📰 বিশেষ প্রতিবেদন
কাপাসিয়া, গাজীপুর | ১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার
প্রথমবার নিজস্ব ইআইআইএন কোডে পরীক্ষার মাইলফলক স্পর্শ করলো ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল
বর্ষবরণ ও এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
ছবি: অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ
স্টাফ রিপোর্টার, কাপাসিয়া: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুলে এক আনন্দঘন ও আবেগঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬ ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান একযোগে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। একদিকে পহেলা বৈশাখের উৎসবমুখর পরিবেশ, অন্যদিকে বিদায়ের বেদনামাখা মুহূর্ত—দুটি ভিন্ন আবহে পুরো ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আবেগময়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাঙালিয়ানার চিত্র তুলে ধরে। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করা হয়।
এরপর শুরু হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৬ ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষকরা। তারা বলেন, "জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় শুধু ভালো ফলাফল নয়, সৎ চরিত্র ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় অর্জন।"
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমানে বি জে এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী-র প্রভাষক তৌফিক সুলতান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিশেষ স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, "এই শিক্ষার্থীরা যখন ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে ছিল, তখন আমি তাদের জীববিজ্ঞান পড়াতাম। তারা অত্যন্ত মেধাবী, যদিও কেউ কেউ কিছুটা অমনোযোগী ছিল। তবুও আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।" শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা ও স্নেহের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তাদের ক্লাস নেওয়ার স্মৃতি আজও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আবেগঘন মানপত্র পাঠ করা হয়। মানপত্রে স্কুলজীবনের স্মৃতি, শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, টিনের চালের নিচে আধাপাকা ভবনে কাটানো দিনগুলো এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানের স্মৃতি স্মরণ করে অনেক শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। বিদায়ের এ মুহূর্তটি উপস্থিত সবার জন্য হয়ে ওঠে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ বছরই প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়ের নিজস্ব ইআইআইএন কোড ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর আগে শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিলেও এবার নিজস্ব পরিচয়ে পরীক্ষায় বসার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলো।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য, মেধার বিকাশ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত সবাই সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন।














0 coment rios: