরণ্যের জীবাশ্ম (Fossil) মাত্র।

এই তত্ত্বের অসংখ্য প্রমাণ আজও কাপাসিয়ার মাটি খুঁড়লে পাওয়া যায়। স্থানীয় কৃষক বা গৃহস্থ তাদের পুকুর খনন, কূপ তৈরি বা মাটির কাজ করার সময় প্রায়শই কালো, শক্ত পাথরের মতো পদার্থের সন্ধান পান, যা আসলে কয়লা। ১৯৭৮ সালে হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার এই ধারণাকে জোরদার করে। সেবার সাহার বিদ্যাকোট (বর্তমানে দরদরিয়া নামে পরিচিত) গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীর ভাঙনকবলিত একটি পাড়ে, লাল মাটির প্রায় ১৫-১৮ ফুট নিচে, স্থানীয় লোকেরা একটি অতিকায় বস্তু দেখতে পায়। খনন করে দেখা যায়, সেটি একটি বিশালাকার গাছের কাণ্ড, যা সম্পূর্ণরূপে কয়লায় পরিণত হয়েছে। খবর পেয়ে ঢাকা জাদুঘরের তৎকালীন মহাপরিচালক, বিশিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক ড. এনামুল হক এবং গবেষক শফিকুল আসগর স্থানটি পরিদর্শনে আসেন। ড. হকের পর্যবেক্ষণ ছিল স্পষ্ট: লক্ষ বছর ধরে মাটির গভীরে চাপা পড়ে, উত্তাপ ও চাপের প্রভাবে গাছটির কাঠানুগুলো ধীরে ধীরে জৈব রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়লাকাঠ (Coalified Wood)-এ রূপান্তরিত হয়েছে। এটি ছিল কাপাসিয়ার প্রাকৃতিক ইতিহাসের একটি জীবন্ত ও মূর্ত প্রমাণ।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধাঁধাঁরচর এলাকায় কয়লার উপস্থিতি আরেক মাত্রা যোগ করে। শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গমস্থলে জেগে ওঠা এই বিশাল চরে, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি তোলার সময় পাইপের মধ্য দিয়ে বালির সাথে বড় বড় কয়লার টুকরো উঠে আসতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা এই কয়লা সংগ্রহ করে রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারও করেছে। এখানে কয়লা গঠনের গল্পটি কিছুটা ভিন্ন। ধারণা করা হয়, শত শত বছর আগে প্রবল ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা ভূমিকম্পের ফলে নদী তীরের অরণ্যের বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে নদীগর্ভে। সেসাথে ডুবে যাওয়া নৌকা বা জাহাজের ধ্বংসাবশেষও নদীর তলদেশে জমা হয়। সময়ের সাথে সাথে নদীর গতিপথ বদলায়, পলি জমে নতুন চরের সৃষ্টি হয় এবং সেই সমস্ত জৈব সামগ্রী চরের নিচে চাপা পড়ে যায়। তারপর সেই দীর্ঘায়িত কার্বনিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলোও কয়লায় পরিণত হয়েছে। দরদরিয়া ও ধাঁধাঁরচরের কয়লার মধ্যে ভূতাত্ত্বিক সম্পর্ক থাকা খুবই সম্ভব, কারণ উভয়ই একই প্রাচীন নদী ব্যবস্থা ও বনভূমির উত্তরাধিকার।

২০০৪ সালের একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা কাপাসিয়ার ভূগর্ভের রহস্য আরও উন্মোচন করে। দস্যুনারায়ণপুর গ্রামের এক বিস্তীর্ণ জমি হঠাৎ সকালবেলায় ২০-২৫ ফুট নিচে ধসে পড়ে এবং বিশাল ফাটলের সৃষ্টি করে। ঘটনাটি ভূমিকম্প বলে ভীতস্থ স্থানীয়দের তদন্তে এগিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞরা। তাদের অনুসন্ধানের ফলাফল ছিল চমকপ্রদ: ধসে যাওয়া স্থানের নিচে পীট কয়লা (Peat)-এর একটি পুরু স্তর রয়েছে। পীট হলো কয়লা গঠনের প্রাথমিক স্তর, যা তুলনামূলকভাবে কম কার্বনযুক্ত ও নরম। সম্ভবত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে এই পীট স্তরটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে উপরিভাগের মাটি হঠাৎ ধ্বসে পড়ে। এই ঘটনা প্রমাণ করে কাপাসিয়ার মাটির নিচে কত বিশাল পরিমাণে প্রাগৈতিহাসিক জৈবসামগ্রী চাপা পড়ে আছে, যা এখনও কয়লা গঠনের বিভিন্ন ধারায় (পীট, লিগনাইট, বিটুমিনাস) রূপান্তরিত হচ্ছে।

পর্ব-৩: ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন ও নদী ব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া
— তৌফিক সুলতান

কাপাসিয়ার ভূপ্রকৃতি বোঝার জন্য বঙ্গোপসাগরের ভূমিকা অপরিসীম। ভূতাত্ত্বিক সময়কালে সমুদ্রস্তরের ওঠানামা (Eustatic Sea Level Change) এবং ভূমির উত্থান-নিমজ্জন (Tectonic Movement) এর সম্মিলিত প্রভাবে বঙ্গোপসাগর বারবার স্থলভাগের দিকে অগ্রসর (সামুদ্রিক আগ্রাসন বা Transgression) হয়েছে এবং আবার পিছিয়ে (সামুদ্রিক প্রত্যাগমন বা Regression) গেছে। এই আসা-যাওয়ার চক্রই কাপাসিয়ার অসংখ্য খাল, বিল, জলমহল, এবং উঁচু নিচু টেক-টিলার সৃষ্টির পিছনে মূল কারিগর।

বর্তমানে যা "মধুপুর গড়" বা "ভাওয়াল গড়" নামে পরিচিত, তার একটি বৃহৎ অংশজুড়ে আছে কাপাসিয়া। ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক দারা-শামসুদ্দিনের বর্ণনানুযায়ী, উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমি, ঢাকা-ময়মনসিংহের এই গড় অঞ্চল এবং কুমিল্লার লালমাই প্লাইস্টোসিন যুগে সৃষ্ট একই ধরনের ভূমিরূপের অংশ, যাকে বিজ্ঞানীরা 'প্লাইস্টোসিন চত্বর (Pleistocene Terrace)' নাম দিয়েছেন। এর বয়স আনুমানিক দশ লক্ষ বছর। এই চত্বরের সৃষ্টির পিছনে সামুদ্রিক কিংবা জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত (Tidal) পরিবেশে কাদামাটির পলি সঞ্চয় ছিল প্রধান নিয়ামক।

কাপাসিয়ার বর্তমান ভূদৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর নদী ব্যবস্থা। অঞ্চলটিকে প্রায় একটি দ্বীপের মতো বেষ্টন করে আছে তিনটি ঐতিহাসিক নদী: ব্রহ্মপুত্র, বানার ও শীতলক্ষ্যা। এই নদীগুলোর গতিপথ ও সম্পর্ক নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। ঐতিহাসিক যতীন্দ্র মোহন রায় তাঁর 'ঢাকার ইতিহাস' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩২) বানার নদী সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি লিখেছেন, বানার মূলত ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা ছিল যা শীতলক্ষ্যার সাথে মিলিত হতো। কিন্তু প্রাচীনকালে এটি একটি স্বতন্ত্র নদী ছিল, যার উৎস ছিল মধুপুর জঙ্গলের গুপ্ত বৃন্দাবনের কাছে। পরে ব্রহ্মপুত্রের নিম্ন প্রবাহ শুকিয়ে যাওয়ায় বানার নদী ব্রহ্মপুত্রের সাথে সংযুক্ত হয়ে যায় এবং লাখপুর-রাণীগঞ্জ পর্যন্ত পুরো প্রবাহটিই বানার নাম ধারণ করে।

নদীগুলোর এই গতিপথ পরিবর্তনের পিছনে প্রকৃতিক দুর্যোগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ষোড়শ শতাব্দীতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে কাপাসিয়ার পূর্ব দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা ভরাট হয়ে যায় বলে মনে করা হয়। এরপর থেকেই নদীটির মূল গতি পরিবর্তিত হতে থাকে। আবার ১৮৯৭ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্প (যার কেন্দ্র ছিল শিলংয়ে) সমগ্র পূর্ব বাংলার ভূপ্রকৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনে; কাপাসিয়াতেও এর প্রভাব পড়ে ব্যাপকভাবে। এর ফলে অনেক পুরনো নদীখাত ভরাট হয়ে যায়, নতুন জলাভূমির সৃষ্টি হয় এবং শীতলক্ষ্যা নদীও তার জলধারা হারিয়ে অনেকাংশে ক্ষীণ হয়ে পড়ে। এছাড়াও, ১৭৮৭ সালের মেঘনা নদীর মোহনায় ঘটে যাওয়া এক প্রবল ভূমিকম্পও এই অঞ্চলের হাইড্রোলজিতে পরিবর্তন এনেছিল বলে গবেষকরা মনে করেন।

কাপাসিয়ার জলাভূমি ও বিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ঘোরস্বাব জলমহল, যার আয়তন ১২১ একর। এটি একসময়কার শাখা বানার নদীর পরিত্যক্ত খাত, যা কালক্রমে একটি বিরাট ও গভীর জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণদের কথায়, এই জলমহলে একসময় প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ত, যা নদীর সাথে এর যোগাযোগের প্রমাণ দেয়। ব্রহ্মপুত্র, বানার, শীতলক্ষ্যা ছাড়াও কাপাসিয়ায় পুরাতন লক্ষ্যা, আড়াল জুড়ি, পাথরদাড়া, আদিবানার, বড়ধারা নামক ছোট ছোট নদী বা খাল রয়েছে। সর্বমোট ৭৬টি খাল, ২০৪টি বিল ও ১টি বাওর এর অস্তিত্ব এই অঞ্চলের নদীমাতৃক ও জলসম্পদে সমৃদ্ধ ইতিহাসকে নির্দেশ করে।

পর্ব-৪: নামকরণের রহস্য কার্পাস থেকে কাপাসিয়া
— তৌফিক সুলতান

কাপাসিয়া নামটির উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিক ও ভাষাতত্ত্ববিদদের মধ্যে একাধিক মত প্রচলিত আছে। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও প্রমাণসমৃদ্ধ মতটি হলো এর কার্পাস বা তুলা চাষ-এর সাথে সম্পর্কিত। বাংলার ইতিহাসে যে মিহি সুতোর মসলিন কাপড় বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল, সেই মসলিনের মূল কাঁচামাল ছিল অতি সূক্ষ্ম আঁশের কার্পাস তুলা। সংস্কৃত ও হিব্রু ভাষায় তুলাকে "কার্পাস" বলা হয়। এই শব্দটি পারসি ভাষায় "কারবাস" বা "কাপাস" এবং বাংলা ও হিন্দিতেও "কাপাস" রূপে প্রবেশ করে। তুলার গাছকে বাংলায় "কাপাসি গাছ" বলা হয়। গবেষকদের ধারণা, "কাপাসি" (তুলা উৎপাদনকারী অঞ্চল) শব্দটি থেকেই কালক্রমে "কাপাসিয়া" নামের উদ্ভব ঘটেছে।

খ্রিস্টপূর্ব যুগ থেকেই কাপাসিয়া অঞ্চলে ব্যাপক হারে উন্নতমানের কার্পাস তুলার চাষ হতো। নদীর উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ু তুলা চাষের জন্য আদর্শ ছিল। শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরজুড়ে ছিল তুলার বিস্তৃত ক্ষেত। এই তুলা থেকে স্থানীয় কারিগরেরা যে অতি সূক্ষ্ণ সূতা কাটতেন, তা দিয়ে বোনা হতো বিশ্ববিখ্যাত ঢাকাই মসলিন। গ্রিক ঐতিহাসিক দিউ গোরাস খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতেই তাঁর লেখায় এই অঞ্চলের সূক্ষ্ম বস্ত্র ও তার রঙের উপকরণের প্রশংসা করেছিলেন। আরব ও চীনা পর্যটকরাও পরবর্তী সময়ে তাদের ভ্রমণবৃত্তান্তে বাংলার এই বস্ত্রের গুণগত মানের বর্ণনা দিয়েছেন।

মসলিন ছিল সে সময়ের একটি "লাক্সারি গুড"। এটি শুধু বাংলার সুলতান বা নবাবদের প্রিয়ই ছিল না, দিল্লির মোগল দরবার এবং ইউরোপের রাজপ্রাসাদেও এর চাহিদা ছিল ব্যাপক। এই বস্ত্র এতটাই সূক্ষ্ম হতো যে, বলা হতো একটি পুরো শাড়ি একটি আংটির ভেতর দিয়ে টেনে নেওয়া যেত। কাপাসিয়া ছিল এই মসলিন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহকারী কেন্দ্র ও সম্ভবত বাণিজ্যিক হাব। নদীপথে কাপাসিয়া থেকে তুলা ও মসলিন সরবরাহ হতো সোনারগাঁও, ঢাকা ও অন্যান্য বাণিজ্যকেন্দ্রে।

দুর্ভাগ্যবশত, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে এই গৌরবময় শিল্পকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত হয়। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার কুটির শিল্প ধ্বংস করে তাদের ম্যানচেস্টারের কারখানায় উৎপাদিত সস্তা কাপড়ের বাজার দখল করতে চেয়েছিল। স্থানীয় কারিগরদের উপর অমানুষিক কর চাপানো হয়, তাদের আঙ্গুল কেটে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় কিংবদন্তি আছে, যাতে তারা আর সূক্ষ্ম সূতা কাটতে না পারে। এই নৃশংস নীতির ফলে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মসলিন শিল্প অবলুপ্তির পথে যায় এবং কাপাসিয়ার অর্থনীতির একটি স্তম্ভ ভেঙে পড়ে। তবে 'কাপাসিয়া' নামটি আজও সেই সোনালি অতীতের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে।

পর্ব-৫: প্রাচীন নগর সভ্যতা টোক, তাগমা ও একডালা দুর্গের রাজনীতি
— তৌফিক সুলতান

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাপাসিয়া মহাস্থানগড় (পুণ্ড্রনগর) ও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সমসাময়িক, এমনকি সোনারগাঁও বা বিক্রমপুরের চেয়েও প্রাচীন একটি মানববসতির সূতিকাগার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর বিখ্যাত গ্রিক-মিশরীয় ভূগোলবিদ ক্লডিয়াস টলেমি তাঁর 'জিওগ্রাফিয়া' গ্রন্থে গঙ্গারিডাই (বঙ্গ) অঞ্চলের যে সব শহরের তালিকা দিয়েছেন, তার মধ্যে "তোগমা" (Togma), "হাতিবন্ধ" (Hatibandha), "এন্টিভাল" (Antival) এবং "কার্পাসা" (Karpasa) নামগুলো উল্লেখযোগ্য। আধুনিক ঐতিহাসিকরা (যেমন নলিনীকান্ত ভট্টশালী, আহমদ হাসান দানী প্রমুখ) সনাক্ত করেছেন যে, "কার্পাসা" হলো বর্তমানের কাপাসিয়া, "তোগমা" হলো টোক, এবং "হাতিবন্ধ" হলো হাতিবান্ধা। নবম শতকের মুসলিম পরিব্রাজকগণ টলেমির বর্ণিত 'তোগমা'কেই "তাফেক" বা "তাউফ" নামে উল্লেখ করেছেন। উনবিংশ শতকের ঢাকার সিভিল সার্জন জেমস টেলর তাঁর 'টপোগ্রাফি অব ঢাকা' গ্রন্থে শীতলক্ষ্যা ও বানার নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত "এন্টিবোল" (Antibole) শহরের কথা উল্লেখ করেন, যা অনেকের মতে 'তোগমা' বা 'তাগমা' শহরই ছিল। এই সমস্ত বর্ণনা থেকে টোককে একটি প্রাচীন নদীবন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

'টোক' শব্দটির উৎপত্তি ফারসি শব্দ "টোক" (টহঘ) থেকে, যার অর্থ নোঙর করার স্থান বা পোতাশ্রয়। এটি নির্দেশ করে যে, এক সময় ব্রহ্মপুত্র-বানার সঙ্গমস্থলের এই স্থানটি নৌপরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ষষ্ঠ-সপ্তম শতাব্দীতে আরব বণিকদের আগমনের মাধ্যমেই সম্ভবত এই নামটির প্রচলন হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, এই নদীপথ ধরে আরবীয় ও পারসিক বণিকেরা যেমন এখানে এসেছিলেন, তেমনি এসেছিলেন সুফি দরবেশ ও ইসলাম প্রচারকরাও। তারা এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সাথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় করতেন। ১৮৭০-এর দশকে বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী (রহ.) নদীপথে বজরা নৌকায় করে কাপাসিয়ার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ইসলামের শিক্ষা প্রচার করেন, যা এ অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রসারে ভূমিকা রাখে।

প্রাচীন রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে ৫০৭-৫০৮ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় শাসক বৈন্যগুপ্ত বঙ্গে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর রাজধানী ছিল শ্রীপুরে, যা তখন কাপাসিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল বলে ধারণা করা হয়। বৈন্যগুপ্তের পরে বাণিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা শিশুপাল দীঘলিছিট (বর্তমান শ্রীপুর এলাকা) এলাকায় তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। বাংলার বিখ্যাত পাল বংশের সাথে এই বাণিয়া রাজাদের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়। কাপাসিয়ার কপালেশ্বর গ্রামে রাজা শিশুপালের রাজপ্রাসাদ ছিল বলে লোকশ্রুতি রয়েছে। সেখানে একটি বিশাল শানবাঁধানো দিঘি ("কপালেশ্বর দিঘি") এবং কিছু প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ আজও দেখতে পাওয়া যায়। কপালেশ্বরের অদূরে দরদরিয়া গ্রামের "শাহারবিদ্যা কোট" (বা সাহার বিদ্যাকোট) নামক স্থানে রাজা শিশুপালের একটি দুর্গ ছিল। এই দুর্গে তাঁর অন্তঃপুরের রানী ভবানী বসবাস করতেন এবং স্থানটি "রাণীবাড়ি" নামে পরিচিতি পায়। ধারণা করা হয়, রানী ভবানীই ছিলেন বাণিয়া রাজবংশের শেষ উত্তরাধিকারী, যিনি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজীর বাংলা আক্রমণের সময়ও এই দুর্গে অবস্থান করছিলেন।

কাপাসিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাচীন প্রত্নস্থল হলো একডালা দুর্গ। এটি কাপাসিয়া সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বর্তমান দুর্গাপুর ইউনিয়নের তারাগঞ্জ-রাণীগঞ্জ এলাকায়, শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ছিল। জেমস টেলরের বিবরণ অনুযায়ী, এই দুর্গটি ছিল অর্ধচন্দ্রাকৃতির, নদীর পাশ ঘেঁষে নির্মিত। এর দেয়াল ছিল মোটা ও লাল মাটি দিয়ে তৈরি, উচ্চতা ছিল ১২-১৪ ফুট। দুর্গটি ছিল ৫ মাইল লম্বা ও ২ মাইল চওড়া একটি এলাকা জুড়ে, যা একটি প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত পরিখা দ্বারা বেষ্টিত ছিল। দুর্গে প্রবেশের জন্য ছিল পাঁচটি প্রধান গেট। এটি শুধু একটি সামরিক দুর্গই ছিল না, বরং একটি সুরক্ষিত নগর-কেন্দ্রও ছিল।

একডালা দুর্গের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দে। বাংলার স্বাধীন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ তখন এই দুর্গে অবস্থান করছিলেন। দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুগলক বাংলা জয় করার অভিযানে এগিয়ে এসে একডালা দুর্গ অবরোধ করেন। কিন্তু দুর্গটি ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত। কিংবদন্তি আছে যে, ইলিয়াস শাহ একবার ফকিরের ছদ্মবেশে দুর্গ থেকে বের হয়ে স্থানীয় এক দরবেশের জানাজায় অংশ নিয়েও ফিরে আসতে সক্ষম হন। ফিরোজ শাহ মাসের পর মাস অবরোধ চালিয়েও দুর্গ দখল করতে ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত রসদ ও মনোবল হারিয়ে দিল্লি ফিরে যেতে বাধ্য হন। এটি ছিল বাংলার স্বাধীনতার জন্য একটি যুগান্তকারী বিজয়। ১৬শ শতকে সম্রাট আকবরের সময়েও এই দুর্গটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে কালক্রমে নদীর ভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক বিবর্তনে এই দুর্গের অধিকাংশই আজ বিলীন হয়ে গেছে। শুধু "একডালা" গ্রামের নাম এবং "বাংলার টেক", "থানার টেক", "লোহার টেক" এর মতো কিছু উঁচু জায়গার নাম তার স্মৃতি বহন করে চলেছে।

পর্ব-৬: মোগল আমল, ঈসা খাঁ এবং টোকের যুদ্ধ
— তৌফিক সুলতান

মোগল সাম্রাজ্য যখন বাংলাকে পূর্ণভাবে দখলের চেষ্টা করছে, তখন বারভূঁইয়াদের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রতিরোধের একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল কাপাসিয়া ও এর আশেপাশের অঞ্চল। এই যুগের সবচেয়ে বীরত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সাথে জড়িয়ে আছে ঈসা খাঁ এবং টোক অঞ্চল।

মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি শাহবাজ খান ১৫৮৩-৮৪ খ্রিস্টাব্দে ঈসা খাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালান। তিনি ঈসা খাঁর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এগারসিন্দু দখল করে নেন এবং তারপর ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীরে টোক নামক স্থানে একটি শক্তিশালী নৌ-ঘাঁটি (দুর্গ) নির্মাণ করেন। টোক ছিল তখন নৌ-কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ ব্রহ্মপুত্র ও বানার নদের সঙ্গমস্থল এখানেই। শাহবাজ খান প্রায় সাত মাস ধরে টোকে অবস্থান করেন। কিন্তু ঈসা খাঁ ছিলেন কৌশলী। তিনি সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে গেরিলা পদ্ধতিতে মোগল সৈন্যদের হarrass করতে থাকেন। বর্ষাকালে যখন সমগ্র এলাকা প্লাবিত হয়, ঈসা খাঁ এক সাহসী অপারেশন পরিচালনা করেন। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের একটি বাঁধ ভেঙে দেন, যার ফলে প্রচণ্ড স্রোতের পানিতে মোগলদের নৌ-ঘাঁটি ও শিবির ভেসে যায়। এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণে মোগল বাহিনী বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং শাহবাজ খানকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এটি ছিল ঈসা খাঁর একটি বড় কৌশলগত বিজয়।

এরপর ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে আকবরের অন্যতম সেরা সেনাপতি রাজা মানসিংহ বাংলার সুবেদার হিসেবে দায়িত্ব পান। মানসিংহও ঈসা খাঁকে দমনের জন্য অভিযান চালান। টোক বা এর আশেপাশের নদীপথে উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধ নিয়ে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে: যুদ্ধের এক পর্যায়ে মানসিংহের তলোয়ার ভেঙে যায়। ঈসা খাঁ, যোদ্ধার নীতিতে বিশ্বাসী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে নিজের একটি তলোয়ার মানসিংহকে উপহার দেন। এই মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে মানসিংহ ঈসা খাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং পরবর্তীতে সম্রাট আকবরের কাছে সুপারিশ করেন। ফলস্বরূপ, আকবর ঈসা খাঁকে তাঁর রাজ্য স্বীকার করে নেন এবং তাকে "বাইশ পরগনা" (২২টি জেলা) এর জমিদারি দান করেন, যার মধ্যে কাপাসিয়া অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সন্ধির মাধ্যমে ঈসা খাঁ আনুষ্ঠানিকভাবে মোগল কর্তৃত্ব মেনে নিলেও প্রকৃতপক্ষে স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখেন।

১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার ইসলাম খান রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে কাপাসিয়ার দ্বার-ই-দরিয়া (দরদরিয়া) এলাকায় আসেন। কিন্তু এই স্থানটি উঁচু-নিচু ও সম্ভবত বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় রাজধানী স্থাপনের জন্য অনুকূল মনে করলেন না। ফলে তিনি সেখান থেকে সরে এসে ঢাকায় (জাহাঙ্গীরনগর) রাজধানী স্থাপন করেন। এটি কাপাসিয়ার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—যদি দ্বার-ই-দরিয়া রাজধানী হতো, তবে কাপাসিয়ার গতিপথ সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত।

মোগল আমলেই কাপাসিয়ার গুরুত্ব বস্ত্রশিল্প ছাড়াও লৌহশিল্পের জন্য প্রতিষ্ঠা পায়। সম্রাট আকবরের দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাঁর "আইন-ই-আকবরি" গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, "ঢাকার নিকটবর্তী কাপাসিয়া অঞ্চল থেকে লোহা উত্তোলন করা হতো।" এই লোহা দিয়ে কামারগাঁওয়ের (বর্তমান কাপাসিয়ার একটি গ্রাম) স্থানীয় কামাররা উচ্চমানের অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করত, যা বারভূঁইয়া ঈসা খাঁর বাহিনী ব্যবহার করত। এমনকি মোগল সেনাবাহিনীর কিছু কামানও এই লোহা দিয়ে তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। কাপাসিয়ার লোহাদী গ্রামের নামই এসেছে এই লৌহখনি (লোহা+আদি= লোহার উৎসস্থল) থেকে। ব্রিটিশ আমলের ঢাকার সিভিল সার্জন ড. জেমস ওয়াইজও তাঁর রিপোর্টে কাপাসিয়ার লৌহ আকরিকের কথা উল্লেখ করেন। আজও লোহাদী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাটি খুঁড়লে লৌহসমৃদ্ধ পাথর বা "আয়রন হুড" এর সন্ধান মেলে। এটি প্রমাণ করে ভূগর্ভে এখনও লৌহের মজুদ রয়েছে।

পর্ব-৭: প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার মাটির নিচের সভ্যতার ইঙ্গিত
— তৌফিক সুলতান

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কাপাসিয়ার বিভিন্ন স্থানে হওয়া কিছু আকস্মিক আবিষ্কার এর প্রাচীন সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে:

১. বারাব বাজারের নৌকা (১৯৭৬-৭৭): বারাব গ্রামে একটি মসজিদের কূপ খনন করার সময়, প্রায় ৩৩ ফুট (২২ হাত) গভীরতায় শ্রমিকরা একটি বৃহদাকার নৌকার ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পান। কূপের সংকীর্ণ জায়গা থেকে নৌকাটি উত্তোলন সম্ভব না হলেও এর কিছু কাঠামো দেখা গিয়েছিল। আরও মজার বিষয় হলো, নৌকার কাছাকাছি আরও গভীরে একটি বৃহৎ হিজল গাছের গুঁড়ির সন্ধান মেলে। এটি প্রমাণ করে এই এলাকাটি, যেখানে এখন স্থলভাগ, একসময় হয়তো একটি নদীখাত বা জলাভূমি ছিল। এই নৌকাটি সম্ভবত মধ্যযুগীয় বা তারও আগের সময়ের।

২. লোহাদীর গ্যাসপানির কূপ (১৯৬৮-৬৯): পূর্ব লোহাদী গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে কূপ খননকালে মাটির গভীরে এক ধরনের লালচে-কালো, গাঢ় ও গন্ধযুক্ত পানি পাওয়া যায়। কিছুদিন পরে কূপ থেকে গ্যাসের মতো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেলে স্থানীয় লোকজন ভীত হয়ে কূপটি দ্রুত ভরাট করে দেয়। এটি খুব সম্ভবত প্রাকৃতিক গ্যাস বা ক্রুড অয়েলের একটি আভাস ছিল, যা ভূগর্ভস্থ পেট্রোলিয়াম স্তরের সাথে সম্পর্কিত।

৩. চরখামেরের পদ্মপাতা (১৯৮৫-৮৬): চরখামের গ্রামে পুকুর খনন করতে গিয়ে প্রায় ৮-১০ ফুট নিচে খননকারীরা সারি সারি পদ্মফুলের পাতা-র জীবাশ্ম দেখতে পান। এ থেকে স্পষ্ট যে, ওই স্থানে কোনো এক প্রাচীন যুগে একটি অগভীর বিল, জলাভূমি বা নদীর অংশ ছিল, যেখানে প্রচুর পদ্মফুল ফুটত। কালক্রমে পলি জমে তা ভরাট হয়ে যায় এবং পদ্মপাতাগুলো জীবাশ্মে পরিণত হয়।

৪. টোক ও কপালেশ্বরের ইটের সড়ক: স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কপালেশ্বরের বড় দিঘির উত্তর পাড়ের মাটির নিচে একটি প্রাচীন ইটের রাস্তা আছে, যা টোক শহরের দিকে চলে গেছে। অতীতে মানুষ মাটি খুঁড়ে এই ইট বের করে বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করত। কপালেশ্বর ও টোকের মধ্যে যে একটি সড়ক যোগাযোগ ছিল, তা এই অঞ্চলের প্রাচীন নগর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। টোক শহরের নিকটবর্তী সুলতানপুর গ্রামে একটি প্রাচীন শাহী মসজিদ আছে। ব্রহ্মপুত্রের ওপারে এগারসিন্দু এলাকায় একই রকমের আরও তিনটি মসজিদ ছিল বলে জানা যায়, যার একটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

৫. ওয়ারী-বটেশ্বরের সাথে যোগসূত্র: নিকটবর্তী নরসিংদী জেলার বেলাব ও মনোহরদী উপজেলায় ওয়ারী-বটেশ্বর নামক স্থানে প্রায় ২৫০০ বছর পুরনো একটি প্রাচীন নগর সভ্যতার সন্ধান মিলেছে। সেখানে প্রচুর রৌপ্য মুদ্রা, মাটির সিল, পুঁতি ও উন্নত নগর পরিকল্পনার নিদর্শন পাওয়া গেছে। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিকের ধারণা, টোক নগরীও ওয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতার সমসাময়িক বা তার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদীপথে ওয়ারী-বটেশ্বরের পণ্য টোক হয়ে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি হতো। হয়তো একদিন কাপাসিয়ার মাটির নিচেও ওয়ারী-বটেশ্বরের মতো একটি নগরকেন্দ্রের সন্ধান মিলবে।

পর্ব-৮: খনিজ সম্পদ কয়লা, গ্যাস ও লোহার সম্ভাবনার ভাণ্ডার
— তৌফিক সুলতান

কাপাসিয়া শুধু ইতিহাসে সমৃদ্ধ নয়, প্রাকৃতিক সম্পদের দিক দিয়েও বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানে তিন ধরনের খনিজ সম্পদের উপস্থিতি নিশ্চিত বা আভাসিত হয়েছে: কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং লৌহ আকরিক।

১. কয়লা: পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে, কাপাসিয়ার প্রাচীন বনভূমির জীবাশ্ম হিসেবে ভূগর্ভে কয়লা স্তর রয়েছে। ২০০৪ সালে দস্যুনারায়ণপুরে ধ্বসের ঘটনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে পীট কয়লা-এর একটি স্তর আছে। পীট হল কয়লা গঠনের প্রথম ধাপ, যা পরে লিগনাইট ও বিটুমিনাস কয়লায় রূপান্তরিত হয়। এই পীট কয়লা শক্তির একটি উৎস হতে পারে, তবে এর পরিমাণ ও বাণিজ্যিক সাশ্রয়িতা নির্ধারণের জন্য বিস্তর গভীর অনুসন্ধান (exploratory drilling) প্রয়োজন।

২. প্রাকৃতিক গ্যাস: এটি কাপাসিয়ার সবচেয়ে আলোচিত প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ২০০৫ সাল থেকে এই এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। তাদের অনুসন্ধানে তিনটি প্রধান স্থানে গ্যাসের সন্ধান মেলে:

· রায়েদ ইউনিয়নের বেলাসী গ্রাম
· সিংহশ্রী ইউনিয়নের কুড়িয়াদী গ্রাম
· বারিষাব ইউনিয়নের বর্জাপুর গ্রাম
  বাপেক্সের প্রাথমিক অনুমান ছিল যে, এই তিনটি স্থানে মোট ৫০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকতে পারে, যা একটি মধ্যম আকারের গ্যাসক্ষেত্রের সমতুল্য। এছাড়াও, সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়াল ও চরসনমানিয়া, কড়িহাতা ইউনিয়নের চরখামের এলাকাতেও গ্যাসের উপস্থিতির কথা স্থানীয়ভাবে বলা হয়। সবচেয়ে মজার তথ্য হলো, ব্রিটিশ আমলেই সম্ভবত দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাওনাট-বড়ব্রিজ এলাকার একটি খালের ধারে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তখনকার প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের অভাবে তা উত্তোলন করা হয়নি, শুধু একটি লোহার পিলার দিয়ে স্থানটি চিহ্নিত করে রাখা হয়েছিল। আজও সেটি ধানখেতের মাঝে দেখা যায়। এই গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সফল উত্তোলন শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাপাসিয়ার ভূমিকা পালটে দিতে পারে।

৩. লৌহ আকরিক: মোগল আমল থেকে লোহাদী এলাকার লৌহ উত্তোলনের কথা ইতিহাসে উল্লেখ আছে। স্থানটির নামই ("লোহার আদি স্থান") এর সাক্ষ্য দেয়। মাটির উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লৌহ-অক্সাইডের প্রলেপ (আয়রন হুড) দেখে বোঝা যায় ভূগর্ভে লৌহের মজুদ থাকা খুবই সম্ভব। তবে আধুনিক মানদণ্ডে এর পরিমাণ ও গুণগত মান নির্ধারণ এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কি না, তা নির্ভর করবে বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক জরিপের ওপর।

পর্ব-৯: প্রশাসনিক বিবর্তন: থানা থেকে উপজেলা
— তৌফিক সুলতান
কাপাসিয়ার প্রশাসনিক ইতিহাস বেশ বিবর্তনশীল। ব্রিটিশ শাসনামলে এর সীমানা ও মর্যাদা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।

· ১৮৬১: মহারাণী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে 'বেঙ্গল পুলিশ অ্যাক্ট' পাশ হয় এবং কতগুলো কোতয়ালী থানা গঠিত হয়। সম্ভবত তখনই কাপাসিয়া নামে একটি থানার আভাস পাওয়া যায়।
· ১৮৬৫: কাপাসিয়া-গফরগাঁও থানার মধ্যে 'কংশ' নামে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়, যা মাত্র পাঁচ বছর চলার পর বন্ধ হয়ে যায়।
· ১৮৮০: কাপাসিয়া থানা পুনঃস্থাপিত হয়। এই থানার অধীনে ছিল আজকের কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও শ্রীপুর—এই তিনটি উপজেলা মিলিয়ে বিশাল এলাকা। বলা হয়, তখন ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল ২৮টি।
· ১৯১০-এর দশক: প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বৃটিশ সরকার এই বৃহৎ থানাকে তিনটি ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
· ১৯২৪: আনুষ্ঠানিকভাবে কাপাসিয়া থানাকে বিভক্ত করে তিনটি পৃথক থানা গঠন করা হয়:
  · কাপাসিয়া থানা: ১নং থেকে ১০নং ইউনিয়ন নিয়ে।
  · কালীগঞ্জ থানা: ১১নং থেকে ২০নং ইউনিয়ন নিয়ে।
  · শ্রীপুর থানা: ২১নং থেকে ২৮নং ইউনিয়ন নিয়ে।
· ১৯৫৯: তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করে কাপাসিয়া থানার সিংহশ্রী ইউনিয়নকে ভাগ করে সিংহশ্রী ও রায়েদ নামে দুটি ইউনিয়ন তৈরি করে।
· ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৮২: বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে কাপাসিয়া থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।

বর্তমানে কাপাসিয়া উপজেলার আয়তন ৩৫৬.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। এটি গাজীপুর জেলার অন্তর্গত এবং ভৌগোলিক অবস্থান ২৩°০৫´ থেকে ২৪°০১´ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০°০২´ থেকে ৯০°৪৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। উপজেলাটি ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।

পর্ব-১০: অতীতের মণিমুক্তো, ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দিগন্ত
— তৌফিক সুলতান

কাপাসিয়া, যার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলার সোনালি মসলিন যুগের স্মৃতি, আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি সুবিশাল ও অখণ্ড অধ্যায়। এটি শুধু একটি উপজেলা নয়; এটি একটি জীবন্ত ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর, একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ধনাগার এবং একটি প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার।

· এটি আমাদের জানায়, কীভাবে ২৫ লক্ষ বছর আগে সাগরগর্ভ থেকে উঠে এসে তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের আদি ভূখণ্ড।
· এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, কীভাবে প্রাক-ইতিহাসের ঘন অরণ্য আজ কয়লায় রূপান্তরিত হয়ে ভূগর্ভে শায়িত আছে।
· এটি বলছে টলেমির যুগের বাণিজ্যনগরী তাগমা কিংবা এন্টিবোলের গল্প।
· এটি ফুটিয়ে তোলে রাজা শিশুপালের রাজধানী, রানী ভবানীর দুর্গ এবং একডালার সেই দুর্ভেদ্য কেল্লার ইতিবৃত্ত, যেখানে ইলিয়াস শাহ দিল্লির সুলতানকে হার মানিয়েছিলেন।
· এটি কাহিনী বলে ঈসা খাঁর বীরত্বের, টোকের নৌযুদ্ধের এবং মোগল-বারভূঁইয়া সংঘাতের।
· এটি সাক্ষ্য দেয় মসলিনের স্বর্ণযুগের, যার নামে এই অঞ্চলের নামকরণ।
· এটি ইঙ্গিত করে লৌহশিল্পের একটি সম্ভাবনাময় অতীতের।
· এবং সবশেষে, এটি আমাদের আশার আলো দেখায় প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের।

কাপাসিয়ার মাটি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের জন্য এক অফুরন্ত ক্ষেত্র। এখানে ব্যাপকভাবে ব্যবস্থাপত্রিক খনন (Stratigraphic Excavation) পরিচালনা করা হলে বাংলাদেশের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাসের অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে। একই সাথে, এর খনিজ সম্পদের যথাযথ অন্বেষণ ও ব্যবস্থাপনা আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

কাপাসিয়ার ইতিহাস, তাই, শুধু স্থানীয় ইতিহাস নয়; এটি বাংলার গৌরবময় অতীত, বৈচিত্র্যময় বর্তমান এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একটি জাতীয় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা, গবেষণা ও চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের শিকড়ের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারি এবং একটি সুসভ্য, সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ার পথে এগিয়ে যেতে পারি।

তৌফিক সুলতান,প্রধান নির্বাহী পরিচালক - ওয়েলফশন মানব কল্যাণ সংঘ,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
প্রভাষক - বি.জে.এস. এম মডেল কলেজ,মনোহরদী, নরসিংদী।
towfiqsultan.e@gmail.com
01301483833



Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...

বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫

Merit Scholarship Exam – 2025

Merit Scholarship Exam – 2025

Lailee-Siraj Foundation Merit Scholarship Exam 2025
B.J.S.M MODEL COLLEGE

Lailee-Siraj Foundation Merit Scholarship Exam – 2025

Organized by B.J.S.M Model College, Monohardi, Narsingdi

College Code: 3074 | EIIN: 140263 | Established: September 09, 2009

Motto: "Small effort for talent development – Know Thyself"

"Small effort for talent development – Know Thyself"

Your Roll Number: 20091
Your application has been submitted successfully! Admit card has been generated.

Application Form

Student Information

Please enter name correctly in both languages

Address

Enter 11-digit mobile number

ADMIT CARD

Lailee-Siraj Foundation Merit Scholarship Exam - 2025

20091
B.J.S.M Model College, Hatirdia, Monohardi, Narsingdi

Instructions for Examinees

  • Be present at the exam center at the scheduled time
  • No one will be allowed to take the exam without an admit card
  • Bring pen, pencil, eraser, ruler and necessary materials
  • Mobile phones or smart devices are prohibited in the exam hall
  • Complete the exam with discipline and honesty
  • Be present at the exam center 30 minutes before the exam starts




Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...

বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

Ensure the healthcare of Narottampur Community Clinic

Ensure the healthcare of Narottampur Community Clinic

Closure of Narottampur Community Clinic: A Healthcare Crisis

Closure of Narottampur Community Clinic

Thousands in Barishab Union Deprived of Essential Healthcare Services

Healthcare Crisis in Rural Bangladesh

Barishab Union, located in Kapasia Upazila of Gazipur District, spans an area of approximately 39.85 square kilometers and is home to a population of 60,139 people. The closure of the Narottampur Community Clinic has created a healthcare vacuum affecting thousands of vulnerable residents.

60,139
Total Population
13,700
Patients Served
50-70
Daily Patients
2000
Year Established

The Impact of Clinic Closure

The Narottampur Community Clinic, established in 2000 on land donated by local social worker Abdul Kuddus, was a vital healthcare provider for the local population. It offered essential services including prenatal and postnatal care, vaccination programs, nutritional guidance, and general medical treatment.

Critical Situation: The clinic has remained closed for weeks, with doctors and health workers irregularly present or completely absent. Patients arriving for treatment find locked doors, forcing them to travel 11-13 kilometers to the Kapasia Upazila Health Complex.

This extended travel creates significant barriers to healthcare access due to transportation costs, lost time, and overcrowding at the distant facility. Local reports indicate that minor illnesses are worsening into severe conditions, with some deaths potentially linked to the clinic's prolonged closure.

Villages Affected

The clinic served an estimated 13,700 residents from nearby villages:

Gaora: 5,084
Bhera Chala: 549
Bori Chala: 1,468
Narottampur: 3,030
Chenga: 1,097
Chhoka Chala: 756
Pinguli: 1,708
Batna & Others

Official Complaint Filed

A formal complaint has been submitted via the government's Online Grievance Management System (GRS):

Tracking Number: 13014838330002

Submission Date: November 5, 2025

Reviewing Authorities: Directorate General of Health Services (DGHS), Upazila Health and Family Planning Officer (UHFPO), and Civil Surgeon of Gazipur

Concerns About Private Interests

Adding to community concerns, private hospital and doctor advertisements are prominently displayed on the clinic premises, raising suspicions that government healthcare services are being neglected in favor of private providers. This practice violates regulations regarding the use of government facilities.

Recommended Solutions

  • Digital Monitoring System: Implement online attendance and service records visible to the public
  • Community Health Volunteers: Train local youth to assist with healthcare services
  • Coordinated Oversight: Establish monitoring committees with local representatives
  • Ban on Private Advertisements: Prohibit private ads on government clinic premises
  • Dedicated Helpline: Create direct complaint channels for residents

Broader Implications

The situation at Narottampur Community Clinic reflects a national challenge, as thousands of community clinics across Bangladesh face similar issues of absentee staff, inadequate monitoring, and insufficient resources.

Primary healthcare is a constitutional right, not a luxury. When a clinic closes its doors, it is not merely a building that shuts down; it is access to life-saving healthcare that becomes unavailable to the most vulnerable members of society.

Take Action for Healthcare Rights

The government's commitment to "Health for All" can only be fulfilled when facilities like the Narottampur Community Clinic are fully functional, ensuring reliable and accessible healthcare for every resident.

Support This Cause

Published by: Local Citizen & Public Health Activist

Source: Official Archive - https://d-a-news-p.blogspot.com/2025/11/authors-official-archive.html





Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...