কাপাসিয়ায় ঘটনাবহুল বুধবার: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাইবা, শিক্ষাঙ্গন ঘিরে একাধিক মানববন্ধন ও তদন্তে সরগরম উপজেলা
আজ দুপুর ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার — একদিকে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে পৃথক মানববন্ধন এবং তদন্ত কার্যক্রম — দিনজুড়ে কাপাসিয়ায় ছিল ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।
📋 সরকারি নিয়োগে প্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি
বুধবার সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী ভাইভায় অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, স্মার্টফোন ও অ্যাপস পরিচালনার অভিজ্ঞতা, সাধারণ জ্ঞান, মাঠপর্যায়ে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা, দায়িত্ববোধ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
🏫 ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার পক্ষে মানববন্ধন
উপজেলা সদরের ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী এতে অংশগ্রহণ করেন।
কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যকে ম্লান করার উদ্দেশ্যে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
🔍 সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত
সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শারীরিক শাস্তি প্রদান এবং অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে আনা হয়েছে এবং তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
✊ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সমর্থনে শিক্ষকদের মানববন্ধন
উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৃথক মানববন্ধন করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
কাপাসিয়ায় ব্যস্ত দিন: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাইবা, শিক্ষাঙ্গন ঘিরে মানববন্ধন ও তদন্তে সরগরম উপজেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কাপাসিয়া (গাজীপুর):
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মানববন্ধন, শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত এবং শিক্ষা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে পাল্টা প্রতিবাদ কর্মসূচি—সব মিলিয়ে রোববার দিনভর ছিল ঘটনাবহুল ও আলোচনামুখর পরিবেশ।
দিনের শুরুতেই উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী এতে অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহের দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সাধারণ জ্ঞান, দায়িত্ববোধ এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার উপযোগিতা যাচাই করা হয়। নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই ছিল প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি।
এদিকে উপজেলা সদরের ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুল-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম এবং প্রতিষ্ঠাতার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শাহিনা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় তিনি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক আচরণ দেখেননি। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সবুজও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে উপজেলার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, শারীরিক শাস্তি এবং বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তদন্ত শুরু করেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুন নেছার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এগুলো তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পৃথক মানববন্ধন করেন।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম একজন সৎ, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও শিক্ষকবান্ধব কর্মকর্তা। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁরা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার আহ্বান জানান তারা।
সরকারি নিয়োগের ভাইভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি, শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত এবং শিক্ষা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে পাল্টা মানববন্ধন—সব মিলিয়ে রোববার কাপাসিয়া উপজেলায় দিনটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী, ঘটনাবহুল ও ব্যাপক আলোচিত।
উল্লেখ্য, উল্লিখিত বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।














0 coment rios: