🔴 BREAKING
কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, পলাতক গৃহকর্তা
📍 কাপাসিয়া, গাজীপুর |
🕐 ০৯ মে ২০২৬ |
✍️ প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তাঁর তিন শিশু কন্যা ও এক ভাই। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক।
📞 ফোনে স্বীকারোক্তি:
“সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।”
নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। পরিবারের দীর্ঘদিনের কলহ ও দ্বিতীয় বিয়ের বিরোধকে হত্যার কারণ বলে মনে করছে পুলিশ।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মাদকের আলামত ও একটি অভিযোগপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
🎥 সম্পূর্ণ ভিডিও প্রতিবেদন
Welftion City
কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য
স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালক নিহত; পলাতক গৃহকর্তা
কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তাঁর তিন শিশু কন্যা ও এক ভাই। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে পুলিশ।
শনিবার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভোরের দিকে তিনি ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এক স্বজনকে ফোনে তিনি বলেন,
“সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।”
দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ
স্বজনদের অভিযোগ, ফোরকান মিয়ার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। নিহত শারমিন আক্তারের স্বজনরা জানান, কয়েক মাস আগেও শারমিন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অর্থনৈতিক চাপ, পারিবারিক অশান্তি এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ দিকে নিয়ে যায়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ফোরকান তাঁর শ্যালক রসুলকে চাকরির কথা বলে বাসায় ডেকে আনেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে তদন্ত সংস্থাগুলোর তৎপরতা
ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেন। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ঘরের ভেতর থেকে একটি লিখিত অভিযোগের কপিও উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে পারিবারিক বিরোধ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয় উল্লেখ ছিল। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান,
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়ির সামনে সকাল থেকেই ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। নিহত শিশুদের মরদেহ দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারটি কয়েক বছর ধরে সেখানে ভাড়া থাকত। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক অস্থিরতা ও নারী নির্যাতনের ভয়াবহ দিক সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, দাম্পত্য দ্বন্দ্ব ও সহিংস আচরণকে গুরুত্বসহকারে মোকাবিলা না করলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

আজকের একটি গরম খবর হচ্ছে গাজীপুরে এক পরিবারে পাঁচজনকে গ/লা কে/টে হ/ত্যা। কিন্তু এই ঘটনার পেছনের গল্পটা আমরা সেভাবে জানি না। চলুন গল্পের ছলে পুরো ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জেনে আসি।
বছরখানেক আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি ছোট্ট বাসা ভাড়া নিয়েছিলো ফোরকান মিয়া। স্ত্রী আর তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে সেই ভাড়া বাসায় ছিল তার ছোট্ট সংসার। খুব বিলাসী জীবন ছিল না, তবে যা ছিলো, তার মধ্যেও সুখ ছিল। একটি প্রাইভেট কার চালাতো সে, মাঝেমধ্যে গাড়ি ভাড়াও দিতো। সেই আয়েই কোনোরকমে চলছিল সংসার।
সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাসায় ফিরলে ছোট ছোট মেয়েগুলো বাবাকে জড়িয়ে ধরতো। স্ত্রীও হয়তো স্বপ্ন দেখতো— একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, সংসারে শান্তি ফিরবে।
কিন্তু সেই সংসারেই ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে অন্ধকার। গাজীপুরে থাকার সময় কিছু বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে মা/দকে জড়িয়ে পড়ে ফোরকান। প্রথমদিকে বিষয়টা খুব একটা বোঝা যায়নি। সংসারের খরচ দিতো, কাজ করতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মা/দকই তাকে বদলে দিতে থাকে। মানুষটা যেন আর আগের মানুষ থাকেনি।
গাড়ি চালিয়ে যা আয় করতো, তার বেশিরভাগই চলে যেত নেশার পেছনে। আর নেশার টাকার জন্য শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।
স্ত্রীকে নিয়মিত মা/রধর করতো সে। বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে চাপ দিতো। টাকা না আনতে পারলে চলতো গালাগাল, মা/রধর, অপমান। প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজন অনেকবার মীমাংসা করে দিয়েছেন, বুঝিয়েছেন, থামাতে চেয়েছেন। কিন্তু মা/দকের নেশা মানুষটাকে ধীরে ধীরে হিং/স্র করে তুলছিল।
মেয়েটার বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তাই চাইলেও যৌতুকের টাকা দিতে পারেনি পরিবার। আর সেই অপরাধেই দিনের পর দিন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাকে।
শুধু স্ত্রীই নয়, ছোট ছোট সন্তানগুলোকেও অবহেলা করতো ফোরকান। ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না, আদর করতো না। অথচ এই শিশুগুলো হয়তো এখনো বাবার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতো।
ধীরে ধীরে সেই ঘরটা ভালোবাসার জায়গা থেকে ভয় আর আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়।
গতকাল রাতে ফোরকান তার শালাকে ফোন করে বলে, গার্মেন্টসে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে। সেই বিশ্বাসে রাতেই শালা বাসায় আসে। কেউ বুঝতেও পারেনি, ওই রাতটাই তাদের জীবনের শেষ রাত হতে যাচ্ছে।
গভীর রাতে একে একে নিভে যায় পাঁচটি প্রাণ।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে নিজের স্ত্রীকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে ফেলে ফোরকান। দুই হাত শক্ত করে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়, মুখ কাপড় আর স্কচটেপ দিয়ে চেপে ধরা হয় যাতে কোনো চিৎকার বাইরে না যায়। তারপর তাকে নির্মমভাবে হ/ত্যা করা হয়।
শালাকেও ঘুমন্ত অবস্থায় হ/ত্যা করা হয় বিছানাতেই।
আর তিনটি নিষ্পাপ শিশু...। ১৪ বছর, ১০ বছর আর মাত্র ২ বছরের ছোট্ট তিনটি মেয়ে। যাদের পৃথিবী ছিল খুব ছোট— বাবা, মা আর একটি ঘর।
সেই শিশুদেরও রেহাই মেলেনি। মেঝেতে পড়ে ছিল তাদের ছোট ছোট নিথর দেহ। গলার চারপাশে জমাট বাঁধা র/ক্ত। মনে হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে হয়তো বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল তারা। হয়তো “আব্বু” বলে ডাকতেও চেয়েছিল। কিন্তু সেই ডাক আর কেউ শোনেনি।
ঘরের ভেতরে পড়ে ছিল মা/দকের আলামত। ধারণা করা হচ্ছে, হ/ত্যাকাণ্ডের আগে প্রচুর মা/দক নিয়েছিল ফোরকান। এতটাই নে/শাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল যে নিজের স্ত্রী-সন্তানদের হ/ত্যা করতেও তার হাত কাঁপেনি।
সবকিছু শেষ করে ভোরের দিকে সে নিজের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে ফোন করে বলে—
“টাকা দিতে পারে না, তাই সব কয়টারে শেষ কইরা দিছি।”
কিছুক্ষণ পর ছুটে আসেন তার বাবা-মা। এসে দেখেন, পুরো ঘর নিথর। পড়ে আছে পাঁচটি লা/শ। আর ফোরকান তখন পালিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে ছুটে আসেন নিহত নারীর বাবা-মাও। মেয়ের র/ক্তাক্ত দেহ দেখে বারবার চিৎকার করে কাঁদছিলেন তারা—
“কোন জালেমের কাছে মেয়েরে বিয়া দিছিলাম! আমার মেয়ে, নাতি-নাতনিগুলারে সবাইরে শেষ কইরা দিল!”
এই ঘটনা শুধু একটি হ/ত্যাকাণ্ড নয়। এটি একটি পরিবারের ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ার গল্প। মা/দক, যৌতুকের লো/ভ আর পারিবারিক স/হিংসতা কীভাবে একজন মানুষকে প/শুর চেয়েও ভ/য়ংকর করে তুলতে পারে, তার ভ/য়াবহ উদাহরণ।
আমরা জীবনে টাকা, বাড়ি, গাড়ি, চাকরি— এসবকে বড় অর্জন মনে করি। অথচ জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হলো একজন ভালো মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া। কারণ ভুল একজন মানুষ শুধু একজন মানুষের জীবনই নষ্ট করে না, ধ্বং/স করে দেয় পুরো একটি পরিবার, কেড়ে নেয় অনেকগুলো স্বপ্ন, অনেকগুলো শ্বাস, অনেকগুলো জীবন।
আজহার মাহমুদ
লেখক ও সাংবাদিক
আপনার লেখা / ছবি / মতামত / অভিযোগ পাঠান ~ ✉ towfiqsultan.help@gmail.com ,
editorial.tds@outlook.com , editorial.tdse@gmail.com
দৈনিক অনুসন্ধান শেরে বাংলা নগর, ঢাকা, বাংলাদেশ। সংবাদ দৈনিক অনুসন্ধান - ওয়েল্ফশন নিউজ আপডেট - Welftion Welfare Educational Leaders Friendly Trusted Investigation Organization Network.
সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...
নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন- editorial.tdse@gmail.com
লেখার সাথে আপনার নাম ঠিকানা, যোগাযোগ নাম্বার যুক্ত করে দিয়েন-
সম্ভব হলে নিজের ছবি + লেখার সাথে মানানসই ছবি।
ইংরেজি লেখা পাঠাতে ও এই ই-মেইল টি ব্যাবহার করতে পারেন।
✉️ই-মেইল: editorial.tdse@gmail.com
- ধন্যবাদ
📧
towfiqsultan.help@gmail.com
📰 নিউজ
🔹 নতুন পোস্ট: "ওয়ার্ল্ড অফ নলেজ – জ্ঞানের জগৎ" প্রি-অর্ডার চলছে । | ✍ লেখক: তৌফিক সুলতান । | 📚 রকমারি ও বিডি বুকসে পাওয়া যাচ্ছে । • আরও খবর দেখুন ব্লগে...