Welftion News Update লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Welftion News Update লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের পাহাড়, ঝরনা ও প্রকৃতির স্বর্গ: কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে ট্রেনে ১১ দিনের পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড

বাংলাদেশের পাহাড়, ঝরনা ও প্রকৃতির স্বর্গ: কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে ট্রেনে ১১ দিনের পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড

HD
ভ্রমণ রুট ম্যাপ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
VOL

🗺️ রুট ম্যাপ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য — পৃষ্ঠা উল্টে দেখুন

🏔️ বাংলাদেশের পাহাড়, ঝরনা ও প্রকৃতির স্বর্গ

কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে ট্রেনে ১১ দিনের পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড

🗺️ সম্পূর্ণ ভ্রমণ রুট

🏠 কাপাসিয়া 🚂 ভৈরব/ঢাকা 🏙️ চট্টগ্রাম ⛰️ সীতাকুণ্ড 🌊 মিরসরাই 🏞️ বান্দরবান 🚣 থানচি 🕳️ দেবতাখুম 💧 নাফাখুম 🌿 আমিয়াখুম 🏘️ খাগড়াছড়ি ☁️ সাজেক 🕌 সিলেট 🏠 কাপাসিয়া

📅 ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

🌧️ জুলাই–সেপ্টেম্বর
  • ঝরনা সবচেয়ে সুন্দর
  • নদী ও খুম পানিতে ভরপুর
  • সবুজ প্রকৃতি
  • বৃষ্টি বেশি, ট্রেইল পিচ্ছিল
☀️ অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
  • ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ
  • আকাশ পরিষ্কার
  • মেঘ দেখার সুযোগ
  • পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত

📋 দিনভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা

🗓️ ১ম দিন — কাপাসিয়া → চট্টগ্রাম

সকালে কাপাসিয়া থেকে বাসে ভৈরব অথবা ঢাকায় যান। সেখান থেকে রাতের আন্তঃনগর ট্রেনে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন। রাতের ট্রেন ভ্রমণ বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা।

🗓️ ২য় দিন — সীতাকুণ্ড

দর্শনীয় স্থান: চন্দ্রনাথ পাহাড়, চন্দ্রনাথ মন্দির, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগ করুন। রাত সীতাকুণ্ডে।

🗓️ ৩য় দিন — মিরসরাই

ভ্রমণ: খৈয়াছড়া ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, ছোট ছোট ঝরনা, পাহাড়ি ঝিরি। রাত সীতাকুণ্ড অথবা চট্টগ্রাম।

🗓️ ৪র্থ দিন — বান্দরবান

ভ্রমণ: নীলাচল, নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, শৈলপ্রপাত। সূর্যাস্ত উপভোগ করুন।

🗓️ ৫ম দিন — থানচি

নৌকায় যাত্রা করে দেখবেন: সাঙ্গু নদী, পাহাড়, আদিবাসী গ্রাম। রাত থানচি।

🗓️ ৬ষ্ঠ দিন — দেবতাখুম

বাংলাদেশের সবচেয়ে রহস্যময় প্রাকৃতিক স্থানগুলোর একটি। সরু পাহাড়ি নদী, বিশাল পাথর, গুহার মতো পরিবেশ, নৌকা ভ্রমণ।

🗓️ ৭ম দিন — নাফাখুম ও আমিয়াখুম

এই দিনটি পুরো সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয়। নাফাখুম জলপ্রপাত, সাতভাইখুম, আমিয়াখুম, ভেলাখুম (সময় থাকলে)। অবশ্যই নিবন্ধিত স্থানীয় গাইড নিয়ে ট্রেক করবেন।

🗓️ ৮ম দিন — খাগড়াছড়ি

আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝরনা, তারেং, পাহাড়ি রাস্তা, আদিবাসী সংস্কৃতি।

🗓️ ৯ম দিন — সাজেক ভ্যালি

রুইলুই পাড়া, কংলাক পাহাড়, হেলিপ্যাড, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, মেঘের সমুদ্র। রাত সাজেক অথবা খাগড়াছড়ি।

🗓️ ১০ম দিন — সিলেট

ট্রেনে সিলেট পৌঁছে ভ্রমণ: লালাখাল, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।

🗓️ ১১তম দিন — সিলেট → কাপাসিয়া

বিছানাকান্দি, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, জাফলং (সময় থাকলে), পান্থুমাই ঝরনা (দূর থেকে)। রাতে ট্রেনে ভৈরব/ঢাকা হয়ে কাপাসিয়া ফিরে আসুন।

💰 মোট আনুমানিক বাজেট (প্রতি ব্যক্তি)

খাতখরচ (টাকা)
🚂 ট্রেন২,৫০০ – ৪,০০০
🚌 বাস৩,৫০০ – ৫,০০০
🛺 স্থানীয় পরিবহন২,০০০ – ৩,০০০
🏨 হোটেল৫,০০০ – ৮,০০০
🍛 খাবার৩,০০০ – ৪,৫০০
🧑‍🏫 গাইড২,০০০ – ৪,০০০
📦 অন্যান্য১,৫০০ – ২,০০০
🔹 মোটপ্রায় ১৮,০০০ – ২৮,০০০

🎒 সঙ্গে যা রাখবেন

🪪 জাতীয় পরিচয়পত্র
👟 ট্রেকিং জুতা
🧥 রেইনকোট
🎒 ব্যাগ কভার
🔋 পাওয়ার ব্যাংক
🔦 টর্চ
💧 পানির বোতল
🍪 শুকনো খাবার
💊 প্রাথমিক চিকিৎসা কিট
🦟 মশার স্প্রে
🧴 সানস্ক্রিন
👕 অতিরিক্ত কাপড়
🛍️ জলরোধী ব্যাগ

⚠️ নিরাপত্তা নির্দেশনা

  • একা দুর্গম ট্রেইলে যাবেন না।
  • স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন।
  • পাহাড়ে প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলবেন না।
  • বর্ষাকালে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।
  • নিবন্ধিত গাইড ছাড়া দুর্গম ট্রেক করবেন না।
  • স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান।

🌟 ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ

☁️ মেঘের রাজ্য সাজেক
💧 আমিয়াখুম জলপ্রপাত
🌊 নাফাখুমের গর্জন
🕳️ দেবতাখুমের রহস্যময় নৌপথ
🏔️ নীলগিরির মেঘ ছোঁয়া পাহাড়
💦 খৈয়াছড়ার বহু ধাপের ঝরনা
🥾 নাপিত্তাছড়ার ট্রেকিং
🌳 রাতারগুলের জলাবন
💎 বিছানাকান্দির স্বচ্ছ পানি
🏞️ লালাখালের নীল-সবুজ নদী
🌊 মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
🕳️ আলুটিলা গুহা
💧 রিছাং ঝরনা
🎭 আদিবাসী সংস্কৃতি
🍛 পাহাড়ি খাবার
🦜 প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য

বাংলাদেশের পাহাড়, ঝরনা ও প্রকৃতির স্বর্গ: কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে ট্রেনে ১১ দিনের পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড

যদি আপনি এক সফরে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পাহাড়, ঝরনা, মেঘ, নদী, গুহা, বন এবং আদিবাসী সংস্কৃতি দেখতে চান, তাহলে এই ভ্রমণ পরিকল্পনাটি আপনার জন্য। এটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একই পথ বারবার যেতে না হয় এবং যতটা সম্ভব ট্রেনে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করা যায়।


ভ্রমণ রুট


কাপাসিয়া → ভৈরব/ঢাকা → চট্টগ্রাম → সীতাকুণ্ড → মিরসরাই → বান্দরবান → থানচি → দেবতাখুম → নাফাখুম → আমিয়াখুম → বান্দরবান → খাগড়াছড়ি → সাজেক → খাগড়াছড়ি → চট্টগ্রাম → সিলেট → কাপাসিয়া


ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

জুলাই–সেপ্টেম্বর

  • ঝরনা সবচেয়ে সুন্দর।
  • নদী ও খুম পানিতে ভরপুর।
  • সবুজ প্রকৃতি।
  • বৃষ্টি বেশি, ট্রেইল পিচ্ছিল।

অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি

  • ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
  • আকাশ পরিষ্কার।
  • মেঘ দেখার সুযোগ থাকে।
  • পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।

১ম দিন

কাপাসিয়া → ভৈরব/ঢাকা → চট্টগ্রাম (ট্রেনে)

সকালে কাপাসিয়া থেকে বাসে ভৈরব অথবা ঢাকায় যান। সেখান থেকে রাতের আন্তঃনগর ট্রেনে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন।

রাতের ট্রেন ভ্রমণ বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা।


২য় দিন

সীতাকুণ্ড

দর্শনীয় স্থান

  • চন্দ্রনাথ পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির
  • গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগ করুন।

রাত সীতাকুণ্ডে।


৩য় দিন

মিরসরাই

ভ্রমণ করুন

  • খৈয়াছড়া ঝরনা
  • নাপিত্তাছড়া ট্রেইল
  • ছোট ছোট ঝরনা
  • পাহাড়ি ঝিরি

রাত সীতাকুণ্ড অথবা চট্টগ্রাম।


৪র্থ দিন

বান্দরবান

ভ্রমণ

  • নীলাচল
  • নীলগিরি
  • চিম্বুক পাহাড়
  • শৈলপ্রপাত

সূর্যাস্ত উপভোগ করুন।


৫ম দিন

থানচি

নৌকায় যাত্রা

দেখবেন

  • সাঙ্গু নদী
  • পাহাড়
  • আদিবাসী গ্রাম

রাত থানচি।


৬ষ্ঠ দিন

দেবতাখুম

বাংলাদেশের সবচেয়ে রহস্যময় প্রাকৃতিক স্থানগুলোর একটি।

দেখবেন

  • সরু পাহাড়ি নদী
  • বিশাল পাথর
  • গুহার মতো পরিবেশ
  • নৌকা ভ্রমণ

৭ম দিন

নাফাখুম ও আমিয়াখুম

এই দিনটি পুরো সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

দেখবেন

  • নাফাখুম জলপ্রপাত
  • সাতভাইখুম
  • আমিয়াখুম
  • ভেলাখুম (সময় থাকলে)

এখানে অবশ্যই নিবন্ধিত স্থানীয় গাইড নিয়ে ট্রেক করবেন।


৮ম দিন

খাগড়াছড়ি

দেখুন

  • আলুটিলা গুহা
  • রিছাং ঝরনা
  • তারেং
  • পাহাড়ি রাস্তা
  • আদিবাসী সংস্কৃতি

৯ম দিন

সাজেক ভ্যালি

ভ্রমণ

  • রুইলুই পাড়া
  • কংলাক পাহাড়
  • হেলিপ্যাড
  • সূর্যোদয়
  • সূর্যাস্ত
  • মেঘের সমুদ্র

রাত সাজেক অথবা খাগড়াছড়ি।


১০ম দিন

সিলেট

ট্রেনে সিলেট পৌঁছে ভ্রমণ করুন

  • লালাখাল
  • রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট

১১তম দিন

সিলেট

দেখুন

  • বিছানাকান্দি
  • মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
  • জাফলং (সময় থাকলে)
  • পান্থুমাই ঝরনা (সময় ও সীমান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী দূর থেকে দর্শন)

রাতে ট্রেনে ভৈরব/ঢাকা হয়ে কাপাসিয়া ফিরে আসুন।


মোট আনুমানিক বাজেট (প্রতি ব্যক্তি)

  • ট্রেন: ২,৫০০–৪,০০০ টাকা
  • বাস: ৩,৫০০–৫,০০০ টাকা
  • স্থানীয় পরিবহন: ২,০০০–৩,০০০ টাকা
  • হোটেল: ৫,০০০–৮,০০০ টাকা
  • খাবার: ৩,০০০–৪,৫০০ টাকা
  • গাইড: ২,০০০–৪,০০০ টাকা
  • অন্যান্য: ১,৫০০–২,০০০ টাকা

মোট: প্রায় ১৮,০০০–২৮,০০০ টাকা।


সঙ্গে যা রাখবেন

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • ট্রেকিং জুতা
  • রেইনকোট
  • ব্যাগ কভার
  • পাওয়ার ব্যাংক
  • টর্চ
  • পানির বোতল
  • শুকনো খাবার
  • প্রাথমিক চিকিৎসার কিট
  • মশার স্প্রে
  • সানস্ক্রিন
  • অতিরিক্ত কাপড়
  • জলরোধী ব্যাগ

নিরাপত্তা নির্দেশনা

  • একা দুর্গম ট্রেইলে যাবেন না।
  • স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন।
  • পাহাড়ে প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলবেন না।
  • বর্ষাকালে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।
  • নিবন্ধিত গাইড ছাড়া দুর্গম ট্রেক করবেন না।
  • স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান।

ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ

  • মেঘের রাজ্য সাজেক
  • বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর জলপ্রপাত আমিয়াখুম
  • নাফাখুমের গর্জন
  • দেবতাখুমের রহস্যময় নৌপথ
  • নীলগিরির মেঘ ছোঁয়া পাহাড়
  • খৈয়াছড়ার বহু ধাপের ঝরনা
  • নাপিত্তাছড়ার ট্রেকিং অভিজ্ঞতা
  • রাতারগুলের জলাবন
  • বিছানাকান্দির স্বচ্ছ পানি
  • লালাখালের নীল-সবুজ নদী
  • মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত
  • আলুটিলা গুহা
  • রিছাং ঝরনা
  • আদিবাসী সংস্কৃতি, পাহাড়ি খাবার এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য

Towfiq Sultan



বাংলাদেশের পাহাড়, ঝরনা ও প্রকৃতির স্বর্গ

ট্রেনে কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে ১১ দিনের পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড

লেখক: তৌফিক সুলতান


উৎসর্গ

বাংলাদেশের অপরূপ প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁতে চান, ঝরনার গর্জনে হারিয়ে যেতে চান এবং দেশের সৌন্দর্যকে নিজের চোখে দেখতে চান—তাদের সকলের জন্য এই বই।


লেখকের কথা

বাংলাদেশকে আমরা প্রায়ই নদীমাতৃক দেশ হিসেবে চিনি। কিন্তু এই দেশের আরেকটি রূপ রয়েছে—সবুজ পাহাড়, মেঘে ঢাকা উপত্যকা, অরণ্যের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনা, স্বচ্ছ নীল নদী, গুহা, খুম, জলাবন এবং বৈচিত্র্যময় আদিবাসী সংস্কৃতি। এই সৌন্দর্যের অনেকটাই এখনও অনেক ভ্রমণপিপাসুর অজানা।

এই বইয়ের লক্ষ্য শুধু কোথায় যাবেন তা বলা নয়; বরং কীভাবে পরিকল্পনা করবেন, কত খরচ হবে, কোথায় থাকবেন, কী খাবেন, কীভাবে নিরাপদে ট্রেক করবেন এবং কীভাবে প্রকৃতিকে রক্ষা করে দায়িত্বশীল ভ্রমণ করবেন—তার একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেওয়া।

এই গাইডটি বিশেষভাবে তাদের জন্য, যারা গাজীপুরের কাপাসিয়া বা আশপাশ থেকে ট্রেনে ভ্রমণ শুরু করে এক সফরে বাংলাদেশের প্রধান পাহাড়ি ও প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরে দেখতে চান।


সূচিপত্র

১. বাংলাদেশের পাহাড় ও ঝরনার পরিচিতি
২. কেন এই ভ্রমণ করবেন
৩. ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
৪. প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
৫. ট্রেনে যাত্রার পরিকল্পনা
৬. চট্টগ্রাম অধ্যায়
৭. সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই
৮. বান্দরবান
৯. থানচি ও রেমাক্রি
১০. নাফাখুম
১১. আমিয়াখুম
১২. দেবতাখুম
১৩. বগালেক
১৪. কেওক্রাডং
১৫. তাজিংডং
১৬. খাগড়াছড়ি
১৭. সাজেক ভ্যালি
১৮. সিলেট
১৯. রাতারগুল
২০. বিছানাকান্দি
২১. লালাখাল
২২. মাধবকুণ্ড
২৩. বাজেট পরিকল্পনা
২৪. নিরাপত্তা নির্দেশিকা
২৫. জরুরি যোগাযোগ
২৬. ভ্রমণ চেকলিস্ট


অধ্যায়–১

বাংলাদেশের পাহাড় ও ঝরনার দেশ

বাংলাদেশের নাম শুনলে প্রথমেই নদী, ধানক্ষেত কিংবা সুন্দরবনের কথা মনে আসে। কিন্তু দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্তৃত রয়েছে অসাধারণ পাহাড়ি অঞ্চল, যেখানে রয়েছে শতাধিক ছোট-বড় ঝরনা, মেঘে ঢাকা পাহাড়, গভীর বন, স্বচ্ছ নদী, গুহা এবং বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় পাহাড়ি অঞ্চল গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে নীলগিরি, চিম্বুক, বগালেক, নাফাখুম, আমিয়াখুম, দেবতাখুম, কেওক্রাডংসহ বহু বিশ্বমানের প্রাকৃতিক আকর্ষণ।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই অঞ্চলে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, সুপ্তধারা, সহস্রধারা, চন্দ্রনাথ পাহাড় ও গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত—যেখানে পাহাড়, ঝরনা ও সাগরের অনন্য মিলন ঘটে।

খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র। ভোরের মেঘ, সন্ধ্যার সূর্যাস্ত, কংলাক পাহাড়, রুইলুই পাড়া এবং পাহাড়ি সংস্কৃতি ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়।

সিলেট অঞ্চলে রয়েছে বিছানাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল, জাফলং, মাধবকুণ্ড ও পান্থুমাই। বর্ষাকালে এসব স্থানের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যায়।


কেন এই রুটটি সেরা?

অনেক পর্যটক একই পথ বারবার যাতায়াত করেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। এই বইয়ে প্রস্তাবিত রুটটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে ট্রেনে দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, পাহাড়ি সড়ক, নৌপথ, ঝরনা ট্রেকিং এবং মেঘের রাজ্য—সব এক সফরেই উপভোগ করা যায়।

রুট: কাপাসিয়া → ভৈরব/ঢাকা → চট্টগ্রাম → সীতাকুণ্ড → মিরসরাই → বান্দরবান → থানচি → রেমাক্রি → নাফাখুম → আমিয়াখুম → বান্দরবান → খাগড়াছড়ি → সাজেক → চট্টগ্রাম → সিলেট → কাপাসিয়া

এই রুটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একই পথ পুনরায় অতিক্রম করতে হয় না এবং যাতায়াতের সময়ও তুলনামূলকভাবে কম লাগে।


ভ্রমণের সেরা সময়

বর্ষা (জুলাই–সেপ্টেম্বর):

  • ঝরনাগুলো পানিতে পরিপূর্ণ।
  • পাহাড় সবুজে মোড়া থাকে।
  • নদী ও খুমের সৌন্দর্য অসাধারণ।
  • তবে ট্রেইল পিচ্ছিল হয়, অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

শরৎ ও শীত (অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি):

  • ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
  • আকাশ পরিষ্কার থাকে।
  • পাহাড়ি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার আদর্শ মৌসুম।

ভ্রমণের আগে প্রস্তুতি

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি।
  • ট্রেনের টিকিট আগে থেকেই নিশ্চিত করুন।
  • দুর্গম এলাকায় নিবন্ধিত স্থানীয় গাইড নিন।
  • জলরোধী ব্যাগ ব্যবহার করুন।
  • ভালো গ্রিপযুক্ত ট্রেকিং জুতা পরুন।
  • রেইনকোট, পাওয়ার ব্যাংক, টর্চ ও প্রাথমিক চিকিৎসার কিট সঙ্গে রাখুন।
  • প্রকৃতিকে পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলে আসবেন না।

এই বইয়ের পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে প্রতিটি জেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থান, যাতায়াত, ইতিহাস, খরচ, ট্রেকিং রুট, থাকার ব্যবস্থা, খাবার, নিরাপত্তা, জরুরি যোগাযোগ এবং বাস্তব ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।


অধ্যায়–২

চট্টগ্রাম: পাহাড়, ঝরনা ও সমুদ্রের মিলনভূমি

চট্টগ্রাম কেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভ্রমণ গন্তব্য?

চট্টগ্রাম এমন একটি অঞ্চল যেখানে একই ভ্রমণে পাহাড়, ঝরনা, সমুদ্র, বন, ট্রেকিং, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। এই অঞ্চলের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ভ্রমণকারীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।


কাপাসিয়া থেকে কীভাবে যাবেন

কাপাসিয়া → ভৈরব (বাস)

অথবা

কাপাসিয়া → ঢাকা (বাস)

এরপর রাতের আন্তঃনগর ট্রেনে চট্টগ্রাম।

সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছে সীতাকুণ্ডগামী বাসে উঠুন।

সময় লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টা।


১. চন্দ্রনাথ পাহাড়

উচ্চতা প্রায় ১,১০০ ফুট।

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেকিং স্পট।

বিশেষ আকর্ষণ

  • পাহাড়ের চূড়া
  • মেঘ
  • সূর্যোদয়
  • সূর্যাস্ত
  • পুরো সীতাকুণ্ড শহরের দৃশ্য
  • চন্দ্রনাথ মন্দির

ট্রেকিং সময়

১.৫–২.৫ ঘণ্টা

কঠিনতা

মাঝারি


ভ্রমণ টিপস

সকাল ৬টার মধ্যে ট্রেক শুরু করুন।

দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন।

২ লিটার পানি সঙ্গে রাখুন।


২. গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী সমুদ্র সৈকত।

এখানে বিশাল সবুজ ঘাসের মাঠ, ছোট ছোট খাল এবং সমুদ্র একসঙ্গে দেখা যায়।

কী করবেন

  • সূর্যাস্ত দেখবেন
  • নৌকায় ঘুরবেন
  • ড্রোন ফটোগ্রাফি (অনুমতি সাপেক্ষে)
  • প্রকৃতি উপভোগ করবেন

৩. খৈয়াছড়া ঝরনা

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর বহুস্তরবিশিষ্ট ঝরনাগুলোর একটি।

এখানে মোট কয়েকটি ধাপে পানি নেমে আসে।

বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ট্রেকিং

সময়

প্রায় ২ ঘণ্টা

কঠিনতা

সহজ থেকে মাঝারি


সঙ্গে যা নেবেন

  • ট্রেকিং জুতা
  • পানির বোতল
  • শুকনো খাবার
  • মোবাইলের জলরোধী কভার

৪. নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

এটি শুধুমাত্র একটি ঝরনা নয়।

এটি সম্পূর্ণ একটি ট্রেকিং রুট।

পথে দেখা যায়—

  • ছোট ঝরনা
  • ঝিরি
  • পাহাড়
  • বড় বড় পাথর
  • বাঁশের সাঁকো
  • ঘন বন

যারা প্রকৃত ট্রেকিং ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি স্বর্গ।


৫. সুপ্তধারা ঝরনা

চট্টগ্রামের আরেকটি সুন্দর ঝরনা।

বর্ষাকালে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়।


৬. সহস্রধারা ঝরনা

স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বর্ষার সময় অসংখ্য পানির ধারা একসঙ্গে নেমে আসে।


সীতাকুণ্ডে কোথায় থাকবেন

  • বাজেট হোটেল
  • গেস্ট হাউস
  • পরিবারসহ থাকার উপযোগী আবাসন

কী খাবেন

  • চট্টগ্রামের মেজবান
  • কালাভুনা
  • পাহাড়ি বাঁশকোরল
  • সামুদ্রিক মাছ
  • স্থানীয় ফল

আনুমানিক খরচ

ঢাকা/ভৈরব থেকে ট্রেন: ৪০০–১,২০০ টাকা (শ্রেণিভেদে)

চট্টগ্রাম–সীতাকুণ্ড যাতায়াত: ১০০–২০০ টাকা

হোটেল: ৮০০–২,০০০ টাকা

খাবার: ৪০০–৮০০ টাকা

প্রবেশ ও অন্যান্য: ২০০–৫০০ টাকা

মোট: প্রায় ২,০০০–৪,৫০০ টাকা


নিরাপত্তা

  • বৃষ্টির সময় পাথরে সাবধানে হাঁটুন।
  • একা ট্রেক না করাই ভালো।
  • আবর্জনা ফেলবেন না।
  • স্থানীয়দের নির্দেশনা মেনে চলুন।
  • প্রয়োজনে স্থানীয় গাইড নিন।

পরবর্তী অধ্যায়

পরবর্তী অধ্যায়ে থাকবে বান্দরবানের পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড, যেখানে নীলগিরি, নীলাচল, চিম্বুক, বগালেক, কেওক্রাডং, দেবতাখুম, নাফাখুম, আমিয়াখুম, সাতভাইখুম, ভেলাখুম, থানচি, রেমাক্রি, স্থানীয় গাইড, ট্রেকিং রুট, বাজেট ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

অধ্যায়–৩

৪র্থ দিন: বান্দরবানের পথে — মেঘ, পাহাড় ও প্রকৃতির আহ্বান

সকালের যাত্রা: চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান

সকালে চট্টগ্রাম শহর থেকে বান্দরবানগামী বাসে রওনা দিন। দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এবং সময় লাগে প্রায় ২–৩ ঘণ্টা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, সবুজ বন এবং ছোট ছোট পাহাড়ি জনপদ পার হতে হতে যাত্রাটিই একটি দর্শনীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

করণীয়

  • সকাল ৭:০০–৮:০০টার মধ্যে রওনা দিন।
  • বান্দরবান শহরে পৌঁছে হোটেলে চেক-ইন করুন।
  • হালকা নাস্তা করে দিনের ভ্রমণ শুরু করুন।

প্রথম গন্তব্য: নীলাচল

নীলাচলকে অনেকেই "বাংলাদেশের দার্জিলিং" বলে থাকেন। এখান থেকে বান্দরবান শহর, সাঙ্গু নদী এবং চারপাশের সবুজ পাহাড় একসঙ্গে দেখা যায়।

কেন যাবেন?

  • মেঘের ভেলা দেখার জন্য
  • সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
  • ফটোগ্রাফি
  • শান্ত পরিবেশ

ভ্রমণের সময়: ১–২ ঘণ্টা


দ্বিতীয় গন্তব্য: নীলগিরি

নীলগিরি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষা ও শরৎকালে অনেক সময় মেঘ এসে পাহাড়ের গায়ে ভেসে বেড়ায়।

বিশেষ আকর্ষণ

  • মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি
  • পাহাড়ের সারি
  • পরিষ্কার দিনে দূরের পাহাড় দেখা
  • সূর্যাস্ত

টিপস: বিকেলের দিকে গেলে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ বেশি।


তৃতীয় গন্তব্য: চিম্বুক পাহাড়

চিম্বুক বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চ পাহাড়ি সড়কপথ। রাস্তার দুই পাশে সবুজ পাহাড় এবং মাঝে মাঝে মেঘে ঢেকে যাওয়া দৃশ্য ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে স্থানীয় ফল যেমন আনারস, কলা বা পাহাড়ি লেবুর স্বাদ নিতে পারেন।


চতুর্থ গন্তব্য: শৈলপ্রপাত

শহরের কাছাকাছি অবস্থিত একটি সুন্দর জলপ্রপাত। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে যায় এবং ঝরনাটি আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

কী করবেন?

  • ছবি তুলুন
  • পাথরের ওপর সতর্কভাবে হাঁটুন
  • প্রকৃতির শব্দ উপভোগ করুন

স্থানীয় সংস্কৃতি

বান্দরবানে মারমা, বম, ম্রো, ত্রিপুরা, খুমি, চাকমাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের সংস্কৃতি, পোশাক, হস্তশিল্প এবং জীবনযাত্রা এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ।

ভ্রমণের সময়:

  • মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
  • ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক স্থানে শালীন আচরণ করুন।
  • স্থানীয় পণ্য কিনে তাদের অর্থনীতিকে সহায়তা করুন।

কী খাবেন?

বান্দরবানে স্থানীয় ও বাঙালি—দুই ধরনের খাবারই পাওয়া যায়।

চেখে দেখতে পারেন:

  • বাঁশকোরল দিয়ে রান্না
  • পাহাড়ি মুরগি
  • স্থানীয় শাকসবজি
  • তাজা আনারস
  • কলা
  • পেঁপে

কোথায় থাকবেন?

বান্দরবান শহরে বিভিন্ন মানের আবাসন রয়েছে।

  • বাজেট গেস্টহাউস
  • মাঝারি মানের হোটেল
  • রিসোর্ট

যারা পরদিন থানচির দিকে যাবেন, তাদের শহরেই রাত কাটানো সুবিধাজনক।


আনুমানিক দিনের বাজেট

  • চট্টগ্রাম → বান্দরবান বাস: ২৫০–৪০০ টাকা
  • স্থানীয় পরিবহন: ৩০০–৮০০ টাকা
  • খাবার: ৪০০–৮০০ টাকা
  • হোটেল: ১,০০০–২,৫০০ টাকা

মোট: প্রায় ২,০০০–৪,৫০০ টাকা (প্রতি ব্যক্তি, আবাসনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে)


দিনের শেষে

সন্ধ্যায় বান্দরবান শহরে ফিরে বিশ্রাম নিন। পরদিন খুব ভোরে থানচির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। সেখান থেকেই শুরু হবে এই সফরের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ—নদীপথ, পাহাড়ি ট্রেক এবং বাংলাদেশের বিখ্যাত খুম ও জলপ্রপাতের যাত্রা।


পরবর্তী অধ্যায় (৫ম দিন)

  • বান্দরবান → থানচি
  • সাঙ্গু নদীতে নৌভ্রমণ
  • রেমাক্রি
  • ট্রেকিং প্রস্তুতি
  • গাইড নির্বাচন
  • পারমিট ও নিরাপত্তা
  • নাফাখুম ও আমিয়াখুম অভিযানের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

অধ্যায়–৪

৫ম দিন: বান্দরবান থেকে থানচি – সাঙ্গু নদীর বুকে এক রোমাঞ্চকর যাত্রা

আজকের ভ্রমণসূচি
বান্দরবান শহর → চিম্বুক → থানচি → সাঙ্গু নদী → রেমাক্রি বাজার → রেমাক্রি গ্রাম

আজ থেকে শুরু হচ্ছে পুরো সফরের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ। এখান থেকে পাহাড়ি সড়ক শেষ হয়ে শুরু হবে নদীপথ ও ট্রেকিং। আগামী কয়েক দিনে আপনি এমন সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখবেন, যা বাংলাদেশের অন্য কোথাও একসঙ্গে দেখা যায় না।


ভোরের প্রস্তুতি

ভোর ৫:০০–৬:০০টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে নিন। ব্যাগ যতটা সম্ভব হালকা রাখুন, কারণ পরবর্তী পথের বড় অংশ হেঁটে অতিক্রম করতে হবে।

আজকের ব্যাগে যা অবশ্যই থাকবে

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • ২–৩ লিটার পানি
  • শুকনো খাবার
  • গ্লুকোজ
  • ফার্স্ট এইড কিট
  • রেইনকোট
  • টর্চ
  • পাওয়ার ব্যাংক
  • অতিরিক্ত মোজা
  • জলরোধী ব্যাগ

বান্দরবান থেকে থানচি

সকালে বান্দরবান শহর থেকে থানচির উদ্দেশ্যে বাস বা চাঁদের গাড়িতে যাত্রা শুরু করুন।

পথে যা দেখবেন

  • পাহাড়ি রাস্তা
  • মেঘে ঢাকা উপত্যকা
  • মারমা ও ম্রো গ্রাম
  • সবুজ বন
  • ছোট ছোট ঝরনা

এই রাস্তা বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পাহাড়ি সড়ক হিসেবে পরিচিত।


থানচি

থানচি বান্দরবানের একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। এখান থেকেই নাফাখুম, আমিয়াখুম, সাতভাইখুম, ভেলাখুম এবং আরও অনেক দুর্গম এলাকার যাত্রা শুরু হয়।

এখানে পৌঁছে—

  • স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা জেনে নিন।
  • নিবন্ধিত গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • প্রয়োজনে নৌকার ব্যবস্থা করুন।
  • মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত থাকতে পারে, তাই আগেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সেরে নিন।

সাঙ্গু নদী

বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পাহাড়ি নদী।

এর স্বচ্ছ পানি, উঁচু পাহাড়, নদীর বাঁক এবং পাথুরে তীর আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তুলবে।

নৌভ্রমণের সময়

প্রায় ২–৩ ঘণ্টা।

পথে দেখা যাবে—

  • বিশাল পাথর
  • ছোট জলপ্রপাত
  • পাহাড়ি গ্রাম
  • জুম চাষের পাহাড়
  • সবুজ বন

পাহাড়ি জীবন

নদীপথে চলার সময় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসতি দেখা যায়।

তাদের জীবনযাত্রা প্রকৃতিনির্ভর।

তারা মূলত—

  • জুম চাষ করেন
  • বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ঘর নির্মাণ করেন
  • পাহাড়ি ফল ও সবজি উৎপাদন করেন
  • নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণ করে চলেছেন

স্থানীয়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন এবং ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।


রেমাক্রি বাজার

নৌপথ শেষে পৌঁছে যাবেন রেমাক্রি বাজারে।

এটি ছোট হলেও ট্রেকারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।

এখান থেকে—

  • দুপুরের খাবার খেতে পারবেন
  • বিশ্রাম নিতে পারবেন
  • প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারবেন

রেমাক্রি গ্রাম

রেমাক্রি একটি ছোট পাহাড়ি গ্রাম।

এখানে রাতে থাকার জন্য সাধারণ গেস্টহাউস বা স্থানীয় ব্যবস্থার আবাসন পাওয়া যায়।

রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে অসংখ্য তারা দেখা যায় এবং চারপাশে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ও নদীর শব্দ শোনা যায়—এক অনন্য অভিজ্ঞতা।


আজকের আনুমানিক খরচ

খাত আনুমানিক খরচ
বান্দরবান → থানচি যাতায়াত ৪০০–৮০০ টাকা
নৌকা (গ্রুপভিত্তিক) ৫০০–১,৫০০ টাকা
গাইড (গ্রুপভিত্তিক) ভাগ করে পরিশোধ
খাবার ৪০০–৮০০ টাকা
রাত্রিযাপন ৫০০–১,৫০০ টাকা

নিরাপত্তা

  • স্থানীয় প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
  • নিবন্ধিত গাইড ছাড়া দুর্গম পথে যাবেন না।
  • নদীতে লাইফ জ্যাকেট থাকলে ব্যবহার করুন।
  • বৃষ্টির সময় পাহাড়ি ঢলে সতর্ক থাকুন।
  • পরিবেশ দূষণ করবেন না এবং প্লাস্টিক সঙ্গে ফিরিয়ে আনুন।

আগামী দিনের অভিযান

আগামীকাল শুরু হবে পুরো সফরের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এবং রোমাঞ্চকর ট্রেক।

আপনি পৌঁছে যাবেন—

  • নাফাখুম জলপ্রপাত
  • সাতভাইখুম
  • আমিয়াখুমের পথে পাহাড়ি ট্রেইল
  • ঝিরিপথ
  • বিশাল পাথরের উপত্যকা
  • বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর প্রাকৃতিক জলপ্রপাতের রাজ্যে

এটাই হবে আপনার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ভ্রমণদিন।













Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

Green Sadaqah Jariyah: ‘House of Al Tawfiqi’ Launches 77-Day Tree Plantation Drive

Green Sadaqah Jariyah: ‘House of Al Tawfiqi’ Launches 77-Day Tree Plantation Drive

🌿 সবুজ সদকায়ে জারিয়া

Green Sadaqah Jariyah – 77-Day Tree Plantation Drive

📅 ১৮ জুন ২০২৬ 📍 কাপাসিয়া, গাজীপুর 🕌 তৌফিক সুলতান

কাপাসিয়া, গাজীপুর — ১৮ জুন ২০২৬ — ধর্মবিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ-ভাবনার এক অনুপ্রেরণামূলক সম্মিলন ঘটিয়ে শিক্ষাবিদ ও লেখক তৌফিক সুলতান তাঁর প্রথম পুত্রসন্তানের আকিকা উপলক্ষে ৭৭ দিনব্যাপী এক গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু করেছেন। ‘একটি শিশু—একটি গাছ’ প্রতিপাদ্যে আবর্তিত এই উদ্যোগে নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে যেকোনো ব্যক্তি বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। বাড়িতে রোপণকারীদের জন্য কেবল একটি সদকামূলক শর্ত প্রযোজ্য: ভবিষ্যতে প্রাপ্ত ফসলের অর্ধেক মাদ্রাসায় দান করতে হবে।

শিশুটির নাম রাখা হয়েছে সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক। তিনি ৯ জুন ২০২৬, রাত ২টা ২০ মিনিটে কাপাসিয়ার তরগাঁও এলাকায় জন্ম নেন। জন্মস্থানের স্থানাঙ্ক ২৪°০৭'১৭.৫" উত্তর, ৯০°৩৪'০৫.৬" পূর্ব। পিতা তাকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করেন এবং দোয়া করেন “রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন”।

১৫ জুন আকিকা অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদ্রাসা, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। ১২ জুন থেকে মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ থেকে ৭৭ দিনব্যাপী গণচারা বিতরণ শুরু।

📍 চারা সংগ্রহস্থল

বাড়ি নং ৪০৫, তৌফিক সুলতানের বাসভবন
১০৩/৭৭ আল তৌফিকী ফ্যামিলি রোড, নরোত্তমপুর, বারিষাব-১৭৪৩, কাপাসিয়া, গাজীপুর

📍 গুগল ম্যাপে দেখুন

রাস্তার পাশে বা প্রতিষ্ঠানে শর্তহীন, বাড়িতে লাগালে ফলের অর্ধেক মাদ্রাসায়।

KAPASIA, GAZIPUR — 18 June 2026 — Educator and writer Towfiq Sultan has launched a 77-day community tree-planting campaign to mark the aqiqah of his firstborn son. Under the motto “One Child — One Tree”, free saplings are offered to all. For home planters, a single charitable condition applies: half of the future harvest must be donated to a madrasa.

The child is named Sultan Tajrian Al Towfiqi ibn Towfiq. He was born on 9 June 2026 at 2:20 AM in Targaon, Kapasia (coordinates 24°07'17.5"N, 90°34'05.6"E). His father dedicated him to Allah and prays “Rabbi habli minas salihin”.

The aqiqah ceremony on 15 June gathered community members, and sweet distribution had begun on 12 June.

From Friday, 19 June 2026, the 77-day public sapling distribution begins.

📍 Sapling Collection Point

House #405, Residence of Towfiq Sultan
103/77 Al Towfiqi Family Road, Narottampur, Barishab-1743, Kapasia, Gazipur

📍 View on Google Maps

Plant freely along roadsides or at institutions. At home, half the produce goes to a madrasa.

كاباسيا، غازيبور — ١٨ يونيو ٢٠٢٦ — أطلق المربي والكاتب توفيق سلطان حملة تشجير مجتمعية لمدة ٧٧ يومًا بمناسبة عقيقة مولوده الأول. تحت شعار “طفل — شجرة”، تُقدَّم الشتلات مجانًا للجميع، مع شرط خيري واحد: نصف المحصول يُتبرع به للمدارس الإسلامية.

سُمِّي الطفل سلطان تجريان التوفيقي بن توفيق. وُلد في ٩ يونيو ٢٠٢٦ الساعة ٢:٢٠ صباحًا في تارغاون، كاباسيا. أهداه والده لخدمة الدين ويدعو “ربِّ هب لي من الصالحين”.

أقيمت العقيقة في ١٥ يونيو، وبدأ توزيع الحلويات في ١٢ يونيو.

يبدأ توزيع الشتلات المجاني من الجمعة ١٩ يونيو ٢٠٢٦.

📍 نقطة استلام الشتلات

المنزل رقم ٤٠٥، سكن توفيق سلطان
١٠٣/٧٧ شارع العائلة التوفيقية، ناروتمبور، باريشاب-١٧٤٣، كاباسيا، غازيبور

📍 عرض في خرائط جوجل

الزراعة دون شرط في الأماكن العامة؛ وفي المنزل نصف الإنتاج للمدارس.

সবুজ সদকায়ে জারিয়া
‘হাউস অব আল তৌফিকী’ থেকে শুরু হচ্ছে ৭৭ দিনব্যাপী গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

একটি শিশু — একটি গাছ। সবার জন্য বিনামূল্যে চারা। শুধু একটি সদকার শর্ত: ফসলের অর্ধেক মাদ্রাসায় দিতে হবে।
📅 ১৮ জুন ২০২৬ 📍 কাপাসিয়া, গাজীপুর ✍️ তৌফিক সুলতান 🕌 সদকায়ে জারিয়া

কাপাসিয়া, গাজীপুর — ১৮ জুন ২০২৬ — ধর্মবিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ-ভাবনার এক অনুপ্রেরণামূলক সম্মিলন ঘটিয়ে শিক্ষাবিদ ও লেখক তৌফিক সুলতান তাঁর প্রথম পুত্রসন্তানের আকিকা উপলক্ষে ৭৭ দিনব্যাপী এক গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু করেছেন। ‘একটি শিশু—একটি গাছ’ প্রতিপাদ্যে আবর্তিত এই উদ্যোগে নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে যেকোনো ব্যক্তি বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। বাড়িতে রোপণকারীদের জন্য কেবল একটি সদকামূলক শর্ত প্রযোজ্য: ভবিষ্যতে প্রাপ্ত ফসলের অর্ধেক মাদ্রাসায় দান করতে হবে।

শিশুটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক। তিনি ২০২৬ সালের ৯ জুন, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে (হিজরি ২২ জিলহজ ১৪৪৭) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থানের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ২৪°০৭'১৭.৫" উত্তর, ৯০°৩৪'০৫.৬" পূর্ব এবং ভূমিষ্ঠকালীন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি মো. তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান) ও তৌফিকা সুলতানা ঋতু দম্পতির প্রথম সন্তান। এক আবেগঘন ঘোষণাপত্রে পিতা বলেন, “আমি এ শিশুকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছি, দীন ও মিল্লাতের খেদমতে উৎসর্গ করেছি।” তিনি ‘রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন’—হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এক সৎপুত্র দান করো—এই দোয়ার পুনরাবৃত্তি করে সন্তানকে ধর্মের একনিষ্ঠ সেবকে পরিণত হওয়ার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

🌱 আনুষ্ঠানিক আকিকা ও দোয়া মাহফিল: ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার দুপুরে নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীতে পারিবারিক বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বর্জ্জাপুর ঈদগাহ মাঠের ইমাম সাইফুল্লাহ তারেকী দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং নবজাতকের দীর্ঘ নেক হায়াত, সুস্বাস্থ্য ও নেককার জীবন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল, নরোত্তমপুর মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা (চুরার টেক মাদ্রাসা), ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমি এবং ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়স্বজন ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

উদযাপনের সূচনা হয়েছিল আরও তিন দিন আগে, ১২ জুন। ওই দিন কাপাসিয়ার নয়টিরও বেশি মসজিদ এবং নরোত্তমপুর, বারিষাব ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। প্রতিটি মসজিদের খতিবের কাছে আকিকা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিবরণসংবলিত আনুষ্ঠানিক পত্র পৌঁছে দেওয়া হয় এবং দোয়ার আবেদন জানানো হয়—পুরো সমাজের আধ্যাত্মিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এটি ছিল এক সুচিন্তিত প্রয়াস।

“যদি কিয়ামত সংঘটিত হয় আর তোমাদের কারও হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।”
— প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ

তবে আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল এর পরিবেশগত ও সদকামুখী মাত্রা। এক শতাধিক বৃক্ষচারা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি চারার গায়ে সংযুক্ত ছিল কুরআনের আয়াত ও হাদিসে খোদিত ছোট্ট নামফলক। একটি ফলকে উজ্জ্বল হয়ে ছিল উপরের হাদিসটি, আরও সাতটি নকশার নামকার্ডে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত স্থান পায়। খাবার শেষে অতিথিরা মসজিদ, মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণের জন্য আগ্রহভরে চারা নিয়ে যান। স্মৃতি ধরে রাখতে ছিল বিশেষ ফটো জোনের ব্যবস্থাও।

এখন এ উদ্যোগ এক দিনের গণ্ডি পেরিয়ে বিস্তৃত পরিসরে রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে ৭৭ দিনব্যাপী গণচারা বিতরণ কর্মসূচি। আগ্রহী যে কেউ হাউস অব আল তৌফিকী থেকে বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন:

📍 চারা সংগ্রহস্থল

বাড়ি নং ৪০৫, তৌফিক সুলতানের বাসভবন
১০৩/৭৭ আল তৌফিকী পরিবার রোড, নরোত্তমপুর
বারিষাব-১৭৪৩, কাপাসিয়া, গাজীপুর
(নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীত পাশে)

🗺️ গুগল ম্যাপ স্থানাঙ্ক:
২৪.১৭৪৪৫১৩° উত্তর, ৯০.৬৫৬৮৪২৮° পূর্ব
(ডিএমএস: ২৪°১০'২৮.০" উত্তর, ৯০°৩৯'২৪.৬" পূর্ব)
বিকল্প: ২৪.১৭৪৪৬০২, ৯০.৬৫৬৮৪৬২

📍 গুগল ম্যাপে দেখুন

রাস্তার পাশে, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও অন্যান্য গণপ্রতিষ্ঠানে চারা কোনো শর্ত ছাড়াই রোপণ করা যাবে। যাঁরা নিজ বাড়িতে চারা লাগাতে চান, তাঁদের কেবল একটি সদকার শর্ত মানতে হবে: গাছ থেকে প্রাপ্ত সকল ফল, কাঠ বা অন্য কোনো উপকারিতার অর্ধেক নিয়মিতভাবে একটি মাদ্রাসায় দান করতে হবে; বাকি অর্ধেক পরিবার ভোগ করতে পারবেন। আয়োজক পরিবার এ উদ্যোগের প্রাণস্পন্দনকে ব্যক্ত করেছে এভাবে: “একটি গাছ শুধু প্রকৃতির লালন করে না—একটি শিশুর আমলনামায় সদকায়ে জারিয়া হয়ে কল্যাণের নিরবচ্ছিন্ন ধারা বয়ে নিয়ে যায়।”

🌿 “যে ব্যক্তি একটি গাছ রোপণ করে, তার প্রতিটি ফল সাদাকা হিসেবে গণ্য হয়।”
📖 “যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উদাহরণ একটি দানার মতো…” (সূরা বাকারা ২৬১)
🤲 “রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন”
হে আমার প্রতিপালক, আমাকে সৎ সন্তান দান করো

এ কর্মসূচি ইতোমধ্যে কাপাসিয়ার বাইরেও সাড়া জাগিয়েছে। কবি সালমান হাবীব, মুরসালিন, মুসাদ আকন্দ, লতিফুর রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আয়ূবী আকিকা অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ই-মেইল ও ফোনে আন্তরিক দোয়া ও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন। মাননীয় সংসদ সদস্য পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানিয়েছেন।


সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিকের জন্মকে সম্মান জানাতে ‘হাউস অব আল তৌফিকী’ একান্ত পারিবারিক এক মাইলফলককে রূপ দিয়েছে টেকসই পরিবেশ ও সমাজকল্যাণের ধারাবাহিক আয়োজনে। আগামী ৭৭ দিন এই জীবন্ত সদকার কর্মসূচি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকল।


SULTAN TAJRIAN AL TOWFIQI IBNE TOWFIQ

সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক


ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)

নাম (বাংলা):
সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক

Full Name (English):
SULTAN TAJRIAN AL TOWFIQI IBNE TOWFIQ

জন্ম তারিখ (Date of Birth):
৯ জুন ২০২৬ (09 June 2026)


পিতার তথ্য (Father)

মোঃ তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান)
MD. TOWFIQ HOSSAIN (TOWFIQ SULTAN)


মাতার তথ্য (Mother)

তৌফিকা সুলতানা ঋতু
TOWFIQA SULTANA RITU


স্থায়ী ঠিকানা (Permanent Address)

বাড়ি নং: ৪০৫
রোড: ১০৩/৭৭, নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিক রোড
গ্রাম: নরোত্তমপুর
ডাকঘর: নরোত্তমপুর–১৭৩০
ইউনিয়ন: বারিষাব
উপজেলা: কাপাসিয়া
জেলা: গাজীপুর
দেশ: বাংলাদেশ

English Address:
House No. 405, Road No. 103/77, Noruttampur Community Clinic Road,
Noruttampur, Noruttampur–1730, Barishab Union,
Kapasia, Gazipur, Bangladesh.


নামের অর্থ (Meaning of the Name)

"সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক" অর্থ—

"তৌফিকের পুত্র; আল্লাহর রহমত, তাওফিক (সাফল্য) ও বরকতপ্রাপ্ত সম্মানিত রাজমুকুট।"

English Meaning

"Sultan Tajrian Al Towfiqi Ibne Towfiq" means:

"The honored crown blessed with Allah's mercy, guidance, success and divine blessings; beloved son of Towfiq."


Official Identity

বাংলা:
সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক

English:
SULTAN TAJRIAN AL TOWFIQI IBNE TOWFIQ


Family Identity

Father:
MD. TOWFIQ HOSSAIN (TOWFIQ SULTAN)

Mother:
TOWFIQA SULTANA RITU

Family Name:
AL TOWFIQI FAMILY

"Faith • Family • Honor • Success"
"United by Faith, Guided by Allah."





নাম : সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক।


SULTAN TAJRIAN AL TOWFIQI IBNE TOWFIQ


পিতা : মোঃ তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান) 

MD. TOWFIQ HOSSAIN (TOWFIQ SULTAN)


মাতা : তৌফিকা সুলতানা ঋতু 

TOWFIQA SULTANA RITU


জন্ম তারিখ : ৯ জুন ২০২৬।


ঠিকানা : বাড়ি নং : ৪০৫, ১০৩/৭৭ নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিক রোড, নরোত্তমপুর, নরোত্তমপুর -১৭৩০, বারিষাব, কাপাসিয়া, গাজীপুর।



তৌফিকের পুত্র, আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত ও সাফল্যমণ্ডিত রাজমুকুট"।




SULTAN TAJRIAN AL TOWFIQI IBNE TOWFIQ

সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক

পিতার নাম:
মোঃ তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান)
MD. TOWFIQ HOSSAIN (TOWFIQ SULTAN)

মাতার নাম:
তৌফিকা সুলতানা ঋতু
TOWFIQA SULTANA RITU

জন্ম তারিখ:
৯ জুন ২০২৬ (09 June 2026)

স্থায়ী ঠিকানা:
নরোত্তমপুর, নরোত্তমপুর–১৭৩০
কাপাসিয়া, গাজীপুর, বাংলাদেশ।

নামের অর্থ

"সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক" অর্থ—
"তৌফিকের পুত্র; আল্লাহর রহমত, তাওফিক (সাফল্য) ও বরকতপ্রাপ্ত সম্মানিত রাজমুকুট।"

English Meaning:
"The honored crown blessed with Allah's guidance, success and grace; son of Towfiq."


Full Name (Official)

বাংলা:
সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক

English:
SULTAN TAJRIAN AL TOWFIQI IBNE TOWFIQ





Welftion Love Of Welfare
 দৈনিক অনুসন্ধান

Welftion Love Of Welfare : প্রিয় সুহৃদ,  নতুন প্রজন্মের আগ্রহী লেখকদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস অপেক্ষা করুন। একই লেখা একাধিক জায়গায় পাঠানো হলে কিংবা প্রকাশিত হলে আমরা সেই লেখককে আর গ্রহণ না করতে বাধ্য হবো। আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com 
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ



 📢 দৃষ্টি আকর্ষণ লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com
DA





  DA
লেখা পাঠান~ ✉ editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com towfiqsultan.help@gmail.com 
 
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com , editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network. সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক... সবুজ সদকায়ে জারিয়া ‘হাউস অব আল তৌফিকী’ থেকে শুরু হচ্ছে ৭৭ দিনব্যাপী গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কাপাসিয়া, গাজীপুর — ১৮ জুন ২০২৬ — ধর্মবিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ-ভাবনার এক অনুপ্রেরণামূলক সম্মিলন ঘটিয়ে শিক্ষাবিদ ও লেখক তৌফিক সুলতান তাঁর প্রথম পুত্রসন্তানের আকিকা উপলক্ষে ৭৭ দিনব্যাপী এক গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু করেছেন। ‘একটি শিশু—একটি গাছ’ প্রতিপাদ্যে আবর্তিত এই উদ্যোগে নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে যেকোনো ব্যক্তি বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। বাড়িতে রোপণকারীদের জন্য কেবল একটি সদকামূলক শর্ত প্রযোজ্য: ভবিষ্যতে প্রাপ্ত ফসলের অর্ধেক মাদ্রাসায় দান করতে হবে। শিশুটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক। তিনি ২০২৬ সালের ৯ জুন, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে (হিজরি ২২ জিলহজ ১৪৪৭) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও (Targaon) এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থানের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ২৪°০৭'১৭.৫" উত্তর, ৯০°৩৪'০৫.৬" পূর্ব এবং ভূমিষ্ঠকালীন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি মো. তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান) ও তৌফিকা সুলতানা ঋতু দম্পতির প্রথম সন্তান। এক আবেগঘন ঘোষণাপত্রে পিতা বলেন, “আমি এ শিশুকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছি, দীন ও মিল্লাতের খেদমতে উৎসর্গ করেছি।” তিনি ‘রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন’—হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এক সৎপুত্র দান করো—এই দোয়ার পুনরাবৃত্তি করে সন্তানকে ধর্মের একনিষ্ঠ সেবকে পরিণত হওয়ার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আনুষ্ঠানিক আকিকা ও দোয়া মাহফিল ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার দুপুরে নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীতে পারিবারিক বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বর্জ্জাপুর ঈদগাহ মাঠের ইমাম সাইফুল্লাহ তারেকী দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং নবজাতকের দীর্ঘ নেক হায়াত, সুস্বাস্থ্য ও নেককার জীবন কামনা করেন। অনুষ্ঠানে ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল, নরোত্তমপুর মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা (চুরার টেক মাদ্রাসা), ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমি এবং ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়স্বজন ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। উদযাপনের সূচনা হয়েছিল আরও তিন দিন আগে, ১২ জুন। ওই দিন কাপাসিয়ার নয়টিরও বেশি মসজিদ এবং নরোত্তমপুর, বারিষাব ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। প্রতিটি মসজিদের খতিবের কাছে আকিকা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিবরণসংবলিত আনুষ্ঠানিক পত্র পৌঁছে দেওয়া হয় এবং দোয়ার আবেদন জানানো হয়—পুরো সমাজের আধ্যাত্মিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এটি ছিল এক সুচিন্তিত প্রয়াস। তবে আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল এর পরিবেশগত ও সদকামুখী মাত্রা। এক শতাধিক বৃক্ষচারা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি চারার গায়ে সংযুক্ত ছিল কুরআনের আয়াত ও হাদিসে খোদিত ছোট্ট নামফলক। একটি ফলকে উজ্জ্বল হয়ে ছিল প্রিয় নবী ﷺ-এর অমোঘ বাণী: “যদি কিয়ামত সংঘটিত হয় আর তোমাদের কারও হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।” কুরআনের বিভিন্ন আয়াতসংবলিত আরও সাতটি নকশার নামকার্ড কর্মসূচিটিকে ভিন্নমাত্রা দান করে। খাবার শেষে অতিথিরা মসজিদ, মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণের জন্য আগ্রহভরে চারা নিয়ে যান। স্মৃতি ধরে রাখতে ছিল বিশেষ ফটো জোনের ব্যবস্থাও। এখন এ উদ্যোগ এক দিনের গণ্ডি পেরিয়ে বিস্তৃত পরিসরে রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে ৭৭ দিনব্যাপী গণচারা বিতরণ কর্মসূচি। আগ্রহী যে কেউ হাউস অব আল তৌফিকী থেকে বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন: বাড়ি নং ৪০৫, তৌফিক সুলতানের বাসভবন ১০৩/৭৭ আল তৌফিকী পরিবার রোড, নরোত্তমপুর বারিষাব-১৭৪৩, কাপাসিয়া, গাজীপুর (নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীত পাশে) গুগল ম্যাপ স্থানাঙ্ক: ২৪.১৭৪৪৫১৩° উত্তর, ৯০.৬৫৬৮৪২৮° পূর্ব (ডিএমএস ফরম্যাটে: ২৪°১০'২৮.০" উত্তর, ৯০°৩৯'২৪.৬" পূর্ব) বিকল্প রেফারেন্স: ২৪.১৭৪৪৬০২, ৯০.৬৫৬৮৪৬২ রাস্তার পাশে, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও অন্যান্য গণপ্রতিষ্ঠানে চারা কোনো শর্ত ছাড়াই রোপণ করা যাবে। যাঁরা নিজ বাড়িতে চারা লাগাতে চান, তাঁদের কেবল একটি সদকার শর্ত মানতে হবে: গাছ থেকে প্রাপ্ত সকল ফল, কাঠ বা অন্য কোনো উপকারিতার অর্ধেক নিয়মিতভাবে একটি মাদ্রাসায় দান করতে হবে; বাকি অর্ধেক পরিবার ভোগ করতে পারবেন। আয়োজক পরিবার এ উদ্যোগের প্রাণস্পন্দনকে ব্যক্ত করেছে এভাবে: “একটি গাছ শুধু প্রকৃতির লালন করে না—একটি শিশুর আমলনামায় সদকায়ে জারিয়া হয়ে কল্যাণের নিরবচ্ছিন্ন ধারা বয়ে নিয়ে যায়।” এ কর্মসূচি ইতোমধ্যে কাপাসিয়ার বাইরেও সাড়া জাগিয়েছে। কবি সালমান হাবীব, মুরসালিন, মুসাদ আকন্দ, লতিফুর রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আয়ূবী আকিকা অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ই-মেইল ও ফোনে আন্তরিক দোয়া ও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন। মাননীয় সংসদ সদস্য পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানিয়েছেন। সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিকের জন্মকে সম্মান জানাতে ‘হাউস অব আল তৌফিকী’ একান্ত পারিবারিক এক মাইলফলককে রূপ দিয়েছে টেকসই পরিবেশ ও সমাজকল্যাণের ধারাবাহিক আয়োজনে। আগামী ৭৭ দিন এই জীবন্ত সদকার কর্মসূচি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকল। — আখতার উদ্দিন তালুকদার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা akhtaruddintalukder@gmail.com Green Sadaqah Jariyah: ‘House of Al Towfiqi’ Launches 77-Day Public Tree Plantation Drive KAPASIA, GAZIPUR — 18 June 2026 — In an inspiring convergence of faith, social commitment, and environmental action, educator and Writer Towfiq Sultan has launched a 77-day community tree-planting campaign to mark the aqiqah of his firstborn son. The initiative, centred on the theme “One Child — One Tree,” offers free saplings to all members of the public from a fixed location, with a single charitable condition for home planters: half of any future harvest must be donated to a madrasa. The child, formally named Sultan Tajrian Al Towfiqi ibn Towfiq, was born at 2:20 AM local time on Tuesday, 9 June 2026 (corresponding to 22 Dhul Hijjah 1447 AH in the Islamic calendar) in the Targaon area of Kapasia, Gazipur. The precise geographical coordinates of his birthplace are 24°07'17.5"N, 90°34'05.6"E, and the ambient temperature at the time of delivery was 28°C. He is the first child of Md. Towfiq Hossain (Towfiq Sultan) and Towfiqa Sultana Ritu. In a heartfelt written proclamation, the father stated, “I have consecrated this child unreservedly for Allah, offering him in the service of Deen and Millah.” He prays, “Rabbi habli minas salihin”—O my Lord, bestow upon me a righteous son—and expresses a deep hope that the boy will grow into a steadfast servant of the faith. The formal aqiqah and communal supplication were held on Monday, 15 June 2026, at the family residence directly opposite the Narottampur Community Clinic. Imam Saifullah Tareqi of Barjjapur Eidgah Maidan led the ceremony, offering prayers for the newborn’s long, healthy, and virtuous life. The gathering drew a broad cross-section of the community, including faculty and administrators from Ghagtia Chala Model High School, Narottampur Mohammadiya Islamia Orphanage (Churar Tek Madrasa), Bhawal Islamic Cadet Academy, and Brave Jubilant Scholars of Monohardi Model College, as well as local entrepreneurs, dignitaries, relatives, and underprivileged neighbours. Celebrations had in fact begun three days earlier, on 12 June, when sweets were distributed to more than nine mosques across Kapasia, Narottampur, Barishab, and surrounding villages. The khatibs of each mosque received a formal letter detailing the aqiqah and the tree-planting initiative, along with a request for collective prayer—an intentional effort to embed the occasion within the entire community’s spiritual life. The centrepiece of the event, however, was its ecological and charitable dimension. Over one hundred tree saplings were distributed as sadaqah jariyah (ongoing charity). Each sapling carried a small nameplate engraved with Quranic verses and Hadith. One plate bore the celebrated prophetic teaching: “If the Day of Judgment arrives and one of you holds a sapling in his hand, let him plant it” (Prophet Muhammad ﷺ). Seven additional name-card designs featuring other Quranic verses gave the campaign further depth and spiritual resonance. After the meal, guests eagerly collected saplings destined for mosques, madrasas, and institutional grounds. A specially arranged photo corner allowed attendees to capture the moment. Now the initiative extends far beyond a single day. From Friday, 19 June 2026, the 77-day public sapling distribution commences. Anyone may visit the House of Al Tawfiqi to collect saplings at no cost: House #405, Residence of Towfiq Sultan 103/77 Al Tawfiqi Family Road, Narottampur Barishab-1743, Kapasia, Gazipur (Opposite Narottampur Community Clinic) Google Maps coordinates: 24.1744513°N, 90.6568428°E (or in DMS format: 24°10'28.0"N, 90°39'24.6"E) Alternate reference: 24.1744602, 90.6568462 Saplings may be planted without condition along roadsides or within the premises of mosques, madrasas, schools, and other public institutions. Those who wish to plant at home must simply agree to a charitable condition: half of all fruit, timber, or other benefits produced by the tree must be consistently donated to a madrasa; the other half remains with the household. The host family articulates the ethos simply: “A tree does more than nurture nature—it carries a perpetual flow of blessings in a child’s book of deeds as sadaqah jariyah.” The campaign has already drawn expressions of goodwill from beyond Kapasia. Poet Salman Habib, Mursalin, Musad Akand, Latifur Rahman, and local Member of Parliament Salauddin Ayubi, though unable to attend the aqiqah personally, conveyed their sincere prayers and congratulations by email and telephone. The Honourable MP has indicated that he will visit the family at a later date. In honouring the birth of Sultan Tajrian Al Towfiqi ibn Towfiq, the House of Al Towfiqi transforms a deeply personal milestone into a sustained act of environmental and social benevolence. The 77-day programme remains open to all who wish to share in this living charity. — Akhtar Uddin Talukder Suhrawardy Udyan, Dhaka akhtaruddintalukder@gmail.com +880 1707-039730 নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন- সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি। ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন। ✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com - ধন্যবাদ 📧 towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...