দ্বিতীয় সংসার অবহেলার উপাখ্যান
কাছের মানুষ কাচসম হলে—ভাঙন ঘটে নিঃশব্দ ছলে,
স্নেহের বাঁধন ছিন্ন হয়ে ঝরে অশ্রু অন্তর জ্বলে।
বিধ্বস্ত নীড়, বিভক্ত প্রাণ—দ্বিতীয় সংসারের ছায়া,
প্রথম রক্ত অবহেলায়, বিষে ভিজে পিতার মায়া।
নষ্ট মন্ত্রে ভ্রষ্ট বোধে, বিবেক দগ্ধ ক্রোধ-অনলে,
সৎ-মায়ের সেই মধুর মুখে বিষের স্রোত গোপন তলে।
মিষ্ট বাক্য মায়ার ফাঁদে, অধিকার সব গ্রাস করে,
রক্তের দাবী নির্বাসিত—অন্যায় হাসে ঘরের দ্বারে।
দায়িত্বহীন পিতৃপ্রাণে নিষ্ঠুরতার কুয়াশা নামে,
নিজের সন্তান পর হয়ে যায়, অন্যের সুখ আপন থামে।
সম্পত্তির সেই স্বর্ণ-মায়া অন্ধ করে বিচার-বোধ,
অধিকারহারা সন্তানেরা পায় না ন্যায়ের সামান্য রোদ।
দাদা, কাকা, ফুফু মিলি আঁকে ষড়যন্ত্রের গাঢ় রেখা,
রক্তের টান ভূলুণ্ঠিত হয় স্বার্থেরই অন্ধ দেখা।
চাচার ছলে চক্রান্ত বোনা, বঞ্চনারই জাল বিছায়,
নির্দোষ প্রাণ পথ হারিয়ে নীরব ক্ষত বুকেই চায়।
সমাজ তখন নির্বিকার—নীরবতার আবরণে ঢাকা,
অন্যায়ের এই নগ্ন নৃত্য দেখেও যেন থাকে ফাঁকা।
নীতির বুলি মুখে উচ্চারিত—কথার ফুলঝুরি ঝরে,
অন্তরে যে ভণ্ডামির আগুন, সত্য তাকে প্রকাশ করে।
যে পিতা দেয় না সন্তানের ন্যায্য অধিকারের অংশ,
সে-ই আবার নীতির বাণী শুনায় গড়ে মিথ্যা সংস্কার রংশ।
দ্বিতীয় নীড়ের সুখে মগ্ন, প্রথম রক্ত পড়ে ধূলে,
এ কেমন পিতৃত্বের ভাষ্য—বিবেক কেন নীরব থাকে ভুলে?
যাদের ঘর ভেঙে গেছে, যাদের আপন ভেসে যায়,
তাদের ব্যথা কেউ কি বোঝে? কেউ কি পাশে এসে দাঁড়ায়?
মুখের হাসি মিথ্যে মায়া—দিন শেষে শূন্য সবই,
আপন বলতে কেউ না থাকে, হৃদয় শুধু কাঁদে নীরবই।
হে সমাজ! জাগো এবার, সত্যকে আর ঢাকো না,
অধিকারহীন সন্তানের কান্না অশ্রু ফেলে রাখো না।
ন্যায়ের দাবী উচ্চারণে ভাঙুক যত মিথ্যা দেয়াল—
মানবতার জয় হোক আজ, শেষ হোক এই অন্ধকাল।


0 coment rios: